প্রতি বছর নভেম্বরে ব্রিটেনে প্রায় সবাই যেন বুকে একটি ছোট্ট লাল কাগজের ফুল পরে থাকে: রাজনীতিবিদ, সংবাদপাঠক, ফুটবলার, এমনকি বাসের সামনের দিকেও থাকে সেটি। এটি পপি ফুল, আর এটি স্মরণ করায় একশো বছরেরও বেশি আগের এক যুদ্ধে নিহত মানুষদের। এই অধ্যায়ে আছে 1900 থেকে 1945 সাল। এই বছরগুলোতে ব্রিটেন দুটি বিশ্বযুদ্ধ লড়েছে, নারীরা ভোটের অধিকার পেয়েছেন, আয়ারল্যান্ড দুই ভাগ হয়েছে, আর রেডিও পৌঁছে গেছে প্রায় প্রতিটি ঘরে।
এই অধ্যায়ের জায়গাগুলো। ⚔ চিহ্ন প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সোমের যুদ্ধ, সোনালি তীরগুলো 1940 সালে ডানকার্ক থেকে সৈন্য সরিয়ে আনা, নীল তীরটি 1944 সালের ডি-ডে অবতরণ, আর লাল তারাগুলো ব্লিৎজে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত দুটি শহর।
1900-এর দশকের শুরু: আত্মবিশ্বাসী এক "পরাশক্তি"
20শ শতক যখন শুরু হয়, তখনও সেই বিশ্বযুদ্ধগুলোর প্রথমটি দশ বছরেরও বেশি দূরে। 1901 সালে প্রায় 64 বছর সিংহাসনে থাকার পর রানি ভিক্টোরিয়া মারা যান। তাঁর ছেলে সপ্তম এডওয়ার্ড (Edward VII) রাজা হন, আর 1910 সালে তাঁর পরে আসেন পঞ্চম জর্জ (George V)। এ সময় ব্রিটেন ছিল আত্মবিশ্বাসে ভরপুর। তার ছিল পৃথিবীজোড়া সাম্রাজ্য, মানুষের প্রশংসা পাওয়া নৌবাহিনী, ব্যস্ত শিল্পকারখানা আর স্থিতিশীল রাজনৈতিক ব্যবস্থা। আজকের ভাষায় বললে, এটি ছিল এক পরাশক্তি (superpower)।
দেশ যত ধনী হতে থাকে, সরকার সাধারণ মানুষের জন্য তত বেশি কাজ করতে শুরু করে। এই বছরগুলোতে অনেক সামাজিক সংস্কার আসে:
কর্মহীন মানুষদের সাহায্যের জন্য অর্থ
বয়স্কদের জন্য বার্ধক্য ভাতা (Old-age pensions)
শিশুদের জন্য বিনা মূল্যে স্কুলের খাবার (Free school meals)
কর্মস্থল নিরাপদ করার নতুন আইন
বস্তি ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে নগর পরিকল্পনার কঠোর নিয়ম
বিবাহবিচ্ছেদ বা আলাদা হয়ে যাওয়ার পর মা ও শিশুদের জন্য বেশি সহায়তা
আরও ন্যায্য ও গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকার; আর এমপিরা (MPs) বেতন পেতে শুরু করেন, ফলে সাধারণ মানুষের পক্ষে রাজনীতিতে আসা সহজ হয়
আজকের চোখে এই সংস্কারগুলো ছোট মনে হয়, কিন্তু এগুলো ছিল সত্যিকারের শুরু। 1908 সালের ওল্ড এজ পেনশনস অ্যাক্ট (Old Age Pensions Act) 70 বছরের বেশি বয়সী স্বল্প আয়ের মানুষদের সপ্তাহে 5 শিলিং দিত; খুব কম মানুষই এত দিন বাঁচত, কিন্তু এই প্রথম রাষ্ট্র বয়স্কদের অর্থ দিল। স্কুলে বিনা মূল্যে খাবার শুরু হয় 1906 সালে, আংশিক কারণ সরকার দেখেছিল সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে আসা অনেক তরুণ মারাত্মক অপুষ্টিতে ভুগছে। এমপিরা বেতন পেতে শুরু করেন 1911 সাল থেকে, বছরে £400; তার আগে এমপি হওয়া ছিল প্রায় কেবল ধনীদের ব্যাপার।
কুইজ
Which TWO social reforms were introduced in Britain in the early 20th century, before the First World War?
