ইংল্যান্ডের একেবারে দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্ত ল্যান্ডস এন্ড (Land's End)-এ একটি বিখ্যাত দিকনির্দেশক খুঁটি আছে, যাতে লেখা স্কটল্যান্ডের উত্তর প্রান্তের জন ও'গ্রোটস (John O'Groats) কত দূরে। প্রতি বছর মানুষ এখান থেকে রওনা হয়ে হেঁটে বা সাইকেলে পুরো পথ উত্তরে পাড়ি দেন, প্রায়ই দাতব্য কাজের জন্য অর্থ তুলতে। গ্রেট ব্রিটেন দ্বীপে এর চেয়ে লম্বা যাত্রা আর হয় না।
পথে আপনি বড় বড় শহর আর নিরিবিলি গ্রামাঞ্চল পেরোবেন, নানা রকম উচ্চারণ ও ভাষা শুনবেন, আর দেখবেন গির্জা, মসজিদ ও হিন্দু মন্দির। এই অধ্যায়ে হ্যান্ডবুকের অধ্যায় 4-এর দুটি অংশ আছে, আজকের যুক্তরাজ্য (The UK today) ও ধর্ম (Religion): যুক্তরাজ্যের শহরগুলো, এখানে কত মানুষ থাকেন, তাঁরা কোন ভাষায় কথা বলেন আর কী বিশ্বাস করেন।
চারটি জাতি, চারটি রাজধানী
যুক্তরাজ্যের অবস্থান উত্তর-পশ্চিম ইউরোপে। মূল ভূখণ্ডে সবচেয়ে দূরের দুটি জায়গা হলো স্কটল্যান্ডের একেবারে উত্তরে জন ও'গ্রোটস (John O'Groats) আর ইংল্যান্ডের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে ল্যান্ডস এন্ড (Land's End)। এদের মধ্যে দূরত্ব মোটামুটি 870 মাইল, অর্থাৎ প্রায় 1,400 কিলোমিটার।
খুঁটিয়ে দেখলে কোনো সংখ্যাই ঠিক যেমন মনে হয় তেমন নয়। 870 মাইল হলো সড়কপথের দূরত্ব; সরলরেখায় জায়গা দুটির দূরত্ব মাত্র প্রায় 600 মাইল (প্রায় 970 কিমি)। আর জন ও'গ্রোটস মূল ভূখণ্ডের সবচেয়ে উত্তরের বিন্দুও নয়। সেটি হলো প্রায় 18 কিমি পশ্চিমে ডানেট হেড (Dunnet Head), কিন্তু জন ও'গ্রোটস অনেক বেশি পরিচিত, তাই মানুষ এখনও একেই শেষ সীমা ধরে।
বেশিরভাগ মানুষ শহর বা নগরে থাকেন, কিন্তু ব্রিটেনের বিশাল অংশ এখনও গ্রামাঞ্চল। ছুটিতে বা সপ্তাহান্তে অনেকেই শহর ছেড়ে হাঁটতে, ক্যাম্পিং করতে বা মাছ ধরতে বেরিয়ে পড়েন।
তারা চিহ্ন দিয়ে চারটি রাজধানী আর বিন্দু দিয়ে অন্যান্য প্রধান শহর দেখানো হয়েছে। ডটেড রেখাটি ল্যান্ডস এন্ড থেকে জন ও'গ্রোটস পর্যন্ত সড়কপথ, প্রায় 870 মাইল।
যুক্তরাজ্য চারটি দেশ নিয়ে গঠিত, আর প্রত্যেকটির নিজস্ব রাজধানী আছে:
লন্ডন (London): ইংল্যান্ডের রাজধানী, এবং পুরো যুক্তরাজ্যের
এডিনবরা (Edinburgh): স্কটল্যান্ডের রাজধানী
কার্ডিফ (Cardiff): ওয়েলসের রাজধানী
বেলফাস্ট (Belfast): উত্তর আয়ারল্যান্ডের (Northern Ireland) রাজধানী
প্রতিটি দেশের আরও কিছু প্রধান শহর আছে। পরীক্ষায় প্রশ্ন আসতে পারে কোন শহর স্কটল্যান্ডে বা কোনটি ওয়েলসে, তাই প্রতিটি শহর কোথায় তা জেনে রাখা ভালো। এখানে ইংরেজি বর্ণানুক্রমে সেগুলো দেওয়া হলো:
Which TWO of the following statements are correct?
