কোনো ব্রিটিশ বন্ধুকে জিজ্ঞেস করুন তাঁদের সংবিধানের অনুচ্ছেদ 1-এ কী লেখা আছে, সম্ভবত তিনি বলতে পারবেন না। স্কুলে মনোযোগ দেননি বলে নয়। আসলে ব্রিটেনে "সংবিধান" নামে একক কোনো আইনি দলিলই নেই।
তাহলে লিখিত সংবিধান ছাড়া একটা দেশ চলে কীভাবে? এই অধ্যায়ে প্রথমে দেখা হবে, ব্রিটেন কীভাবে ধীরে ধীরে এমন এক গণতন্ত্র হয়ে উঠল যেখানে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক ভোট দিতে পারেন। তারপর দেখা হবে সেই প্রতিষ্ঠানগুলো, যেগুলো দেশ চালায়: রাজা বা রানি, সংসদ, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভা, বিরোধী দল, সিভিল সার্ভিস আর স্থানীয় সরকার। সংসদের দুই কক্ষ, স্পিকার ও নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত আছে পরের অধ্যায়ে।
পুরো অধ্যায়ের মূল কথা এক বাক্যে: যুক্তরাজ্য একটি সংসদীয় গণতন্ত্র (parliamentary democracy), আর এর রাষ্ট্রপ্রধান হলেন রাজা বা রানি।
ভোটাধিকার এসেছে অল্প অল্প করে
গণতন্ত্রে (democracy) দেশ কীভাবে চলবে, তাতে সব প্রাপ্তবয়স্কের মত দেওয়ার অধিকার থাকে। তাঁরা নিজেরাই সিদ্ধান্তে ভোট দিতে পারেন, অথবা এমন প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারেন যাঁরা তাঁদের হয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।
তবে উনিশ শতকের শুরুতে ব্রিটেন আজকের অর্থে গণতন্ত্র ছিল না। নির্বাচন হতো, সংসদ সদস্য (MP) নির্বাচিত হতেন, কিন্তু ভোট দিতে পারতেন খুব অল্প কিছু মানুষ: 21 বছরের বেশি বয়সী সেই পুরুষেরা, যাঁদের নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পত্তি ছিল।
শতাব্দী যত এগোল, ভোটের অধিকার (franchise) তত বেশি মানুষ পেলেন, আর রাজনৈতিক দলগুলো সাধারণ নারী-পুরুষকে সদস্য হিসেবে নিতে শুরু করল।
চার্টিস্টদের ছয় দাবি
1830 ও 1840-এর দশকে চার্টিস্ট (Chartists) নামে পরিচিত একটি দল সংস্কারের জন্য আন্দোলন করে। তারা ছয়টি পরিবর্তন চেয়েছিল:
1প্রত্যেক পুরুষের ভোটাধিকার
2প্রতি বছর নির্বাচন
3নির্বাচনী ব্যবস্থায় সব অঞ্চলের সমান মর্যাদা
4গোপন ব্যালট
5যেকোনো পুরুষ MP পদে দাঁড়াতে পারবেন
6MP-দের বেতন
সে সময় বেশির ভাগ মানুষ ভেবেছিলেন আন্দোলনটি ব্যর্থ হয়েছে। অথচ 1918 সালের মধ্যে এই সংস্কারগুলোর বেশির ভাগই বাস্তবে রূপ নেয়।
লন্ডনের কেনিংটন কমনে চার্টিস্টদের বিশাল সমাবেশ, 10 এপ্রিল 1848। বড় জনসমাবেশের তোলা সবচেয়ে পুরোনো ছবিগুলোর একটি এটি।
ছবি: William Edward Kilburn, পাবলিক ডোমেইন, Wikimedia Commons-এর মাধ্যমে
এরপর চার্টিস্টদের দাবিগুলো একে একে পূরণ হয়: 1858 সাল থেকে MP হতে আর সম্পত্তি লাগত না, 1872 সালে ভোট গোপন হলো, 1911 সালে MP-রা প্রথম বেতন পেলেন, আর 1918 সালের মধ্যে সব প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ভোটাধিকার পেলেন। উনিশ শতকের শেষ দিকে নির্বাচনী এলাকাগুলোর আকারও আরও সমান করা হয়। শুধু একটি দাবি কখনো পূরণ হয়নি: প্রতি বছর নতুন নির্বাচন। যুক্তরাজ্যে সাধারণ নির্বাচন এখনো অন্তত প্রতি পাঁচ বছরে একবার হতে হয়, প্রতি বছর নয়।
অল্প কিছু পুরুষ থেকে 18 বছরের সবাই
18001800-এর দশকের শুরু: শুধু নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পত্তির মালিক, 21 বছরের বেশি বয়সী পুরুষেরা ভোট দিতে পারেন
1830s1830 ও 1840-এর দশক: চার্টিস্টরা ছয়টি সংস্কার দাবি করে; সে সময় ধরে নেওয়া হয় তারা ব্যর্থ হয়েছে
1918চার্টিস্টদের বেশির ভাগ সংস্কার এখন কার্যকর, আর 30 বছরের বেশি বয়সী নারীরা ভোটাধিকার পান
192821 বছরের বেশি বয়সী নারী ও পুরুষ সবাই সমান শর্তে ভোট দিতে পারেন
1969নারী-পুরুষ সবার জন্য ভোটের বয়স কমিয়ে 18 করা হয়
কুইজ
In 1928, who gained the right to vote?