প্রশ্নটি বাংলায়প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগে, 20শ শতকের শুরুতে ব্রিটেনে কোন দুটি সামাজিক সংস্কার চালু হয়? A: বার্ধক্য ভাতা B: ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (NHS) C: স্কুলে বিনা মূল্যে খাবার D: 18 বছর বয়সে ভোটের অধিকার
বার্ধক্য ভাতা আর স্কুলে বিনা মূল্যে খাবার, দুটিই 20শ শতকের শুরুর সংস্কার। এনএইচএস (NHS) চালু হয় কেবল 1948 সালে (পরের অধ্যায় দেখুন), আর ভোটের বয়স 18-তে নামে 1969 সালে।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ (1914–1918)
একটি গুলি, আর জ্বলে উঠল ইউরোপ
সেই আত্মবিশ্বাসের যুগ হঠাৎ শেষ হয়ে যায়। 1914 সালের 28 জুন সারায়েভোতে অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরির সিংহাসনের উত্তরাধিকারী আর্চডিউক ফ্রানৎস ফার্দিনান্দকে (Archduke Franz Ferdinand) গুলি করে হত্যা করা হয়। প্রথম ডমিনোটি পড়ার মতো, তাঁর হত্যাকাণ্ড ধাপে ধাপে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের দিকে নিয়ে যায়।
ঘটনাটি প্রায় ঘটতেই পারত না। সেদিন সকালে ষড়যন্ত্রকারীরা একবার ব্যর্থ হয়েছিল, যখন আর্চডিউকের গাড়ির দিকে ছোড়া বোমা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। বিকেলে বোমায় আহতদের দেখতে যেতে তিনি পরিকল্পনা বদলান, কিন্তু চালককে কেউ সে কথা জানায়নি; চালক ভুল মোড় নেন এবং গাড়ি পেছাতে গিয়ে থামেন ঠিক দলটির 19 বছর বয়সী সদস্য গাভরিলো প্রিন্সিপের (Gavrilo Princip) সামনে। অনলাইনে প্রায়ই পড়বেন যে প্রিন্সিপ তখন কাছের এক দোকানে স্যান্ডউইচ খাচ্ছিলেন, কিন্তু 1914 সালের কোনো নথি এর পক্ষে নেই; এটিকে পরে জুড়ে দেওয়া একটি কিংবদন্তি বলেই মনে হয়।
তবে হত্যাকাণ্ডটি ছিল কেবল স্ফুলিঙ্গ। আরও কয়েকটি শক্তি বহু বছর ধরে জমে উঠছিল এবং যুদ্ধকে প্রায় অনিবার্য করে তুলেছিল:
জাতীয়তাবাদ নিজের জাতিকে সবার আগে রাখা
সামরিকতাবাদ বড় বড় সেনা ও নৌবাহিনী গড়ে তোলা
সাম্রাজ্যবাদ সাম্রাজ্য ও উপনিবেশ নিয়ে প্রতিযোগিতা
দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী শিবির ইউরোপের বড় শক্তিগুলো দুটি জোটে ভাগ হয়ে যায়
দুই পক্ষ
বেশিরভাগ লড়াই হয়েছিল ইউরোপে, কিন্তু যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে পৃথিবীর নানা দেশ। ব্রিটেনের পক্ষকে বলা হতো মিত্রশক্তি (Allies), আর অন্য পক্ষকে কেন্দ্রীয় শক্তি (Central Powers)।
প্রতিটি বিশ্বযুদ্ধের দুই পক্ষ। দুবারই ব্রিটেনের পক্ষের নাম ছিল মিত্রশক্তি। বদলেছিল শত্রুপক্ষের নাম: প্রথম বিশ্বযুদ্ধে কেন্দ্রীয় শক্তি, আর দ্বিতীয়টিতে অক্ষশক্তি।
গোটা সাম্রাজ্য যুদ্ধে নামে
শুধু ব্রিটেন একা লড়েনি। পুরো ব্রিটিশ সাম্রাজ্য অংশ নেয়: দশ লাখেরও বেশি ভারতীয় সৈন্য বহু দেশে ব্রিটেনের হয়ে লড়ে, আর তাদের মধ্যে প্রায় 40,000 জন প্রাণ হারায়। কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেকেও সৈন্যরা আসে এবং ব্রিটিশদের পাশাপাশি লড়ে।
1914 সালের একটি সৈন্য-সংগ্রহের পোস্টার। যুদ্ধমন্ত্রী (Secretary of State for War) লর্ড কিচেনার (Lord Kitchener) আপনার দিকে আঙুল তুলে বলছেন: দেশের আপনাকে দরকার। যুদ্ধের শুরুতে ব্রিটেনের সেনাবাহিনী পুরোপুরি স্বেচ্ছাসেবকদের ওপর নির্ভর করত।
পোস্টার: Alfred Leete, Imperial War Museums Q 48378A, public domain, Wikimedia Commons-এর মাধ্যমে
সোম: সবচেয়ে ভয়াবহ দিন
যুদ্ধ চলে চার বছর, আর লাখ লাখ মানুষ নিহত বা আহত হয়; শুধু ব্রিটেনেরই হতাহতের সংখ্যা ছিল 20 লাখের (2 million) বেশি। সবচেয়ে খারাপ মুহূর্ত আসে 1916 সালের জুলাইয়ে, যখন ব্রিটিশ সেনাবাহিনী উত্তর ফ্রান্সে সোমের যুদ্ধে (Battle of the Somme) আক্রমণ চালায়। একেবারে প্রথম দিনেই ব্রিটিশ হতাহতের সংখ্যা ছিল প্রায় 60,000।
1916 সালের জুলাই, সোমের যুদ্ধের সময় একটি ট্রেঞ্চে (পরিখা) রসদ বয়ে নিচ্ছে রয়্যাল আইরিশ রাইফেলসের (Royal Irish Rifles) সৈন্যরা। ইম্পেরিয়াল ওয়ার মিউজিয়ামসের (Imperial War Museums) আলোকচিত্র সংগ্রহে এটি এক নম্বর ছবি (Q 1)।
ছবি: Royal Engineers No 1 Printing Company, Imperial War Museums Q 1, public domain, Wikimedia Commons-এর মাধ্যমে
11 নভেম্বরের সকাল 11টা
1918 সালের 11 নভেম্বর সকাল 11টায় যুদ্ধবিরতি (armistice, লড়াই থামানোর চুক্তি) কার্যকর হয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয়, আর জয়ী হয় ব্রিটেন ও তার মিত্ররা।
এই দিনটি হয়ে ওঠে রিমেমব্রান্স ডে (Remembrance Day, স্মরণ দিবস)। মানুষ লাল পপি ফুল পরে, কারণ প্রথম বিশ্বযুদ্ধের যুদ্ধক্ষেত্রগুলো জুড়ে এই ফুল ফুটেছিল। সকাল 11টায় সারা দেশ দুই মিনিট নীরবতা পালন করে। 11 নভেম্বরের সবচেয়ে কাছের রবিবার, রিমেমব্রান্স সানডেতে (Remembrance Sunday), লন্ডনের হোয়াইটহলের (Whitehall) যুদ্ধস্মারক সেনোটাফে (Cenotaph) জাতীয় অনুষ্ঠান হয়, যেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।
পপি ফুল