প্রশ্নটি বাংলায়নিচের কোন দুটি বিবৃতি সঠিক? A: কার্ডিফ ওয়েলসের রাজধানী। B: গ্লাসগো স্কটল্যান্ডের রাজধানী। C: সোয়ানসি ওয়েলসের রাজধানী। D: বেলফাস্ট উত্তর আয়ারল্যান্ডের রাজধানী।
স্কটল্যান্ডের রাজধানী এডিনবরা, গ্লাসগো নয়, যদিও গ্লাসগোতে বেশি মানুষ থাকেন। ওয়েলসের রাজধানী কার্ডিফ; সোয়ানসি ওয়েলসের আরেকটি শহর মাত্র। সবচেয়ে বড় শহরটিই সবসময় রাজধানী হয় না, আর পরীক্ষায় এটিকে ফাঁদ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
কুইজ
Is the statement below TRUE or FALSE?
The journey from John O'Groats in the far north of Scotland to Land's End in the far south-west of England is roughly 870 miles.
প্রশ্নটি বাংলায়নিচের বিবৃতিটি সত্য (TRUE) নাকি মিথ্যা (FALSE)? বিবৃতি: স্কটল্যান্ডের একেবারে উত্তরের জন ও'গ্রোটস থেকে ইংল্যান্ডের একেবারে দক্ষিণ-পশ্চিমের ল্যান্ডস এন্ড পর্যন্ত যাত্রাপথ মোটামুটি 870 মাইল।
সত্য। দূরত্বটি প্রায় 870 মাইল, অর্থাৎ মোটামুটি 1,400 কিলোমিটার। মনে রাখবেন, এটি সড়কপথের দূরত্ব, সরলরেখার নয়।
কুইজ
In which part of Europe is the United Kingdom located?
প্রশ্নটি বাংলায়যুক্তরাজ্য ইউরোপের কোন অংশে অবস্থিত? A: দক্ষিণ-পশ্চিম ইউরোপ B: উত্তর-পূর্ব ইউরোপ C: উত্তর-পশ্চিম ইউরোপ D: মধ্য ইউরোপ
যুক্তরাজ্য উত্তর-পশ্চিম ইউরোপে। স্পেন ও পর্তুগাল ইউরোপের দক্ষিণ-পশ্চিমে, আর ফিনল্যান্ড ও বাল্টিক দেশগুলো উত্তর-পূর্বে, তাই A ও B ভুল।
পাউন্ড ও পেন্স: আপনার পকেটের টাকা
যুক্তরাজ্যের মুদ্রা পাউন্ড স্টার্লিং (pound sterling), যার প্রতীক £। এক পাউন্ড সমান 100 পেন্স (সংক্ষেপে লেখা হয় "p")।
দৈনন্দিন ব্যবহারের 8টি কয়েন ও 4টি নোট (মোটামুটি আঁকা ছবি: আকার ও রং আনুমানিক)। 20p ও 50p কয়েনের সাতটি বাহু, তাই সহজেই চেনা যায়।
স্কটল্যান্ড ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের ব্যাংকগুলো নিজস্ব ব্যাংকনোট ছাপে, যার নকশা ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের নোট থেকে আলাদা। এই নোটগুলো পুরো যুক্তরাজ্যে বৈধ, কিন্তু কোনো দোকান বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চাইলে এগুলো নিতে অস্বীকার করতে পারে। তাই লন্ডনের কোনো দোকানি স্কটিশ নোট দেখে একটু খুঁটিয়ে দেখলে অবাক হবেন না।
কুইজ
Which of the following statements is correct?