প্রশ্নটি বাংলায়1928 সালে কারা ভোটের অধিকার পান? A: শুধু 30 বছরের বেশি বয়সী নারীরা B: 18 বা তার বেশি বয়সী নারী ও পুরুষ C: 21 বছরের বেশি বয়সী নারী ও পুরুষ D: শুধু সম্পত্তির মালিক পুরুষেরা
তিনটি বছর আলাদা করে মনে রাখুন: 1918, 30 বছরের বেশি বয়সী নারী; 1928, 21 বছরের বেশি বয়সী নারী ও পুরুষ; 1969, বয়স কমে 18। শুধু সম্পত্তির মালিক পুরুষদের ভোটাধিকার ছিল উনিশ শতকের শুরুর অবস্থা।
কুইজ
Which TWO of these changes did the Chartists campaign for?
প্রশ্নটি বাংলায়চার্টিস্টরা এই পরিবর্তনগুলোর কোন দুটির জন্য আন্দোলন করেছিল? A: MP-দের বেতন B: 30 বছরের বেশি বয়সী নারীদের ভোটাধিকার C: রাজতন্ত্রের বিলোপ D: গোপনে ভোট দেওয়া
MP-দের বেতন আর গোপন ব্যালট ছয় দাবির দুটি। চার্টিস্টরা প্রত্যেক পুরুষের ভোট চেয়েছিল; নারীদের ভোটাধিকার তারা চায়নি, আর 30 বছরের বেশি বয়সী নারীরা ভোটাধিকার পান কেবল 1918 সালে। রাজতন্ত্রের অবসানও তারা দাবি করেনি।
কুইজ
Is the statement below TRUE or FALSE?
The voting age for both men and women was lowered to 18 in 1969.
প্রশ্নটি বাংলায়নিচের বক্তব্যটি সত্য (TRUE) না মিথ্যা (FALSE)? বক্তব্য: 1969 সালে নারী ও পুরুষ উভয়ের ভোটের বয়স কমিয়ে 18 করা হয়।
সত্য: 1969 সালে ভোটের বয়স হয় 18।
যে সংবিধান লেখা হয়নি
সংবিধান (constitution) হলো একটি দেশ কীভাবে শাসিত হবে তার নিয়মের বই। দেশ চালাতে সাহায্য করে এমন প্রতিটি প্রতিষ্ঠান আর তাদের ক্ষমতা কীভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়, সবই এর আওতায়। এতে আইনও থাকে, আবার প্রথাও (conventions) থাকে, অর্থাৎ এমন রীতি যা সবাই মেনে চলেন, যদিও তা আইনে লেখা নেই।
যুক্তরাজ্যের সংবিধান কোনো একক দলিলে লেখা নেই, তাই একে বলা হয় অলিখিত সংবিধান (unwritten constitution)। প্রধান কারণ হলো, যুক্তরাষ্ট্র বা ফ্রান্সের মতো ব্রিটেনে কখনো এমন বিপ্লব হয়নি যা পুরো শাসনব্যবস্থাকে চিরতরে উপড়ে ফেলেছে। বরং এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো শত শত বছর ধরে ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছে।
সংবিধান কি এক জায়গায় লিখে ফেলা উচিত? ব্রিটিশরা এ নিয়ে একমত নন। কেউ কেউ মনে করেন উচিত। অন্যরা মনে করেন অলিখিত সংবিধান বেশি নমনীয়, আর এতে সরকার ভালো চলে।
একক দলিল না থাকা মানে নিয়ম না থাকা নয়। ব্রিটেনের সংবিধান ছড়িয়ে আছে অনেক উৎসে: 1215 সালের ম্যাগনা কার্টা (Magna Carta), 1689 সালের বিল অব রাইটস (Bill of Rights), বছরের পর বছর ধরে সংসদে পাস হওয়া আইন, আদালতের রায়, আর সবাই নিঃশব্দে মেনে চলেন এমন প্রথা। নিউজিল্যান্ড ও ইসরায়েলের মতো হাতে গোনা কয়েকটি দেশই এক লিখিত সংবিধান ছাড়া চলে।
যে প্রতিষ্ঠানগুলো দেশকে ধরে রাখে
যুক্তরাজ্যের শাসনব্যবস্থার কয়েকটি অংশ আছে। প্রধান অংশগুলো হলো:
রাজতন্ত্র (the monarchy)
সংসদ (Parliament), যা গঠিত হাউস অব লর্ডস (House of Lords) ও হাউস অব কমন্স (House of Commons) নিয়ে
প্রধানমন্ত্রী (Prime Minister)
মন্ত্রিসভা (the cabinet)
বিচার বিভাগ (the judiciary), অর্থাৎ আদালত
পুলিশ (the police)
সিভিল সার্ভিস (the civil service)
স্থানীয় সরকার (local government)
এর ওপর স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের আছে হস্তান্তরিত ক্ষমতার সরকার (devolved governments), যারা কিছু বিষয়ে নিজেদের আইন বানাতে পারে।
যুক্তরাজ্যের সরকারের অংশগুলো কীভাবে একসঙ্গে কাজ করে। ভোটাররা হাউস অব কমন্সে MP নির্বাচন করেন, রাজা বা রানি সবচেয়ে বড় দলের নেতাকে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আমন্ত্রণ জানান, আর প্রধানমন্ত্রী তারপর মন্ত্রিসভা নিয়োগ করেন।
কুইজ
Which of the following statements is correct?