11:00-এ দুই মিনিটের নীরবতা
হোয়াইটহলের সেনোটাফ
পপি প্রতীক হয়ে ওঠে একটি কবিতার মাধ্যমে। 1915 সালে কানাডীয় সেনা-চিকিৎসক জন ম্যাকক্রে (John McCrae) বেলজিয়ামের ফ্ল্যান্ডার্সের যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত সৈন্যদের কবরের মাঝে লাল পপি ফুটতে দেখে লেখেন In Flanders Fields। 1921 সাল থেকে রয়্যাল ব্রিটিশ লিজিয়ন (Royal British Legion) প্রতি বছর পপি বিক্রি করে সাবেক সৈন্য ও তাদের পরিবারের জন্য অর্থ তোলে, এবং আজও তা করে। একই সময়ের আরেকটি স্মারকও আছে: 1920 সালের 11 নভেম্বর নাম-না-জানা এক সৈন্য, "আননোন ওয়ারিয়র" (Unknown Warrior, অজ্ঞাত যোদ্ধা)-কে ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবিতে (Westminster Abbey) সমাহিত করা হয়, যাঁদের দেহ কখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি তাঁদের সবার প্রতীক হিসেবে।
যুদ্ধ এমনকি রাজপরিবারের নামও বদলে দেয়। পরিবারটির নাম ছিল "স্যাক্স-কোবার্গ অ্যান্ড গোথা" (Saxe-Coburg and Gotha), যা ব্রিটেন যখন জার্মানির সঙ্গে লড়ছে তখন শুনতে খুবই জার্মান লাগত; তাই 1917 সালে পঞ্চম জর্জ উইন্ডসর ক্যাসলের (Windsor Castle) নামে পরিবারের নাম রাখেন উইন্ডসর। রাজপরিবারের নাম আজও উইন্ডসর।
কুইজ
Is the statement below TRUE or FALSE?
The assassination of Archduke Franz Ferdinand of Austria in 1914 triggered the events that led to the First World War.
প্রশ্নটি বাংলায়নিচের বক্তব্যটি সত্য (TRUE) নাকি মিথ্যা (FALSE)? বক্তব্য: 1914 সালে অস্ট্রিয়ার আর্চডিউক ফ্রানৎস ফার্দিনান্দের হত্যাকাণ্ড এমন সব ঘটনার সূচনা করে, যা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের দিকে নিয়ে যায়।
সত্য। অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরির সিংহাসনের উত্তরাধিকারী আর্চডিউক ফ্রানৎস ফার্দিনান্দকে 1914 সালের 28 জুন গুলি করে হত্যা করা হয়, আর তাঁর হত্যাকাণ্ড একের পর এক ঘটনার সূচনা করে, যার শেষ হয় যুদ্ধে। গভীরতর কারণগুলো ছিল জাতীয়তাবাদ, সামরিকতাবাদ, সাম্রাজ্যবাদ এবং ইউরোপের বড় শক্তিগুলোর দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরে ভাগ হয়ে যাওয়া।
কুইজ
Approximately how many British casualties were there on the first day of the Battle of the Somme in 1916?
প্রশ্নটি বাংলায়1916 সালে সোমের যুদ্ধের প্রথম দিনে আনুমানিক কতজন ব্রিটিশ হতাহত হয়েছিল?
সোমের প্রথম দিনে প্রায় 60,000 হতাহত, যা ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ একক দিন। ডানকার্ক থেকে উদ্ধার করা "300,000-এরও বেশি" সৈন্যের সংখ্যার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলবেন না।
কুইজ
Is the statement below TRUE or FALSE?
Fighting in the First World War stopped at 11 o'clock in the morning on 11 November 1918.
প্রশ্নটি বাংলায়নিচের বক্তব্যটি সত্য (TRUE) নাকি মিথ্যা (FALSE)? বক্তব্য: প্রথম বিশ্বযুদ্ধের লড়াই থামে 1918 সালের 11 নভেম্বর সকাল 11টায়।
তিনটি এগারো মনে রাখুন: এগারোতম মাসের এগারোতম দিনের এগারোতম ঘণ্টা। সেজন্যই রিমেমব্রান্স ডে 11 নভেম্বর, আর নীরবতা পালন করা হয় সকাল 11টায়।
কুইজ
Which of the following statements is correct?
প্রশ্নটি বাংলায়নিচের কোন বক্তব্যটি সঠিক? A: প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অটোমান সাম্রাজ্য ব্রিটেনের পক্ষে লড়েছিল। B: প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জাপান ব্রিটেনের পক্ষে লড়েছিল।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জাপান ছিল মিত্রশক্তির একজন, ব্রিটেনের পক্ষে, আর অটোমান সাম্রাজ্য ছিল কেন্দ্রীয় শক্তির অংশ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপান যোগ দেয় অক্ষশক্তিতে, তাই এটি সহজেই গুলিয়ে যায়।
নারীর ভোটাধিকার: 1918 ও 1928
আগের অধ্যায়ে যেমন দেখেছি, 19শ শতকের শেষ দিক থেকে আরও বেশি বেশি নারী ভোটাধিকারের জন্য আন্দোলন করেন; তাঁরা পরিচিত ছিলেন সাফ্রাজেট (suffragettes) নামে। যুদ্ধের সময় বিপুলসংখ্যক নারী কারখানায় কাজ করেন, অ্যাম্বুলেন্স চালান, খেতে চাষ করেন, আর দেশকে সচল রাখেন। যুদ্ধ শেষ হলে অবশেষে তাঁরা ভোটের অধিকার পান, তবে দুই ধাপে:
1918 30 বছরের বেশি বয়সী নারীরা ভোট দিতে ও সংসদ নির্বাচনে দাঁড়াতে পারতেন। পুরুষেরা ভোট দিতে পারতেন 21 বছর বয়স থেকে।
1928
নারীদের ভোটের বয়স নেমে আসে 21-এ, অবশেষে পুরুষদের সমান।
1918 সালের নির্বাচনে হাউস অব কমন্সে (House of Commons) নির্বাচিত প্রথম নারী আসলে কখনো আসন গ্রহণ করেননি। তিনি ছিলেন আয়ারল্যান্ডের কনস্ট্যান্স মার্কিয়েভিচ (Constance Markievicz), আইরিশ স্বাধীনতাকামী দল সিন ফেইনের (Sinn Féin) সদস্য, এবং তিনি লন্ডনে বসতে অস্বীকার করেন। কমন্সে বসা প্রথম নারী ছিলেন 1919 সালে নির্বাচিত ন্যান্সি অ্যাস্টর (Nancy Astor)।
কুইজ
In 1918, women over what age were given the right to vote?