প্রশ্নটি বাংলায়নিচের কোন বিবৃতিটি সঠিক? A: স্কটল্যান্ডে ছাপা ব্যাংকনোট শুধু স্কটল্যান্ডেই খরচ করা যায়। B: স্কটল্যান্ড ও উত্তর আয়ারল্যান্ডে ছাপা ব্যাংকনোট পুরো যুক্তরাজ্যে বৈধ, কিন্তু কোনো দোকান এগুলো নিতে অস্বীকার করতে পারে।
স্কটিশ ও উত্তর আইরিশ নোট যুক্তরাজ্যের যেকোনো জায়গায় ব্যবহার করা যায়; দোকান শুধু না বলার অধিকার রাখে। A বিকল্পটি "দোকান নিতে অস্বীকার করতে পারে" আর "এগুলো শুধু স্কটল্যান্ডে চলে", এই দুটিকে গুলিয়ে ফেলেছে।
ইংরেজির বাইরে: ওয়েলশ ও গেলিক
যুক্তরাজ্যের এক অঞ্চল থেকে আরেক অঞ্চলে মানুষের কথা বলার ধরন অনেক বদলে যায়। ইংরেজিরই অনেক উচ্চারণভঙ্গি ও আঞ্চলিক রূপ আছে: লিভারপুলের একজন আর গ্লাসগোর একজনের কথা শুনলে মনে হতে পারে তাঁরা প্রায় আলাদা ভাষায় কথা বলছেন।
যুক্তরাজ্যের কিছু অংশের আবার নিজস্ব ভাষাও আছে:
ওয়েলস: অনেক মানুষ ওয়েলশ (Welsh) ভাষায় কথা বলেন। এটি ইংরেজির কোনো রূপ নয়, বরং একটি সম্পূর্ণ আলাদা ভাষা। শিশুরা স্কুলে এটি শিখতে পারে, আর বিশ্ববিদ্যালয়েও এটি পড়ানো হয়।
স্কটল্যান্ড: হাইল্যান্ডস অ্যান্ড আইল্যান্ডস (Highlands and Islands)-এর কিছু অংশে কিছু মানুষ গেলিক (Gaelic) ভাষায় কথা বলেন, যা ইংরেজি থেকে আলাদা একটি ভাষা।
উত্তর আয়ারল্যান্ড: কিছু মানুষ আইরিশ গেলিক (Irish Gaelic) ভাষায় কথা বলেন।
ওয়েলসের অ্যাঙ্গলসি (Anglesey) দ্বীপের একটি ছোট গ্রামের স্টেশনের নামফলক। গ্রামটির ওয়েলশ নামে 58টি অক্ষর। পুরোটা লিখলে নামটি দাঁড়ায় Llanfairpwllgwyngyllgogerychwyrndrobwllllantysiliogogogoch: একে প্রায়ই ইউরোপের সবচেয়ে লম্বা স্থাননাম বলা হয়, আর স্থানীয়রা শুধু বলেন Llanfair PG। ওয়েলসজুড়ে রাস্তার নির্দেশফলক ওয়েলশ ও ইংরেজি দুই ভাষাতেই লেখা থাকে।
ছবি: Meirion / Geograph, CC BY-SA 2.0, Wikimedia Commons-এর মাধ্যমে
কুইজ
In which part of the UK do some people speak Irish Gaelic?
প্রশ্নটি বাংলায়যুক্তরাজ্যের কোন অংশে কিছু মানুষ আইরিশ গেলিক ভাষায় কথা বলেন? A: ওয়েলস B: স্কটল্যান্ডের হাইল্যান্ডস অ্যান্ড আইল্যান্ডস C: উত্তর আয়ারল্যান্ড D: কর্নওয়াল
আইরিশ গেলিক বলা হয় উত্তর আয়ারল্যান্ডে। স্কটল্যান্ডের হাইল্যান্ডস অ্যান্ড আইল্যান্ডসে মানুষ (স্কটিশ) গেলিক বলেন, আর ওয়েলসে বলেন ওয়েলশ। নামগুলো খুব কাছাকাছি, তাই "Irish" শব্দটির দিকে খেয়াল রাখুন।
জনসংখ্যা: 40 লাখ থেকে 6 কোটি 60 লাখ
1600 সালে, যখন প্রথম এলিজাবেথ (Elizabeth I) সিংহাসনে, জনসংখ্যা ছিল মাত্র 40 লাখ (4 million)-এর কিছু বেশি। 2017 সালের মধ্যে তা 6 কোটি 60 লাখ (66 million) ছাড়িয়ে যায়। এই চারশো বছরে জনসংখ্যা কীভাবে বদলেছে, দেখুন:
ওপরের চার্টে 1600 থেকে 2017 পর্যন্ত জনসংখ্যা দেখানো হয়েছে। খেয়াল করুন, বছরগুলোর ব্যবধান সমান নয়: 1851 থেকে 1901, এই 50 বছরে জনসংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। নিচের চার্টে যুক্তরাজ্যের জনসংখ্যায় প্রতিটি জাতির ভাগ দেখানো হয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জনসংখ্যা আগের চেয়ে দ্রুত বেড়েছে। এর দুটি কারণ: মানুষের যুক্তরাজ্যে চলে আসা এবং মানুষের দীর্ঘ জীবন।
চারটি জাতির মধ্যে মানুষ খুবই অসমভাবে ছড়িয়ে আছেন। প্রায় 84% থাকেন ইংল্যান্ডে, আর এই ভাগ সময়ের সঙ্গে প্রায় একই রয়ে গেছে। স্কটল্যান্ডে 8%-এর কিছু বেশি, ওয়েলসে প্রায় 5% আর উত্তর আয়ারল্যান্ডে 3%-এর কম।
দীর্ঘ জীবন
ব্রিটেনের মানুষ এখন ইতিহাসের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি দিন বাঁচেন, কারণ জীবনযাত্রার মান ও স্বাস্থ্যসেবা দুটোই উন্নত হয়েছে। 85 বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। এর একটা খরচও আছে: পেনশন ও স্বাস্থ্যসেবার জন্য আরও অর্থ লাগে।
কুইজ
Roughly what share of the UK's population lives in England?