প্রশ্নটি বাংলায়নিচের কোন বক্তব্যটি সঠিক? A: ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো, যুক্তরাজ্যের সংবিধানও একটি বিপ্লবের পর একটি দলিলে লেখা হয়েছিল। B: যুক্তরাজ্যের সংবিধান লেখা আছে এমন কোনো একক দলিল নেই, তাই সংবিধানটিকে 'অলিখিত' বলা হয়।
ব্যাপারটা ঠিক উল্টো। ব্রিটেনে লিখিত সংবিধান নেই ঠিক এই কারণেই যে এখানে কখনো এমন বিপ্লব হয়নি যা শাসনব্যবস্থাকে একেবারে গোড়া থেকে নতুন করে শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্স হলো সেই দেশগুলোর উদাহরণ, যারা বিপ্লবের পর সংবিধান লিখেছিল।
রাজা বা রানি: সিংহাসনে আছেন, শাসন করেন না
রাজা বা রানি যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রপ্রধান, এবং কমনওয়েলথের (Commonwealth) অনেক দেশেরও রাজা/রানি বা রাষ্ট্রপ্রধান।
ব্রিটেনের ব্যবস্থা হলো সাংবিধানিক রাজতন্ত্র (constitutional monarchy)। বাস্তবে এর মানে হলো, রাজা বা রানি দেশ চালান না। ভোটাররা নির্বাচনে সরকার বেছে নেন, আর রাজা বা রানি আনুষ্ঠানিকভাবে তা নিয়োগ দেন। নির্বাচনের পর রাজা বা রানি সেই দলের নেতাকে প্রধানমন্ত্রী হতে বলেন, যে দলের MP সবচেয়ে বেশি, অথবা কোয়ালিশনের নেতাকে (দুই বা তার বেশি দল মিলে সরকার চালালে)।
রাজা বা রানি আর প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত দেখা করেন। রাজা বা রানি পরামর্শ, সতর্কবার্তা বা উৎসাহ দিতে পারেন, কিন্তু সরকারের নীতি ঠিক করেন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা।
দ্বিতীয় এলিজাবেথ উইনস্টন চার্চিল থেকে শুরু করে প্রত্যেক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এমন বৈঠক করেছেন। এই বৈঠকগুলো গোপন, কোনো রেকর্ড রাখা হয় না, তাই রাজা বা রানি কখনো কী "সতর্কবার্তা" দিয়েছেন, বাইরের কেউ ঠিক জানে না।
দ্বিতীয় এলিজাবেথের সরকারি প্রতিকৃতি, 1959 সালে কানাডায় রাজকীয় সফরের আগে তোলা।
ছবি: Donald McKague, Library and Archives Canada, পাবলিক ডোমেইন, Wikimedia Commons-এর মাধ্যমে
বাবার মৃত্যুর পর দ্বিতীয় এলিজাবেথ (Elizabeth II)1952 সালে রানি হন, আর 2012 সালে তিনি তাঁর ডায়মন্ড জুবিলি (Diamond Jubilee) উদযাপন করেন, সিংহাসনে 60 বছর পূর্তি। তাঁর স্বামী ছিলেন প্রিন্স ফিলিপ (Prince Philip), আর তাঁর বড় ছেলে, প্রিন্স অব ওয়েলস প্রিন্স চার্লস (Prince Charles) ছিলেন সিংহাসনের পরবর্তী উত্তরাধিকারী।
রাজা বা রানি কী করেন?
আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব: প্রতি বছর রাজা বা রানি একটি ভাষণ দিয়ে সংসদের নতুন অধিবেশন উদ্বোধন করেন, যাতে আগামী বছরের জন্য সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। সংসদের প্রতিটি আইন (Acts of Parliament) রাজা বা রানির নামে আইন হয়।
যুক্তরাজ্যের প্রতিনিধিত্ব: রাজা বা রানি অন্য দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাই কমিশনারদের (high commissioners, কমনওয়েলথ দেশগুলোর রাষ্ট্রদূত) স্বাগত জানান, সফরে আসা বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের আতিথ্য দেন, আর ব্রিটেনের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করতে বিদেশে রাষ্ট্রীয় সফরে যান।