প্রশ্নটি বাংলায়1918 সালে কত বছরের বেশি বয়সী নারীদের ভোটের অধিকার দেওয়া হয়?
1918 সালে 30; 1928 সালে 21, পুরুষদের সমান; আর 1969 সালে সবার জন্য 18। তিনটি বয়স (30, 21, 18) তিনটি সালের (1918, 1928, 1969) সঙ্গে মিলিয়ে মুখস্থ করাই সবচেয়ে ভালো।
আয়ারল্যান্ড ভাগ হয়
আয়ারল্যান্ড কীভাবে ভাগ হলো তা বুঝতে আমাদের ফিরে যেতে হবে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ঠিক আগের বছরগুলোতে, যখন আইরিশ প্রশ্নটি চরমে পৌঁছাচ্ছিল। ব্রিটিশ সরকার আয়ারল্যান্ডকে হোম রুল (Home Rule) দেওয়ার পরিকল্পনা করে: যুক্তরাজ্যের অংশ থেকেও নিজস্ব একটি সংসদ। উত্তরের প্রোটেস্ট্যান্টরা এর তীব্র বিরোধী ছিল, এমনকি বলপ্রয়োগে বাধা দেওয়ার হুমকিও দেয়। পরের দশ বছরে উত্তেজনা বাড়তেই থাকে:
1913ব্রিটিশ সরকার আয়ারল্যান্ডকে হোম রুলের প্রতিশ্রুতি দেয় এবং সংসদে হোম রুল বিল তোলে; উত্তরের প্রোটেস্ট্যান্টরা সশস্ত্র প্রতিরোধের হুমকি দেয়
1914প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয় এবং সরকার আয়ারল্যান্ডে সংস্কার স্থগিত রাখে; আইরিশ জাতীয়তাবাদীরা অপেক্ষা করতে রাজি নয়
1916ডাবলিনে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে ইস্টার রাইজিং (Easter Rising) শুরু হয়; সামরিক আইনে এর নেতাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়, এরপর ব্রিটিশ সেনা ও পুলিশের বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধ চলে
1921দুই পক্ষ শান্তিচুক্তিতে সই করে
1922আয়ারল্যান্ড দুই ভাগ হয়: উত্তরের ছয়টি কাউন্টি, যেখানে বেশিরভাগ মানুষ প্রোটেস্ট্যান্ট, নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড (Northern Ireland) হিসেবে যুক্তরাজ্যে থেকে যায়; বাকি অংশ হয় আইরিশ ফ্রি স্টেট (Irish Free State)
1949আইরিশ ফ্রি স্টেট প্রজাতন্ত্রে পরিণত হয়
1922 সালের আয়ারল্যান্ড: উত্তর-পূর্বের ছয়টি কাউন্টি নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড হয়ে যুক্তরাজ্যে থেকে যায়; দ্বীপের বাকি অংশ হয় আইরিশ ফ্রি স্টেট।
কিন্তু উত্তর ও দক্ষিণ, দুই দিকেরই কিছু মানুষ এই ভাগ মেনে নেয়নি। তারা চাইত পুরো আয়ারল্যান্ড একটি স্বাধীন দেশ হোক। বছরের পর বছরের বিভাজন পরে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড ও অন্যান্য জায়গায় সন্ত্রাসী সহিংসতায় রূপ নেয়। এই সংঘাত পরিচিত দ্য ট্রাবলস (the Troubles) নামে, আর পরের অধ্যায়ে এটি আবার আসবে।
কুইজ
In which year did the Irish Free State become a republic?
প্রশ্নটি বাংলায়আইরিশ ফ্রি স্টেট কোন সালে প্রজাতন্ত্র হয়?
1949। আয়ারল্যান্ডের সালগুলো ক্রম অনুযায়ী মনে রাখুন: 1916 সালে ইস্টার রাইজিং, 1921 সালে শান্তিচুক্তি, 1922 সালে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড ও আইরিশ ফ্রি স্টেটে বিভাজন, আর 1949 সালে প্রজাতন্ত্র।
কুইজ
Is the statement below TRUE or FALSE?
In 1922 the whole of Ireland left the United Kingdom and became the Irish Free State.