প্রশ্নটি বাংলায়যুক্তরাজ্যের জনসংখ্যার মোটামুটি কত ভাগ ইংল্যান্ডে থাকেন?
প্রায় 84% থাকেন ইংল্যান্ডে, তাই বাকি তিনটি জাতি মিলে মাত্র প্রায় 16%: স্কটল্যান্ড 8%-এর কিছু বেশি, ওয়েলস প্রায় 5% আর উত্তর আয়ারল্যান্ড 3%-এর কম।
কুইজ
Is the statement below TRUE or FALSE?
Because life expectancy in the UK is falling, the number of people aged 85 and over is lower than ever before.
প্রশ্নটি বাংলায়নিচের বিবৃতিটি সত্য (TRUE) নাকি মিথ্যা (FALSE)? বিবৃতি: যুক্তরাজ্যে গড় আয়ু কমছে বলে 85 ও তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে কম।
মিথ্যা: আসলে ব্যাপারটা উল্টো। যুক্তরাজ্যের মানুষ এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি দিন বাঁচেন, আর 85 ও তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। এতে পেনশন ও স্বাস্থ্যসেবার খরচ বাড়ে।
জাতিগত বৈচিত্র্য: এক শতাব্দী আগের চেয়ে অনেক বেশি মিশ্র
একশো বছর আগের তুলনায় আজকের যুক্তরাজ্য অনেক বেশি বৈচিত্র্যময়, মানুষের জাতিগত পটভূমি আর ধর্ম, দুই দিক থেকেই। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরের অভিবাসনের কারণে প্রায় 10% মানুষের অন্তত একজন বাবা-মা বা দাদা-দাদি/নানা-নানির জন্ম বিদেশে। যুক্তরাজ্য একটি বহুজাতিক, বহুবর্ণের সমাজ, যার সংস্কৃতি সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময়।
যুক্তরাজ্যের মানুষের পারিবারিক শিকড় সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে আছে, আর এই মিশ্রণ দ্রুত বদলাচ্ছে, বিশেষ করে লন্ডনের মতো বড় শহরে। তাই সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া কঠিন। জরিপে সবচেয়ে বেশি মানুষ যে গোষ্ঠী বেছে নেন, তা হলো শ্বেতাঙ্গ (white)। এর মধ্যে আছেন সেসব মানুষ, যাঁদের পরিবার এসেছে ইউরোপ, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা বা নিউজিল্যান্ড থেকে। অন্যান্য বড় গোষ্ঠী হলো এশীয়, কৃষ্ণাঙ্গ ও মিশ্র বংশোদ্ভূত মানুষ।
এই মিশ্রণের অনেকটাই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরের বছরগুলো থেকে শুরু। 1948 সালে এম্পায়ার উইন্ডরাশ (Empire Windrush) জাহাজ ক্যারিবিয়ান থেকে অভিবাসীদের প্রথম বড় দলটিকে নিয়ে আসে, আর পরে ভারত, পাকিস্তান ও অন্যান্য দেশ থেকে আরও অনেকে আসেন (দেখুন 1945-এর পরের ব্রিটেন)। যাঁদের বাবা-মা বা দাদা-দাদি/নানা-নানির জন্ম বিদেশে, সেই "প্রায় 10%"-এর পেছনের গল্প এটাই।
কুইজ
Is the statement below TRUE or FALSE?