স্থিতিশীলতা ও ধারাবাহিকতা: প্রধানমন্ত্রী ও সরকার প্রায়ই বদলায়, কিন্তু রাজা বা রানি রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে থেকে যান। রাজা বা রানি মানুষকে জাতীয় পরিচয় ও গর্বের একটি অভিন্ন প্রতীকও দেন, যেমনটা দেখা গেছে 2012 সালে দেশজুড়ে ডায়মন্ড জুবিলি উদযাপনে।
জাতীয় সংগীত ও নাগরিকত্বের শপথ
যুক্তরাজ্যের জাতীয় সংগীত হলো God Save the Queen। বড় জাতীয় অনুষ্ঠানে, আর যখনই রানি বা রাজপরিবারের অন্য সদস্যরা উপস্থিত থাকেন, তখন এটি বাজানো হয়। প্রথম স্তবক শুরু হয় God save our gracious Queen পঙ্ক্তি দিয়ে, আর এতে রাজা বা রানির দীর্ঘ ও বিজয়ী রাজত্বের জন্য ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করা হয়।
নাগরিকত্ব অনুষ্ঠানে (citizenship ceremony) নতুন নাগরিকেরা রাজা বা রানির প্রতি আনুগত্যের অঙ্গীকার করেন, হয় শপথ (oath) হিসেবে, নয়তো প্রতিজ্ঞা (affirmation) হিসেবে। দুটোর কথা একই; পার্থক্য শুধু ঈশ্বরের উল্লেখ আছে কি না:
আনুগত্যের শপথ (Oath of allegiance) swear শব্দটি ব্যবহার করা হয়: আপনি সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের নামে প্রতিজ্ঞা করেন যে ব্রিটিশ নাগরিক হওয়ার পর আইন অনুযায়ী রাজা বা রানি ও তাঁর উত্তরাধিকারীদের প্রতি অনুগত থাকবেন। যাঁরা ঈশ্বরের নামে প্রতিজ্ঞা করতে স্বচ্ছন্দ, তাঁদের জন্য
আনুগত্যের প্রতিজ্ঞা (Affirmation of allegiance) affirm শব্দটি ব্যবহার করা হয়: ঈশ্বরের উল্লেখ নেই; আপনি গুরুত্ব ও আন্তরিকতার সঙ্গে ঘোষণা করেন যে ব্রিটিশ নাগরিক হওয়ার পর আইন অনুযায়ী রাজা বা রানি ও তাঁর উত্তরাধিকারীদের প্রতি অনুগত থাকবেন। যাঁরা ধর্মীয় প্রতিজ্ঞা না করতে চান, তাঁদের জন্য
আনুষ্ঠানিক নাগরিকত্ব অনুষ্ঠান বেশ নতুন ব্যাপার। প্রথমটি হয় 2004 সালে, লন্ডনের ব্রেন্ট টাউন হলে। তার আগে নতুন নাগরিকেরা শপথ শোনার জন্য অনুমোদিত কোনো ব্যক্তির সামনে একান্তে শপথ নিতেন, আর তাঁদের সনদ পরে ডাকে আসত। আজ সাধারণত স্থানীয় কাউন্সিল এই অনুষ্ঠান আয়োজন করে, আর সেখানে জাতীয় সংগীত বাজানো হয়।
কুইজ
What does it mean to say that the UK is a constitutional monarchy?
প্রশ্নটি বাংলায়যুক্তরাজ্য একটি সাংবিধানিক রাজতন্ত্র, এ কথার মানে কী? A: সংসদ প্রতি পাঁচ বছরে একজন নতুন রাজা বা রানি নির্বাচন করে। B: রাজা বা রানি নতুন আইন লেখেন আর প্রধানমন্ত্রী তাতে স্বাক্ষর করেন। C: রাজা বা রানি রাষ্ট্রপ্রধান, কিন্তু দেশ চালান না; দেশ চালায় নির্বাচিত সরকার। D: রাজা বা রানি সংসদের সবচেয়ে বড় দলের নেতাও।
সাংবিধানিক রাজতন্ত্রে রাজা বা রানি রাষ্ট্রপ্রধান, কিন্তু দেশ চালান না; সরকার নির্বাচিত হয়। সবচেয়ে বড় দলের নেতা হলেন প্রধানমন্ত্রী, রাজা বা রানি নন।
কুইজ
Is the statement below TRUE or FALSE?
After the regular meetings with the Prime Minister, the monarch decides what the government's policies will be.
প্রশ্নটি বাংলায়নিচের বক্তব্যটি সত্য (TRUE) না মিথ্যা (FALSE)? বক্তব্য: প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নিয়মিত বৈঠকের পর রাজা বা রানি ঠিক করেন সরকারের নীতি কী হবে।
মিথ্যা। রাজা বা রানি শুধু পরামর্শ, সতর্কবার্তা ও উৎসাহ দিতে পারেন। সরকারের নীতি ঠিক করেন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা।
কুইজ
Which TWO of these are roles of the monarch?