প্রশ্নটি বাংলায়নিচের বক্তব্যটি সত্য (TRUE) নাকি মিথ্যা (FALSE)? বক্তব্য: 1922 সালে পুরো আয়ারল্যান্ড যুক্তরাজ্য ছেড়ে আইরিশ ফ্রি স্টেট হয়ে যায়।
"পুরো" (whole) শব্দটিই বক্তব্যটিকে মিথ্যা করে দেয়। উত্তরের মূলত প্রোটেস্ট্যান্ট ছয়টি কাউন্টি নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড হিসেবে যুক্তরাজ্যে থেকে যায়; শুধু বাকি অংশ আইরিশ ফ্রি স্টেট হয়।
দুই যুদ্ধের মাঝখানে: মহামন্দা, গাড়ি আর রেডিও
ব্রিটেনে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরের দুই দশক এনেছিল ভালো ও কঠিন দুই রকম সময়ই। 1920-এর দশকে অনেক মানুষের জীবন উন্নত হয়। সরকারি আবাসন ভালো হয়, আর শহর ও নগরে অনেক নতুন বাড়ি ওঠে।
কিন্তু 1929 সালে গোটা পৃথিবী ডুবে যায় মহামন্দায় (Great Depression), আর ব্রিটেনের কিছু অঞ্চলে দেখা দেয় ব্যাপক বেকারত্ব। 1930-এর দশকের মন্দা বিভিন্ন জায়গায় খুব ভিন্নভাবে আঘাত হানে:
জাহাজনির্মাণের মতো পুরোনো ভারী শিল্প মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
গাড়ি ও বিমান (aviation, উড়োজাহাজ তৈরি) শিল্পের মতো নতুন শিল্প বাড়তে থাকে।
সাধারণভাবে দাম কমে যায়, তাই যাদের তখনও চাকরি ছিল তাদের হাতে খরচ করার মতো বেশি টাকা থাকত। 1930 থেকে 1939 সালের মধ্যে ব্রিটেনে গাড়ির সংখ্যা দ্বিগুণ হয়, 10 লাখ থেকে 20 লাখ।
সংস্কৃতির জন্যও এটি ছিল প্রাণবন্ত সময়। ঔপন্যাসিক গ্রাহাম গ্রিন (Graham Greene) ও এভলিন ওয়া (Evelyn Waugh) বিখ্যাত হন, আর অর্থনীতিবিদ জন মেনার্ড কেইনস (John Maynard Keynes) অর্থনীতি নিয়ে প্রভাবশালী নতুন ধারণা প্রকাশ করেন। বিবিসি (BBC) 1922 সালে রেডিও সম্প্রচার শুরু করে, আর 1936 সালে চালু করে বিশ্বের প্রথম নিয়মিত টেলিভিশন সেবা।
বিবিসি শুরুতে সরকারি সম্প্রচার প্রতিষ্ঠান ছিল না। 1922 সালে এটি ছিল ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং Company, যা গড়েছিল কয়েকটি রেডিও নির্মাতা প্রতিষ্ঠান, যারা চাইত মানুষ রেডিও কিনুক। 1927 সালে এটি হয় ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং Corporation, আজকের পরিচিত সরকারি প্রতিষ্ঠান; দুটি নামেরই সংক্ষিপ্ত রূপ BBC।
একটি পার্শ্বটীকা: টেলিভিশন (জন লোগি বেয়ার্ড, John Logie Baird), রাডার (রবার্ট ওয়াটসন-ওয়াট, Robert Watson-Watt), জেট ইঞ্জিন (ফ্র্যাংক হুইটল, Frank Whittle), টিউরিং মেশিন (অ্যালান টিউরিং, Alan Turing) আর ইনসুলিন (জন ম্যাকলিওড, John Macleod), সবই 1920 ও 1930-এর দশকের। 20শ শতকের অন্যান্য ব্রিটিশ উদ্ভাবনের সঙ্গে এগুলো আছে পরের অধ্যায়ে, "যুদ্ধের আগে" অংশে। পেনিসিলিন আবিষ্কারক আলেকজান্ডার ফ্লেমিং আছেন এই অধ্যায়ের শেষে।
কুইজ
In which year did the BBC start radio broadcasts?
প্রশ্নটি বাংলায়বিবিসি কোন সালে রেডিও সম্প্রচার শুরু করে?
রেডিও শুরু 1922 সালে; টিভি সেবা আসে 1936 সালে। 1901 রানি ভিক্টোরিয়ার মৃত্যুর বছর, আর 1948 সালে এনএইচএস শুরু হয়। মনে রাখার উপায়: আগে শব্দ (1922), পরে ছবি (1936)।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ (1939–1945)
হিটলার ও যুদ্ধের পথ
মহামন্দা জার্মানিকে বিশেষভাবে কঠিন আঘাত হানে, আর সেখানে অনেক মরিয়া ভোটার চরমপন্থী দলগুলোর দিকে ঝোঁকে। 1933 সালে অ্যাডলফ হিটলার (Adolf Hitler) জার্মানির ক্ষমতা দখল করেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর মিত্রশক্তি জার্মানির ওপর যে শর্ত চাপিয়েছিল, তিনি সেগুলোকে অন্যায় মনে করতেন, আর জার্মানদের জন্য আরও ভূখণ্ড জয় করতে চাইতেন। তিনি চুক্তিগুলো ছিঁড়ে ফেলতে ও নতুন করে আলোচনা করতে, জার্মানির অস্ত্রভান্ডার বাড়াতে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর সামরিক শক্তি পরখ করতে শুরু করেন। শুরুতে ব্রিটিশ সরকার আরেকটি যুদ্ধ এড়াতে যথাসাধ্য চেষ্টা করে।
1939 সালে হিটলার পোল্যান্ড আক্রমণ করেন। তাঁকে আর এগোতে না দেওয়ার জন্য ব্রিটেন ও ফ্রান্স জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। এ সময় ব্রিটেনের রাজা ছিলেন ষষ্ঠ জর্জ (George VI), যিনি 1936 সালে সিংহাসনে বসেছিলেন।
শুরুতে যুদ্ধ ছিল অক্ষশক্তি (Axis powers) আর মিত্রশক্তির (Allies) মধ্যে। অক্ষশক্তিতে ছিল ফ্যাসিবাদী জার্মানি, ইতালি ও জাপান সাম্রাজ্য। মিত্রশক্তিতে ছিল যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও পোল্যান্ড, সঙ্গে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, নিউজিল্যান্ড ও ইউনিয়ন অব সাউথ আফ্রিকা (Union of South Africa)। (ওপরে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অংশে দুই পক্ষের চার্ট দেখুন।)
কুইজ
Which TWO statements about how the Second World War began are correct?