As a result of immigration after the Second World War, almost one in ten people in the UK has a parent or grandparent who was born abroad.
প্রশ্নটি বাংলায়নিচের বিবৃতিটি সত্য (TRUE) নাকি মিথ্যা (FALSE)? বিবৃতি: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরের অভিবাসনের ফলে যুক্তরাজ্যের প্রায় প্রতি দশজনে একজনের বাবা-মা বা দাদা-দাদি/নানা-নানির জন্ম বিদেশে।
সত্য। "প্রায় 10%" মানে মোটামুটি প্রতি দশজনে একজন।
সমতার সমাজ
যুক্তরাজ্যে কারও লিঙ্গের কারণে, বা তিনি বিবাহিত কি না সে কারণে, তাঁর সঙ্গে অন্যায় আচরণ করা আইনত দণ্ডনীয়। কাজ, সম্পত্তির মালিকানা, বিয়ে ও বিবাহবিচ্ছেদে নারী ও পুরুষের সমান অধিকার। বাবা-মা বিবাহিত হলে সন্তানের ব্যাপারে মা ও বাবা দুজনেরই সমান দায়িত্ব।
আজ কর্মজীবী মানুষের প্রায় অর্ধেকই নারী। গড়ে মেয়েরা স্কুলে ছেলেদের চেয়ে ভালো ফল করে, আর পুরুষের চেয়ে বেশি নারী বিশ্ববিদ্যালয়ে যান।
অতীতের তুলনায় নারীদের কাজের সুযোগ অনেক বেশি। অর্থনীতির সব খাতে তাঁরা কাজ করেন, আর আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি নারী উচ্চ পদে আছেন, এমন ক্ষেত্রেও যেখানে একসময় প্রায় শুধু পুরুষরাই কাজ করতেন। একই সঙ্গে পুরুষরাও এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি ধরনের কাজ করেন। নারীরা ঘরে থাকবেন, এমনটা এখন আর কেউ আশা করে না, আর অনেকে সন্তান হওয়ার পরও কাজ চালিয়ে যান। অনেক পরিবারে দুজনেই কাজ করেন এবং সন্তান দেখাশোনা ও ঘরের কাজ ভাগাভাগি করে নেন।
অল্প সময়ে এটা বিশাল এক পরিবর্তন। একশো বছর আগে ব্রিটেনের নারীরা ভোটও দিতে পারতেন না: 1918 সালে কিছু নারী ভোটাধিকার পান, আর 1928 সালে নারীরা পুরুষের সমান ভোটাধিকার পান (দেখুন দুই বিশ্বযুদ্ধ)। আজ বৈষম্য থেকে মানুষকে রক্ষা করার প্রধান আইন হলো সমতা আইন 2010 (Equality Act 2010), যা নয়টি "বৈশিষ্ট্য" সুরক্ষা দেয়, যার মধ্যে আছে লিঙ্গ, বয়স, জাতি, ধর্ম, এবং বিবাহ বা সিভিল পার্টনারশিপ।
কুইজ
Which of the following statements is correct?
প্রশ্নটি বাংলায়নিচের কোন বিবৃতিটি সঠিক? A: গড়ে যুক্তরাজ্যের মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে ভালো যোগ্যতা নিয়ে স্কুল শেষ করে, আর পুরুষের চেয়ে বেশি নারী বিশ্ববিদ্যালয়ে যান। B: যুক্তরাজ্যে বিবাহিত দম্পতির সন্তানের জন্য আইনত শুধু বাবাই দায়ী।
বিবাহিত বাবা-মা সন্তানের জন্য সমানভাবে দায়ী, তাই B ভুল। A সঠিক: গড়ে মেয়েরা স্কুলে ভালো করে, আর পুরুষের চেয়ে বেশি নারী বিশ্ববিদ্যালয়ে যান।
কুইজ
Is the statement below TRUE or FALSE?
Women make up only about a quarter of the people working in the UK today.