প্রশ্নটি বাংলায়এগুলোর কোন দুটি রাজা বা রানির দায়িত্ব? A: হাউস অব কমন্সে বিতর্কের সময় শৃঙ্খলা বজায় রাখা B: সংসদের প্রতিটি নতুন অধিবেশন উদ্বোধন করা C: ছায়া মন্ত্রিসভার নেতৃত্ব দেওয়া D: অন্য দেশের রাষ্ট্রদূতদের স্বাগত জানানো
কমন্সের বিতর্কে শৃঙ্খলা রাখা স্পিকারের কাজ, যাঁর কথা পরের অধ্যায়ে আসবে। ছায়া মন্ত্রিসভার নেতৃত্ব দেন বিরোধীদলীয় নেতা।
সংসদীয় গণতন্ত্র: ভোটার → MP → সরকার
ব্রিটেন চলে সংসদীয় গণতন্ত্র হিসেবে। পুরো দেশ কতগুলো এলাকায় ভাগ করা, যাদের বলে নির্বাচনী এলাকা (constituencies)। সাধারণ নির্বাচনে (General Election) প্রতিটি নির্বাচনী এলাকার মানুষ তাঁদের প্রতিনিধিত্বের জন্য একজন MP বেছে নেন, আর এই MP-রা মিলে গঠন করেন হাউস অব কমন্স।
প্রায় সব MP কোনো না কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য। যে দলের MP মোট সংখ্যার অর্ধেকের বেশি, সেই দল সরকার গঠন করে। কোনো দলের অর্ধেকের বেশি না থাকলে দুটি দল একমত হয়ে একসঙ্গে কোয়ালিশন (coalition) হিসেবে সরকার চালাতে পারে।
ওপরের রেখাচিত্রটি আবার দেখুন: ভোটাররা MP নির্বাচন করেন → রাজা বা রানি কমন্সের সবচেয়ে বড় দলের নেতাকে প্রধানমন্ত্রী হতে আমন্ত্রণ জানান → প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভা নিয়োগ করেন। প্রধানমন্ত্রী দিয়েই শুরু করা যাক।
প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা
প্রধানমন্ত্রী (Prime Minister, সংক্ষেপে PM) ক্ষমতাসীন দলের নেতা। PM মন্ত্রিসভার সদস্যদের বেছে নেন এবং অনেক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে নিয়োগে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তাঁর।
PM থাকেন ও কাজ করেন 10 ডাউনিং স্ট্রিটে (10 Downing Street), মধ্য লন্ডনে পার্লামেন্ট ভবন থেকে অল্প হাঁটা পথে। লন্ডনের বাইরে PM-এর ব্যবহারের জন্য একটি গ্রামীণ বাড়িও আছে, যার নাম চেকার্স (Chequers)।
10 ডাউনিং স্ট্রিটের সদর দরজা। বাইরের দিকে কোনো চাবির ছিদ্র নেই, কারণ দরজা খোলার জন্য ভেতরে সব সময় কেউ থাকেন। ল্যারি নামের বিড়ালটিও এখানে থাকে; 2011 সাল থেকে সে "Chief Mouser to the Cabinet Office", অর্থাৎ মন্ত্রিসভা দপ্তরের প্রধান ইঁদুর-শিকারি, আর এরই মধ্যে কয়েকজন প্রধানমন্ত্রীর চেয়ে বেশি দিন টিকে আছে।
UK Government, Open Government Licence v3.0, Wikimedia Commons-এর মাধ্যমেচেকার্স, প্রধানমন্ত্রীর গ্রামীণ বাড়ি। লর্ড লি অব ফেয়ারহ্যাম এটি জাতিকে দান করেন, আর 1921 সাল থেকে প্রধানমন্ত্রীরা এটি ব্যবহার করছেন।
ছবি: Cnbrb, CC0, Wikimedia Commons-এর মাধ্যমে
প্রধানমন্ত্রী সব সময় পরের নির্বাচন পর্যন্ত থাকেন না। ক্ষমতাসীন দলের MP-রা তাঁদের নেতাকে বদলানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, অথবা PM নিজেই সরে দাঁড়াতে পারেন। আর ক্ষমতাসীন দল সাধারণ নির্বাচনে হেরে গেলে PM সাধারণত পদত্যাগ করেন।
মন্ত্রিসভা: প্রায় 20 জন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী
PM সরকারি দপ্তর চালানোর জন্য মন্ত্রী হিসেবে প্রায় 20 জন জ্যেষ্ঠ MP বেছে নেন। তাঁদের মধ্যে আছেন:
চ্যান্সেলর অব দি এক্সচেকার (Chancellor of the Exchequer), যিনি অর্থনীতির দায়িত্বে
হোম সেক্রেটারি (Home Secretary, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী), যিনি অপরাধ, পুলিশ ও অভিবাসনের দায়িত্বে
ফরেন সেক্রেটারি (Foreign Secretary, পররাষ্ট্রমন্ত্রী), যিনি অন্য দেশের সঙ্গে ব্রিটেনের সম্পর্ক দেখেন
অন্যান্য মন্ত্রী, যাঁদের বলা হয় সেক্রেটারি অব স্টেট (Secretaries of State), যাঁরা শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও প্রতিরক্ষার মতো বিষয় দেখেন
মন্ত্রীদের এই দলকে বলে মন্ত্রিসভা (cabinet)। এটি সাধারণত প্রতি সপ্তাহে বৈঠক করে সরকারি নীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো নেয়, আর সংসদকে প্রায়ই সেসব সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা বা ভোট করতে হয়।
মন্ত্রিসভার মন্ত্রীদের নিচে প্রতিটি দপ্তরে আরও কনিষ্ঠ মন্ত্রী থাকেন, যাঁদের পদবি মিনিস্টার অব স্টেট (Ministers of State) বা পার্লামেন্টারি আন্ডার-সেক্রেটারি অব স্টেট (Parliamentary Under-Secretaries of State)। তাঁদের প্রত্যেকে দপ্তরের কাজের একটি অংশ দেখেন।
চ্যান্সেলরের অদ্ভুত পদবির উৎস মধ্যযুগের একটি রাজকীয় অর্থ দপ্তর। এর কর্মকর্তারা চেক নকশার কাপড়ে ঢাকা একটি টেবিলে হিসাব কষতেন আর কর আদায় করতেন, দাবার ঘুঁটির মতো করে তার ওপর গুটি সরাতেন, আর সেই কাপড় থেকেই এক্সচেকার নামটি এসেছে।
কুইজ
What is the name of the Prime Minister's country house outside London?
প্রশ্নটি বাংলায়লন্ডনের বাইরে প্রধানমন্ত্রীর গ্রামীণ বাড়িটির নাম কী?
