1760-এর দশক–1783 সাল
আমেরিকা হাতছাড়া: আমেরিকার স্বাধীনতা
18শ শতকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য যখন সারা বিশ্বে বাড়ছিল, তখনই উত্তর আমেরিকায় তার প্রথম বড় ধাক্কাটা আসে। 1760-এর দশকের মধ্যে উত্তর আমেরিকায় ব্রিটেনের অনেক উপনিবেশ ছিল। সেগুলো ছিল সমৃদ্ধ, আর মোটামুটি নিজেদের কাজ নিজেরাই চালাত। অনেক উপনিবেশবাসীর পরিবার প্রথমে আটলান্টিক পাড়ি দিয়েছিল ধর্মীয় স্বাধীনতার খোঁজে। তারা ছিল সুশিক্ষিত, আর স্বাধীনতাকে খুব গুরুত্ব দিত।
ব্রিটিশ সরকার যখন উপনিবেশগুলোর ওপর কর বসাতে চাইল, উপনিবেশবাসীরা তা দেখল তাদের স্বাধীনতার ওপর আঘাত হিসেবে। তাদের স্লোগান ছিল "প্রতিনিধিত্ব ছাড়া কোনো কর নয়" (no taxation without representation): ব্রিটিশ সংসদে আমাদের হয়ে কথা বলার কেউ নেই, তাহলে আমরা কেন তার কর দেব? সংসদ কিছু কর তুলে নিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে, কিন্তু সম্পর্ক ক্রমেই খারাপ হতে থাকে।
চূড়ান্ত বিচ্ছেদ ঘটে চা নিয়ে। উপনিবেশগুলোতে চায়ের ওপর কর ব্রিটেন বহাল রেখেছিল। 1773 সালের ডিসেম্বরে বস্টনে একদল প্রতিবাদকারী আদিবাসী আমেরিকানদের ছদ্মবেশে বন্দরে থাকা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির (East India Company) জাহাজে উঠে চায়ের 342টি পেটির সবকটি সাগরে ফেলে দেয়। ঘটনাটি বিখ্যাত হয় বস্টন টি পার্টি (Boston Tea Party) নামে। জবাবে ব্রিটিশ সরকার বস্টন বন্দর বন্ধ করে দেয় এবং উপনিবেশগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করে, যা আরও বেশি উপনিবেশবাসীকে বিদ্রোহীদের পক্ষে ঠেলে দেয়। 1775 সালে ম্যাসাচুসেটসে (Massachusetts) ব্রিটিশ সৈন্য আর উপনিবেশের মিলিশিয়াদের মধ্যে লড়াই বেধে যায়, শুরু হয় আমেরিকার স্বাধীনতাযুদ্ধ।
1776 সালের 4 জুলাই উত্তর আমেরিকার 13টি উপনিবেশ স্বাধীনতা ঘোষণা করে; তারা বলে, মানুষের নিজেদের সরকার গঠনের অধিকার আছে। 4 জুলাই আজও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় দিবস। শেষ পর্যন্ত উপনিবেশবাসীরা ব্রিটিশ সেনাবাহিনীকে পরাজিত করে, এবং 1783 সালে ব্রিটেন তাদের স্বাধীনতা স্বীকার করে নেয়।