প্রশ্নটি বাংলায়দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ কীভাবে শুরু হয়েছিল, সে বিষয়ে কোন দুটি বক্তব্য সঠিক? A: 1940 সালে জার্মান বাহিনী ফ্রান্স দখল করে ফেলার পর ব্রিটেন জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। B: 1939 সালে হিটলার পোল্যান্ড আক্রমণ করেন। C: হিটলারের আগ্রাসন থামাতে ব্রিটেন ও ফ্রান্স জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। D: 1933 সালে হিটলার ক্ষমতায় আসামাত্র ব্রিটেন জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে।
1939 সালে হিটলারের পোল্যান্ড আক্রমণই ছিল মোড় ঘোরানো ঘটনা: এরপর তাঁকে আর এগোতে না দিতে ব্রিটেন ও ফ্রান্স জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। হিটলার ক্ষমতা নেন 1933 সালে, কিন্তু তার পরেও বহু বছর ব্রিটিশ সরকার আরেকটি যুদ্ধ এড়ানোর চেষ্টা করে। ফ্রান্সের ভেতর দিয়ে জার্মানির অগ্রযাত্রা ঘটে 1940 সালে, যখন যুদ্ধ আগেই শুরু হয়ে গেছে।
চার্চিল: যে প্রধানমন্ত্রী আত্মসমর্পণ করবেন না
হিটলার আগেই অস্ট্রিয়া দখল করেছিলেন এবং চেকোস্লোভাকিয়া ও পোল্যান্ড আক্রমণ করেছিলেন। এরপর তিনি দখল করেন বেলজিয়াম ও নেদারল্যান্ডস। 1940 সালে জার্মান বাহিনী মিত্রবাহিনীকে হারিয়ে ফ্রান্সের ভেতর দিয়ে ঝড়ের বেগে এগিয়ে যায়। দেশের এই মহাবিপদের মুহূর্তে উইনস্টন চার্চিল (Winston Churchill) প্রধানমন্ত্রী হন এবং যুদ্ধে ব্রিটেনের নেতৃত্ব দেন।
চার্চিল (1874–1965) ছিলেন এক রাজনীতিবিদের ছেলে। তিনি সৈনিক ও সংবাদপত্রের প্রতিবেদক ছিলেন, আর 1900 সালে কনজারভেটিভ (Conservative) দলের হয়ে সংসদে নির্বাচিত হন। 1940 সালের মে মাসে তিনি প্রধানমন্ত্রী হন। তিনি নাৎসিদের কাছে মাথা নত করতে রাজি হননি, আর দেশের সবচেয়ে কঠিন সময়ে গোটা জাতিকে সাহস জুগিয়েছেন। তাঁর যুদ্ধকালীন ভাষণ মানুষ আজও উদ্ধৃত করে:
1940: প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এমপিদের উদ্দেশে প্রথম ভাষণ “… nothing to offer but blood, toil, tears and sweat”
সহজ কথায়: সামনে খুব কঠিন সময়, আর আমি কেবল কঠোর পরিশ্রম ও ত্যাগের প্রতিশ্রুতিই দিতে পারি। ("রক্ত, পরিশ্রম, অশ্রু আর ঘাম ছাড়া দেওয়ার কিছু নেই"; "toil" মানে কঠোর পরিশ্রম।)
1940: ডানকার্কের পর এমপিদের উদ্দেশে ভাষণ “We shall fight on the beaches … we shall never surrender”
সহজ কথায়: শত্রু ব্রিটেনে নামলেও আমরা লড়ে যাব, কখনো হার মানব না। ("আমরা সৈকতে লড়ব … আমরা কখনো আত্মসমর্পণ করব না")
1940: ব্যাটল অব ব্রিটেনের সময় এমপিদের উদ্দেশে ভাষণ “… so much owed by so many to so few”
সহজ কথায়: কোনো যুদ্ধে এত বেশি মানুষ এত ছোট একটি দলের কাছে এত বেশি ঋণী হয়নি, আর সেই দলটি হলো RAF-এর পাইলটরা।
যুদ্ধের পর তাঁর কী হয়েছিল, সেটিও পরীক্ষায় আসে। চার্চিল 1945 সালের সাধারণ নির্বাচনে হেরে যান, কিন্তু 1951 সালে আবার প্রধানমন্ত্রী হয়ে ফেরেন। 1964 সালের সাধারণ নির্বাচন পর্যন্ত তিনি এমপি ছিলেন, আর 1965 সালে তাঁর মৃত্যুর পর তাঁকে রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য (state funeral) দেওয়া হয়। 2002 সালের এক জনমত ভোটে ব্রিটিশরা তাঁকে বেছে নেয় সর্বকালের সেরা ব্রিটিশ হিসেবে।
শীর্ষে ওঠার পথ তাঁর জন্য সোজা ছিল না। 1900 সালে তিনি কনজারভেটিভ এমপি হন ঠিকই, কিন্তু 1904 সালে লিবারেলদের (Liberals) দলে চলে যান, আর কুড়ি বছর পরে আবার কনজারভেটিভদের কাছে ফেরেন। কথিত আছে তিনি রসিকতা করে বলেছিলেন: "Anyone can rat, but it takes a certain amount of ingenuity to re-rat" (যে কেউ দল ছাড়তে পারে, কিন্তু আবার ফিরে আসতে খানিকটা বুদ্ধি লাগে; "to rat" মানে নিজের পক্ষ ছেড়ে যাওয়া), যদিও কথাটি আসলে কোথা থেকে এসেছে তা নিশ্চিত নয়। তিনি ইতিহাস ও স্মৃতিকথার অনেক বইও লেখেন, এবং 1953 সালে পান সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার, শান্তিতে নয়।
কুইজ
Which TWO statements about Winston Churchill are correct?