উত্তর চেকার্স। বালমোরাল, স্যান্ড্রিংহ্যাম আর উইন্ডসর ক্যাসল সবই রাজপরিবারের বাসস্থান, প্রধানমন্ত্রীর নয়।
কুইজ
Which member of the cabinet is in charge of the economy?
প্রশ্নটি বাংলায়মন্ত্রিসভার কোন সদস্য অর্থনীতির দায়িত্বে?
অর্থনীতির দায়িত্বে চ্যান্সেলর অব দি এক্সচেকার। হোম সেক্রেটারি দেখেন অপরাধ, পুলিশ ও অভিবাসন, আর ফরেন সেক্রেটারি অন্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক। স্পিকার মন্ত্রিসভার সদস্যই নন: তিনি হাউস অব কমন্সের বিতর্ক পরিচালনা করেন।
বিরোধী দল, রাজনৈতিক দল ও চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
বিরোধী দল ও ছায়া মন্ত্রিসভা
হাউস অব কমন্সে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংখ্যক MP-ওয়ালা দলকে বলা হয় বিরোধী দল (the opposition)। পরের সাধারণ নির্বাচনে দলটি জিতলে সাধারণত এর নেতাই প্রধানমন্ত্রী হন।
বিরোধী দলের কাজ হলো সরকারকে সজাগ রাখা। সরকার যা ভুল বা খারাপভাবে করছে বলে তাঁরা মনে করেন, বিরোধীদলীয় নেতা দলের পক্ষ থেকে তার সমালোচনায় নেতৃত্ব দেন। এর একটা গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হলো প্রাইম মিনিস্টার্স কোয়েশ্চেনস (Prime Minister's Questions), যা সংসদের অধিবেশন চলাকালে সপ্তাহে একবার হয়। বিরোধীদলীয় নেতা নিজের দলের জ্যেষ্ঠ MP-দের "ছায়া মন্ত্রী" (shadow ministers) হিসেবে দায়িত্ব দেন। তাঁরা মিলে গঠন করেন ছায়া মন্ত্রিসভা (shadow cabinet), যা সরকারকে চ্যালেঞ্জ করে এবং বিকল্প নীতি তুলে ধরে।
বিরোধী দলের আনুষ্ঠানিক নাম Her Majesty's Most Loyal Opposition (মহামান্য রানির সবচেয়ে অনুগত বিরোধী দল), কারণ সরকারের বিরোধিতা করা আর দেশের প্রতি অনুগত না থাকা এক কথা নয়। প্রাইম মিনিস্টার্স কোয়েশ্চেনস এখন হয় বুধবার দুপুর 12টায়। আগে এটি ছিল সপ্তাহে দুটি ছোট অধিবেশন; 1997 সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর টোনি ব্লেয়ার এটিকে বুধবারের একটি দীর্ঘ অধিবেশনে পরিণত করেন; আর 2003 সালে কমন্সের বসার সময় বদলালে এটি দুপুর 12টায় সরে আসে।
দলীয় ব্যবস্থা
18 বছর বয়স থেকে MP পদে নির্বাচনে দাঁড়ানো যায়। তবে বাস্তবে প্রধান দলগুলোর কোনোটি মনোনয়ন না দিলে প্রার্থীরা কদাচিৎ জেতেন। প্রধান দলগুলো হলো লেবার পার্টি (Labour Party), কনজারভেটিভ পার্টি (Conservative Party) ও লিবারেল ডেমোক্র্যাটস (Liberal Democrats), সঙ্গে স্কটল্যান্ড, ওয়েলস বা উত্তর আয়ারল্যান্ডের স্বার্থের পক্ষে কথা বলা দলগুলো।
কিছু MP হলেন স্বতন্ত্র (independents): তাঁরা কোনো প্রধান দলের অংশ নন, আর সাধারণত নিজের এলাকার গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় নিয়ে প্রচারণা চালান।
বড় দলগুলো সব সময় চায় সাধারণ মানুষ যুক্ত হোক: আলোচনায় অংশ নিক, অর্থ দান করুক, আর জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনী প্রচারণায় সাহায্য করুক। বেশির ভাগ নির্বাচনী এলাকায় প্রতিটি প্রধান দলের স্থানীয় শাখা আছে, আর প্রতিটি দল নীতি ঠিক করতে প্রতি বছর একটি সম্মেলন করে।
চাপ সৃষ্টিকারী ও লবি গোষ্ঠী
চাপ সৃষ্টিকারী ও লবি গোষ্ঠী (Pressure and lobby groups) এমন সংগঠন যারা সরকারের কাজকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে, আর ব্রিটিশ রাজনীতিতে এদের গুরুত্ব অনেক। কিছু গোষ্ঠী সমাজের নির্দিষ্ট একটি অংশের হয়ে কথা বলে: যেমন CBI (Confederation of British Industry) ব্রিটিশ ব্যবসায়ীদের মত তুলে ধরে। অন্যরা একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে প্রচারণা চালায়, যেমন পরিবেশ নিয়ে Greenpeace (গ্রিনপিস), বা মানবাধিকার নিয়ে Liberty (লিবার্টি)।
কুইজ
How often does Prime Minister's Questions take place while Parliament is sitting?