প্রশ্নটি বাংলায়নিচের বিবৃতিটি সত্য (TRUE) নাকি মিথ্যা (FALSE)? বিবৃতি: আজ যুক্তরাজ্যে কর্মরত মানুষের মাত্র প্রায় এক-চতুর্থাংশ নারী।
মিথ্যা। যুক্তরাজ্যের কর্মশক্তির প্রায় অর্ধেক নারী, এক-চতুর্থাংশ নয়। আজ নারীরা অর্থনীতির সব খাতে কাজ করেন।
ধর্ম: ঐতিহাসিকভাবে একটি খ্রিস্টান দেশ
ঐতিহাসিকভাবে যুক্তরাজ্য একটি খ্রিস্টান দেশ। নিচে 2011 সালের আদমশুমারির (Census) ফল দেওয়া হলো; প্রতি দশ বছরে একবার দেশে বসবাসকারী সবাইকে গণনা করা হয়:
পরীক্ষার জন্য যে সংখ্যাগুলো মনে রাখতে হবে: খ্রিস্টান 59% এবং কোনো ধর্ম নেই 25%। অন্য সব ধর্মের হার এর চেয়ে অনেক কম।
যুক্তরাজ্যজুড়ে অন্যান্য ধর্মের উপাসনালয়ও দেখতে পাবেন: মসজিদ, হিন্দু মন্দির, সিনাগগ (ইহুদি), গুরুদুয়ারা (শিখ) ও বৌদ্ধ মন্দির। তবে আইন প্রত্যেককে নিজের ধর্ম বেছে নেওয়ার, অথবা কোনো ধর্ম না মানার অধিকার দেয়। 2011 সালের আদমশুমারিতে এক-চতুর্থাংশ মানুষ (25%) জানান যে তাঁদের কোনো ধর্ম নেই।
উত্তর-পশ্চিম লন্ডনের নিসডেনের (Neasden) হিন্দু মন্দির, মার্বেল ও চুনাপাথরে তৈরি, চালু হয় 1995 সালে।
ছবি: Mark Ahsmann, CC BY-SA 3.0, Wikimedia Commons-এর মাধ্যমে
কুইজ
According to the 2011 Census, roughly what percentage of people in the UK described themselves as Christian?
প্রশ্নটি বাংলায়2011 সালের আদমশুমারি অনুযায়ী যুক্তরাজ্যের মোটামুটি কত শতাংশ মানুষ নিজেদের খ্রিস্টান বলে জানিয়েছিলেন?
59% নিজেদের খ্রিস্টান বলেছিলেন। 25% হলো যাঁরা বলেছিলেন তাঁদের কোনো ধর্ম নেই; পরীক্ষায় প্রায়ই এই দুটি সংখ্যা পাশাপাশি দেওয়া হয়।
চার্চ অব ইংল্যান্ড
ইংল্যান্ডে গির্জা ও রাষ্ট্র সাংবিধানিকভাবে যুক্ত। রাষ্ট্রের সরকারি গির্জা হলো চার্চ অব ইংল্যান্ড (Church of England)। অন্যান্য দেশে এটি অ্যাংলিকান চার্চ (Anglican Church) নামে পরিচিত, আর স্কটল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রে একে বলা হয় এপিস্কোপাল চার্চ (Episcopal Church)। এটি একটি প্রোটেস্ট্যান্ট গির্জা, যার শুরু 1530-এর দশকেরধর্মসংস্কার (Reformation) থেকে, যখন অষ্টম হেনরি (Henry VIII) রোমের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন (দেখুন টিউডর রাজবংশ)।
এই গির্জার প্রধান হলেন রাজা বা রানি (monarch)।
এর আধ্যাত্মিক নেতা হলেন ক্যান্টারবেরির আর্চবিশপ (Archbishop of Canterbury)।
আর্চবিশপ ও অন্যান্য উচ্চপদস্থ যাজক নিয়োগের অধিকার রাজা বা রানির, কিন্তু বাস্তবে সাধারণত প্রধানমন্ত্রী ও গির্জার বাছাই করা একটি কমিটি সিদ্ধান্ত নেন।