প্রশ্নটি বাংলায়উইনস্টন চার্চিল সম্পর্কে কোন দুটি বক্তব্য সঠিক? A: তিনি 1945 সালের সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হন। B: তিনি 1900 সালে কনজারভেটিভ এমপি হন। C: প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। D: 2002 সালের এক জনমত ভোটে তাঁকে সর্বকালের সেরা ব্রিটিশ বলা হয়।
চার্চিল 1900 সালে কনজারভেটিভ এমপি হন এবং 2002 সালে ভোটে সেরা ব্রিটিশ নির্বাচিত হন। 1945 সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি হেরে যান; জিতেছিলেন লেবার পার্টির (Labour) ক্লেমেন্ট অ্যাটলি (Clement Attlee)। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এইচ. এইচ. অ্যাসকুইথ (H. H. Asquith) ও ডেভিড লয়েড জর্জ (David Lloyd George), চার্চিল নন।
ডানকার্ক: সৈকত থেকে 3,00,000 সৈন্য উদ্ধার
ফ্রান্সের পতনের সময় ব্রিটিশ ও ফরাসি সৈন্যরা উত্তর ফ্রান্সের উপকূলে ডানকার্কে (Dunkirk) জার্মান বাহিনীর ফাঁদে আটকা পড়ে। ব্রিটেন সমুদ্রপথে বিশাল এক অভিযানে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয়। নৌবাহিনীর পাশাপাশি অনেক সাধারণ মানুষ স্বেচ্ছায় নিজেদের ছোট নৌকা, যেমন প্রমোদতরী ও মাছ ধরার নৌকা, নিয়ে চ্যানেল পেরিয়ে সাহায্য করতে যায়। সবাই মিলে তারা ডানকার্কের আশপাশের সৈকত থেকে 3,00,000-এরও বেশি সৈন্য ফিরিয়ে আনে।
অনেক প্রাণহানি হয় এবং প্রচুর সরঞ্জাম ফেলে আসতে হয়, তবু এই উদ্ধার অভিযান ছিল সফল, কারণ এর ফলে ব্রিটেন জার্মানির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে পারে। এটি ইংরেজি ভাষাকে একটি নতুন কথাও দেয়, "ডানকার্ক স্পিরিট" (the Dunkirk spirit), যার মানে কঠিন সময়ে মানুষ একজোট থাকে আর হাল ছাড়ে না।
অ্যাডিসন রোড স্টেশন, লন্ডন, 31 মে 1940। ডানকার্ক থেকে সদ্য ফেরা সৈন্যদের ট্রেনে গরম চা দেওয়া হচ্ছে।
ছবি: Mr Saidman, War Office official photographer, Imperial War Museums H 1630, public domain, Wikimedia Commons-এর মাধ্যমে
কুইজ
Which of the following statements is correct?
প্রশ্নটি বাংলায়নিচের কোন বক্তব্যটি সঠিক? A: ছোট নৌকা নিয়ে আসা বেসামরিক স্বেচ্ছাসেবকেরা ডানকার্ক থেকে 3,00,000-এরও বেশি সৈন্য উদ্ধারে নৌবাহিনীকে সাহায্য করে। B: ডানকার্ক থেকে সৈন্য সরিয়ে আনা হয় 1944 সালে, ডি-ডে অবতরণের পরে।
ডানকার্ক ছিল 1940 সালে, যখন ব্রিটিশ সৈন্যরা ইউরোপ থেকে বেরিয়ে আসছিল; 1944 সালের ডি-ডে ছিল মিত্রশক্তির আবার ইউরোপে ঢোকার দিন। একটিতে বেরোনো, একটিতে ঢোকা, মাঝে চার বছরের ব্যবধান।
ব্যাটল অব ব্রিটেন ও ব্লিৎজ
হিটলার ব্রিটেন আক্রমণ করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু সমুদ্র পেরিয়ে সৈন্য পাঠানোর আগে জার্মানিকে আকাশের দখল নিতে হতো। তাই জার্মান বিমানবাহিনী আকাশপথে ব্রিটেনে হামলা চালায়। ব্রিটেন তার যুদ্ধবিমান নিয়ে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে এবং 1940 সালের গ্রীষ্মে আকাশের এই গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে জয়ী হয়, যা ব্যাটল অব ব্রিটেন (Battle of Britain) নামে পরিচিত। RAF-এর (Royal Air Force, রয়্যাল এয়ার ফোর্স) দুটি প্রধান বিমান ছিল Spitfire (স্পিটফায়ার) আর Hurricane (হারিকেন), দুটিই ব্রিটেনে নকশা ও নির্মাণ করা।
আকাশযুদ্ধে হারার পরেও জার্মান বিমানবাহিনী রাতে লন্ডন ও অন্যান্য শহরে বোমা ফেলতে থাকে। এটিই ব্লিৎজ (the Blitz)। কভেন্ট্রি (Coventry) প্রায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়, আর অন্য শহরগুলোও মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়, বিশেষ করে লন্ডনের ইস্ট এন্ড (East End)।
ঘরবাড়ি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হলেও ব্রিটেনের মানুষ অসীম সাহস দেখায় এবং হার মানতে অস্বীকার করে। আজ ব্রিটিশরা যখন "ব্লিৎজ স্পিরিট" (the Blitz spirit) বলে, তারা বোঝায় কঠিন সময়ে সবাই একে অপরকে সাহায্য করা।
1940 সালের 14 নভেম্বর রাতের বিমান হামলার পর কভেন্ট্রির মধ্যযুগীয় ক্যাথেড্রালের কেবল বাইরের দেয়াল আর মিনারটুকু টিকে ছিল। হামলার কিছুদিন পর একজন সরকারি যুদ্ধশিল্পী এটি আঁকেন। যুদ্ধের পর ধ্বংসাবশেষের পাশে নতুন একটি ক্যাথেড্রাল তৈরি হয়, আর ধ্বংসাবশেষটি রেখে দেওয়া হয় শান্তি ও স্মরণের প্রতীক হিসেবে।
চিত্র: Randolph Schwabe, Imperial War Museums, public domain, Wikimedia Commons-এর মাধ্যমে
ব্লিৎজ চলে 1940 সালের সেপ্টেম্বর থেকে 1941 সালের মে পর্যন্ত, আর 40,000-এরও বেশি বেসামরিক মানুষ নিহত হয়। প্রতি রাতে হাজার হাজার লন্ডনবাসী কম্বল নিয়ে আন্ডারগ্রাউন্ড (Underground, পাতাল রেল) স্টেশনে ঘুমাতে নামত। বাকিংহাম প্যালেসেও (Buckingham Palace) বোমা পড়ে, আর রানি এলিজাবেথ (পরে কুইন মাদার, Queen Mother, নামে পরিচিত) বলেছিলেন বলে জানা যায়, এখন তিনি বোমায় বিধ্বস্ত ইস্ট এন্ডের মানুষের চোখে চোখ রাখতে পারবেন। ষষ্ঠ জর্জ ও তাঁর পরিবার বিদেশে না গিয়ে পুরো যুদ্ধের সময় ব্রিটেনেই ছিলেন।
ব্যাটল অব ব্রিটেনের পাইলটরা পরিচিত হন "দ্য ফিউ" (the Few, অল্প কয়েকজন) নামে, অর্থাৎ চার্চিলের বিখ্যাত উক্তির সেই "so few"। তাঁদের অনেকে এসেছিলেন অন্য দেশ থেকে; পোলিশ পাইলটদের নিয়ে গড়া নং 303 স্কোয়াড্রনের (No. 303 Squadron) সাফল্য ছিল বিশেষভাবে উজ্জ্বল।
কুইজ
In the Battle of Britain, which TWO aircraft did the most to help the RAF defend the country?