প্রশ্নটি বাংলায়সংসদের অধিবেশন চলাকালে প্রাইম মিনিস্টার্স কোয়েশ্চেনস কত ঘন ঘন হয়? A: প্রতি সপ্তাহে B: প্রতিদিন C: মাসে একবার D: বছরে একবার
সংসদের অধিবেশন চলাকালে প্রাইম মিনিস্টার্স কোয়েশ্চেনস হয় প্রতি সপ্তাহে। সরকারের ব্যর্থতা ও দুর্বলতা নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারকে চ্যালেঞ্জ করার প্রধান সুযোগগুলোর একটি এটি। এটি প্রতিদিন হয় না, আবার মাসে বা বছরে একবারের চেয়ে অনেক বেশি ঘন ঘন হয়।
কুইজ
Which of the following statements is correct?
প্রশ্নটি বাংলায়নিচের কোন বক্তব্যটি সঠিক? A: ছায়া মন্ত্রিসভার সদস্যদের বেছে নেন প্রধানমন্ত্রী। B: বিরোধীদলীয় নেতা নিজের দলের জ্যেষ্ঠ MP-দের ছায়া মন্ত্রী হিসেবে বেছে নেন।
বিরোধীদলীয় নেতা নিজের দল থেকে ছায়া মন্ত্রিসভা বেছে নেন। প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দেন আসল মন্ত্রিসভা।
সিভিল সার্ভিস: সরকার বদলালেও যে দল থেকে যায়
প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীরা নির্বাচনের সঙ্গে আসেন-যান, কিন্তু সরকারি দপ্তরে কাজ করা বেশির ভাগ মানুষ থেকে যান। তাঁরা হলেন সিভিল সার্ভেন্ট (civil servants), সরকারের স্থায়ী কর্মী, যাঁরা:
মন্ত্রীদের নীতি তৈরি ও বাস্তবায়নে সাহায্য করেন, আর জনসেবা পরিচালনা করেন;
মন্ত্রীদের কাছে জবাবদিহি করেন;
রাজনৈতিক মতের জন্য নয়, যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ পান, এবং তাঁদের রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ থাকতে হয়: কোনো দল তাঁদের নিয়োগ দেয় না;
অন্য যেকোনো চাকরির মতোই আবেদন করে যোগ দেওয়া যায়।
সিভিল সার্ভেন্টদের কাছে আশা করা হয় যে তাঁরা কাজের প্রতি নিবেদিত থাকবেন এবং চারটি মূল মূল্যবোধ মেনে চলবেন: সততা ও নীতিনিষ্ঠা (integrity), সত্যবাদিতা (honesty), বস্তুনিষ্ঠতা (objectivity: তথ্যের ভিত্তিতে বিচার করা) আর নিরপেক্ষতা (impartiality: কোনো পক্ষ না নেওয়া, যার মধ্যে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতাও আছে)।
মন্ত্রী আর সিভিল সার্ভেন্টদের সম্পর্ক নিয়ে বিখ্যাত ব্যঙ্গ করা হয়েছিল 1980-এর দশকের সিটকম Yes Minister-এ, যেখানে নতুন নিয়োগ পাওয়া এক মন্ত্রীকে তাঁর অভিজ্ঞ জ্যেষ্ঠ সিভিল সার্ভেন্ট সব সময় ভদ্রভাবে "সঠিক" পথে চালিত করেন। শোনা যায়, তখনকার প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচার একে তাঁর প্রিয় অনুষ্ঠান বলেছিলেন।
কুইজ
Which TWO of these statements are correct?
প্রশ্নটি বাংলায়এই বক্তব্যগুলোর কোন দুটি সঠিক? A: সিভিল সার্ভেন্টরা যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্বাচিত হন এবং তাঁদের রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ থাকতে হয়। B: সাধারণ নির্বাচনে যে দল জেতে, সেই দল সিভিল সার্ভেন্টদের নিয়োগ দেয়। C: Greenpeace পরিবেশ নিয়ে প্রচারণা চালানো একটি চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর উদাহরণ। D: CBI একটি চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী, যা মূলত মানবাধিকার নিয়ে প্রচারণা চালায়।
সিভিল সার্ভেন্টদের কোনো দল নিয়োগ দেয় না, তাই সরকার বদলালেও তাঁরা বদলান না। CBI ব্যবসার পক্ষে কথা বলে; মানবাধিকারের উদাহরণ হলো Liberty।
স্থানীয় সরকার: কাউন্টি কাউন্সিল থেকে লন্ডনের মেয়র
স্থানীয় এলাকা, তা শহর, নগর বা গ্রামাঞ্চল যা-ই হোক, চালায় স্থানীয় মানুষের নির্বাচিত কাউন্সিল (council)। এগুলোকে সাধারণত বলা হয় লোকাল অথরিটি (local authorities, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ)। কিছু জায়গায় দুটি স্তর আছে, ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল (district council) ও কাউন্টি কাউন্সিল (county council), আর প্রত্যেকে আলাদা কাজ করে। বেশির ভাগ বড় শহর ও নগরে শুধু একটি লোকাল অথরিটি থাকে।
কাউন্সিলগুলো অনেক স্থানীয় সেবা পরিচালনা করে। এর খরচ আসে কিছুটা কেন্দ্রীয় সরকারের অনুদান থেকে, কিছুটা স্থানীয় কর থেকে।
অনেক কাউন্সিল একজন মেয়র (mayor) বেছে নেয়, যাঁর ভূমিকা মূলত আনুষ্ঠানিক। তবে কিছু শহরে ভোটাররা এমন মেয়র নির্বাচন করেন যাঁর সত্যিকারের ক্ষমতা আছে এবং যিনি কাউন্সিলের কাজে নেতৃত্ব দেন।
লন্ডন33টি লোকাল অথরিটিতে বিভক্ত। পুরো রাজধানীর নীতি সমন্বয় করে গ্রেটার লন্ডন অথরিটি (Greater London Authority) ও লন্ডনের মেয়র (Mayor of London)। বেশির ভাগ কাউন্সিল প্রতি বছর মে মাসে কাউন্সিলর নির্বাচন করে, আর অনেক প্রার্থী রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি।
মানুষ প্রায়ই লন্ডনের মেয়রকে অনেক পুরোনো একটি পদের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেন: লর্ড মেয়র অব দ্য সিটি অব লন্ডন (Lord Mayor of the City of London)। লন্ডনের মেয়র তুলনামূলক নতুন পদ, 2000 সালে তৈরি এবং পুরো শহরের ভোটারদের ভোটে নির্বাচিত। লর্ড মেয়র প্রতি বছর বেছে নেওয়া হয়, তিনি শুধু "সিটি" দেখেন, অর্থাৎ কেন্দ্রের এক বর্গমাইলের আর্থিক এলাকা, আর পদটি মূলত আনুষ্ঠানিক।
কুইজ
How many local authorities are there in London?