স্কটল্যান্ডের জাতীয় গির্জা হলো চার্চ অব স্কটল্যান্ড (Church of Scotland)। এটি একটি প্রেসবিটেরিয়ান (Presbyterian) গির্জা, যা বিশপদের বদলে মিনিস্টার (যাজক) ও এল্ডারদের (প্রবীণ সদস্য) দ্বারা পরিচালিত। এর প্রধান সভার নাম জেনারেল অ্যাসেম্বলি (General Assembly), আর সভাপতিত্ব যিনি করেন তিনি মডারেটর (Moderator)। প্রত্যেক মডারেটর মাত্র এক বছর দায়িত্ব পালন করেন এবং প্রায়ই প্রকাশ্যে গির্জার পক্ষে কথা বলেন।
ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডে কোনো প্রতিষ্ঠিত গির্জা (established Church) নেই (অর্থাৎ রাষ্ট্রের কোনো সরকারি গির্জা নেই)। যুক্তরাজ্যের অন্যান্য প্রোটেস্ট্যান্ট গোষ্ঠীর মধ্যে আছে ব্যাপটিস্ট (Baptists), মেথডিস্ট (Methodists), প্রেসবিটেরিয়ান (Presbyterians) ও কোয়েকার (Quakers)। অন্যান্য খ্রিস্টান সম্প্রদায়ও আছে, যাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় রোমান ক্যাথলিক (Roman Catholic) চার্চ।
ওয়েলস একসময় চার্চ অব ইংল্যান্ডের অংশ ছিল। 1920 সালে ওয়েলসের গির্জাকে রাষ্ট্র থেকে আলাদা করা হয় এবং এটি স্বাধীন চার্চ ইন ওয়েলস (Church in Wales) হয়ে ওঠে, সেজন্যই আজ ওয়েলসে কোনো প্রতিষ্ঠিত গির্জা নেই। স্কটল্যান্ডে প্রেসবিটেরিয়ান গির্জাগুলোতে কোনো বিশপই নেই। তাই এডিনবরার সেন্ট জাইলস (St Giles')-কে ক্যাথিড্রাল বলা হলেও এটি বিশপের আসন ছিল কেবল 17শ শতকের দুটি স্বল্প সময়ে; এর আরেকটি নাম হাই কার্ক অব এডিনবরা (High Kirk of Edinburgh)।
এডিনবরার সেন্ট জাইলস ক্যাথিড্রাল চার্চ অব স্কটল্যান্ডের অধীন। চূড়ায় মুকুটের মতো দেখতে শিখরটি খেয়াল করুন।
ছবি: Enric, CC BY-SA 4.0, Wikimedia Commons-এর মাধ্যমে
কুইজ
Which TWO statements about churches in the UK are correct?
প্রশ্নটি বাংলায়যুক্তরাজ্যের গির্জা সম্পর্কে কোন দুটি বিবৃতি সঠিক? A: চার্চ অব স্কটল্যান্ডের মডারেটর আজীবন পদে থাকেন। B: সিংহাসনে থাকা রাজা বা রানি চার্চ অব ইংল্যান্ডের প্রধান। C: ওয়েলসে রাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত একটি প্রতিষ্ঠিত গির্জা আছে। D: ক্যান্টারবেরির আর্চবিশপ চার্চ অব ইংল্যান্ডের আধ্যাত্মিক নেতা।
মডারেটর দায়িত্ব পালন করেন এক বছর, আজীবন নয়, আর ওয়েলস বা উত্তর আয়ারল্যান্ড কোথাও প্রতিষ্ঠিত গির্জা নেই। রাজা বা রানি চার্চ অব ইংল্যান্ডের প্রধান, আর ক্যান্টারবেরির আর্চবিশপ এর আধ্যাত্মিক নেতা।
কুইজ
Who heads the Church of England?