প্রশ্নটি বাংলায়লন্ডনে কয়টি লোকাল অথরিটি আছে?
33টি, যাদের সমন্বয় করে গ্রেটার লন্ডন অথরিটি ও লন্ডনের মেয়র।
অধ্যায়ের সারসংক্ষেপ
সংসদীয় গণতন্ত্র
যুক্তরাজ্য যেভাবে শাসিত হয়; রাষ্ট্রপ্রধান রাজা বা রানি
1800-এর দশকের শুরু
শুধু 21 বছরের বেশি বয়সী, সম্পত্তির মালিক পুরুষেরা ভোট দিতে পারতেন
চার্টিস্ট
1830 ও 1840-এর দশক; ছয় দাবি: প্রত্যেক পুরুষের ভোট, প্রতি বছর নির্বাচন, সমান অঞ্চল, গোপন ব্যালট, যেকোনো পুরুষ দাঁড়াতে পারবেন, MP-দের বেতন; বেশির ভাগ পূরণ হয় 1918 সালের মধ্যে
1918 / 1928 / 1969
30 বছরের বেশি বয়সী নারী → 21 বছরের বেশি বয়সী নারী ও পুরুষ → 18
অলিখিত সংবিধান
কোনো একক দলিল নেই; যুক্তরাজ্যে কখনো এমন বিপ্লব হয়নি যা পুরো ব্যবস্থা বদলে দিয়েছে (যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের বিপরীতে)
প্রতিষ্ঠান
রাজতন্ত্র, সংসদ (দুই কক্ষ), প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভা, বিচার বিভাগ, পুলিশ, সিভিল সার্ভিস, স্থানীয় সরকার; সঙ্গে হস্তান্তরিত ক্ষমতার সরকার
সাংবিধানিক রাজতন্ত্র
রাজা বা রানি শাসন করেন না; সবচেয়ে বড় দলের নেতাকে PM হতে আমন্ত্রণ জানান; পরামর্শ, সতর্কবার্তা ও উৎসাহ দিতে পারেন
দ্বিতীয় এলিজাবেথ
1952 থেকে রানি, 2012 সালে ডায়মন্ড জুবিলি; প্রিন্স চার্লস পরবর্তী উত্তরাধিকারী
রাজা বা রানির ভূমিকা
ভাষণ দিয়ে সংসদ উদ্বোধন, রাজা বা রানির নামে আইন, রাষ্ট্রদূতদের গ্রহণ, বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের আতিথ্য, রাষ্ট্রীয় সফর, স্থিতিশীলতা ও ধারাবাহিকতা
শপথ / প্রতিজ্ঞা
নাগরিকত্ব অনুষ্ঠানে: ঈশ্বরের নামে শপথ (oath) অথবা ঈশ্বরের উল্লেখ ছাড়া প্রতিজ্ঞা (affirmation), রাজা বা রানির প্রতি আনুগত্যের অঙ্গীকার
প্রধানমন্ত্রী
ক্ষমতাসীন দলের নেতা; 10 ডাউনিং স্ট্রিট; গ্রামীণ বাড়ি চেকার্স; মন্ত্রিসভায় প্রায় 20 জন মন্ত্রী নিয়োগ দেন
দ্বিতীয় বৃহত্তম দল; সাপ্তাহিক প্রাইম মিনিস্টার্স কোয়েশ্চেনস; ছায়া মন্ত্রিসভা
চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
CBI (ব্যবসা), Greenpeace (পরিবেশ), Liberty (মানবাধিকার)
সিভিল সার্ভিস
যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্বাচিত, রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ; সততা ও নীতিনিষ্ঠা, সত্যবাদিতা, বস্তুনিষ্ঠতা, নিরপেক্ষতা
স্থানীয় সরকার
স্থানীয় কাউন্সিল; অর্থ আসে কেন্দ্রীয় সরকার ও স্থানীয় কর থেকে; লন্ডন: 33টি লোকাল অথরিটি, গ্রেটার লন্ডন অথরিটি ও লন্ডনের মেয়র; প্রতি মে মাসে নির্বাচন