প্রশ্নটি বাংলায়চার্চ অব ইংল্যান্ডের প্রধান কে? A: ক্যান্টারবেরির আর্চবিশপ B: প্রধানমন্ত্রী C: জেনারেল অ্যাসেম্বলির মডারেটর D: রাজা বা রানি
রাজা বা রানি চার্চ অব ইংল্যান্ডের প্রধান। ক্যান্টারবেরির আর্চবিশপ এর আধ্যাত্মিক নেতা, তাই A একটি সাধারণ ফাঁদ। উচ্চপদস্থ গির্জা নেতা বাছাইয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাধারণত মতামত থাকে, কিন্তু তিনি গির্জার প্রধান নন, আর মডারেটর চার্চ অব স্কটল্যান্ডের জেনারেল অ্যাসেম্বলির সভাপতিত্ব করেন।
চার পৃষ্ঠপোষক সন্ত, চারটি বিশেষ দিন
চারটি জাতির প্রত্যেকের নিজস্ব পৃষ্ঠপোষক সন্ত (patron saint) আছেন, অর্থাৎ এমন একজন সন্ত, যিনি সেই দেশকে রক্ষা করেন বলে মনে করা হয়, আর প্রত্যেক সন্তের নিজস্ব একটি দিন আছে:
1 মার্চ সেন্ট ডেভিডস ডে ওয়েলস
17 মার্চ সেন্ট প্যাট্রিকস ডে উত্তর আয়ারল্যান্ড
23 এপ্রিল সেন্ট জর্জেস ডে ইংল্যান্ড
30 নভেম্বর সেন্ট অ্যান্ড্রুজ ডে স্কটল্যান্ড
1 মার্চ: সেন্ট ডেভিডস ডে (St David's Day), ওয়েলস
17 মার্চ: সেন্ট প্যাট্রিকস ডে (St Patrick's Day), উত্তর আয়ারল্যান্ড
শুধু স্কটল্যান্ড ও উত্তর আয়ারল্যান্ড তাদের সন্তের দিনকে সরকারি ছুটি হিসেবে পালন করে, আর স্কটল্যান্ডেও কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও অফিস খোলা থাকে। পুরো যুক্তরাজ্যে উদযাপন হয়, বিশেষ করে যেখানে স্কটিশ, উত্তর আইরিশ বা আইরিশ শিকড়ের মানুষ বেশি।
ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে এই দিনগুলো এখন আর সরকারি ছুটি নয়, তবে মানুষ এখনও শোভাযাত্রা ও ছোট ছোট উৎসবের মাধ্যমে দিনগুলো উদযাপন করেন।
সন্তদের নিজেদের গল্পগুলোও বেশ রঙিন। কিংবদন্তির ড্রাগন-বধকারী সেন্ট জর্জ নাকি রোমান সেনাবাহিনীর একজন সৈনিক ছিলেন, আর কখনো ইংল্যান্ডে পা-ই রাখেননি। সেন্ট প্যাট্রিক নিজের বর্ণনা অনুযায়ী জন্মেছিলেন ব্রিটেনে, তরুণ বয়সে তাঁকে ধরে দাস হিসেবে আয়ারল্যান্ডে নিয়ে যাওয়া হয়, আর পরে তিনি খ্রিস্টধর্ম প্রচার করতে সেখানে ফিরে যান। সেন্ট ডেভিড ছিলেন 6ষ্ঠ শতকের একজন ওয়েলশ বিশপ, আর তাঁর দিনে অনেকে ওয়েলসের জাতীয় ফুল ড্যাফোডিল পরেন। যিশুর বারোজন শিষ্যের একজন সেন্ট অ্যান্ড্রু-র কাছ থেকেই স্কটল্যান্ডের পতাকা পেয়েছে তার সাদা কোনাকুনি ক্রস, কারণ কাহিনি অনুযায়ী তাঁকে X-আকৃতির ক্রুশে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল; 2007 সাল থেকে তাঁর দিনটি স্কটল্যান্ডে ব্যাংক হলিডে। সেন্ট জর্জ, সেন্ট অ্যান্ড্রু ও সেন্ট প্যাট্রিকের ক্রস একসঙ্গে মেলালে পাওয়া যায় ইউনিয়ন পতাকা (Union Flag) (দেখুন এক বিশ্বশক্তি)।
কুইজ
On which date is St Andrew's Day, the day of Scotland's patron saint?
প্রশ্নটি বাংলায়স্কটল্যান্ডের পৃষ্ঠপোষক সন্তের দিন, সেন্ট অ্যান্ড্রুজ ডে, কোন তারিখে? A: 1 মার্চ B: 23 এপ্রিল C: 17 মার্চ D: 30 নভেম্বর
1 মার্চ সেন্ট ডেভিড (ওয়েলস), 17 মার্চ সেন্ট প্যাট্রিক (উত্তর আয়ারল্যান্ড), 23 এপ্রিল সেন্ট জর্জ (ইংল্যান্ড) আর 30 নভেম্বর সেন্ট অ্যান্ড্রু (স্কটল্যান্ড)। মনে রাখার কৌশল: প্রথম তিনটিই বসন্তকালে; শুধু স্কটল্যান্ডেরটি বছরের শেষে।