প্রশ্নটি বাংলায়ব্যাটল অব ব্রিটেনে দেশ রক্ষায় RAF-কে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করেছিল কোন দুটি বিমান?
স্পিটফায়ার আর হারিকেন। কনকর্ড (Concorde) ছিল একটি সুপারসনিক যাত্রীবাহী বিমান, যা প্রথম উড়েছিল 1969 সালে, আর হ্যারিয়ার জাম্প জেটও (Harrier jump jet) যুদ্ধ-পরবর্তী উদ্ভাবন; দুটিকেই পাবেন পরের অধ্যায়ে।
বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ
ব্রিটেন যখন দেশের ভেতরে আত্মরক্ষা করছিল, তার বাহিনী তখন পৃথিবীর আরও অনেক জায়গায় অক্ষশক্তির বিরুদ্ধে লড়ছিল। এশিয়ায় জাপান সিঙ্গাপুরে ব্রিটিশদের হারায় এবং তারপর বার্মা (Burma) দখল করে, যা ভারতকে বিপদে ফেলে।
1941 সালে দুটি ঘটনা যুদ্ধের গতিপথ বদলে দেয়:
ডিসেম্বরে জাপান পার্ল হারবারে (Pearl Harbor) মার্কিন নৌঘাঁটিতে বোমা ফেলে, আর যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে যোগ দেয়।
একই বছর হিটলার সোভিয়েত ইউনিয়ন আক্রমণ করে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অভিযান শুরু করেন। দুই পক্ষেরই বিপুল প্রাণহানি হয়, আর শেষ পর্যন্ত সোভিয়েতরা জার্মানদের পিছু হটিয়ে দেয়। এটি ছিল যুদ্ধের একটি মোড় ঘোরানো ঘটনা।
ধীরে ধীরে মিত্রশক্তি এগিয়ে যায়, উত্তর আফ্রিকা ও ইতালিতে গুরুত্বপূর্ণ জয় পায়। সোভিয়েত ইউনিয়নে জার্মানির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি আর আমেরিকার সহায়তা মিলে শেষ পর্যন্ত মিত্রশক্তি পশ্চিম ইউরোপে হিটলারের বাহিনীর মোকাবিলা করার মতো শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
ডি-ডে: নরম্যান্ডিতে অবতরণ
1944 সালের 6 জুন মিত্রবাহিনীর সৈন্যরা ফ্রান্সের নরম্যান্ডিতে (Normandy) অবতরণ করে; দিনটি সাধারণত ডি-ডে (D-Day) নামে পরিচিত। নরম্যান্ডির সৈকতে জয়ের পর তারা লড়াই করে ফ্রান্স পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত জার্মানিতে ঢোকে।
নরম্যান্ডির সোর্ড বিচে (Sword Beach) ব্রিটিশ সৈন্য ও নৌবাহিনীর সৈকত দল, 6 জুন 1944।
ছবি: Capt. Knight, No 5 Army Film & Photographic Unit, Imperial War Museums B 5116, public domain, Wikimedia Commons-এর মাধ্যমে
"D" অক্ষরটির বিশেষ কোনো অর্থ নেই: এর মানে শুধু "দিন"। সামরিক বাহিনী কোনো অভিযান শুরুর দিনকে বলত "D-Day", আগের দিনকে D-1 আর পরের দিনকে D+1, যাতে তারিখ বদলালে পুরো পরিকল্পনা নতুন করে লিখতে না হয়। এখানে এটি কাজে লেগেছিল, কারণ অবতরণের পরিকল্পনা প্রথমে ছিল 5 জুন, আর খারাপ আবহাওয়ার জন্য তা এক দিন পিছিয়ে যায়। মিত্রবাহিনীর 1,50,000-এরও বেশি সৈন্য পাঁচটি সৈকতে নামে: ইউটা (Utah) ও ওমাহা (Omaha) (আমেরিকান), গোল্ড (Gold) ও সোর্ড (Sword) (ব্রিটিশ), এবং জুনো (Juno) (কানাডীয়)।
কুইজ
On what date did allied forces land in Normandy, in what is often called D-Day?
প্রশ্নটি বাংলায়কোন তারিখে মিত্রবাহিনী নরম্যান্ডিতে অবতরণ করে, যে দিনটিকে প্রায়ই ডি-ডে বলা হয়?
6 জুন 1944। বাকি তিনটি তারিখও এই অধ্যায়েই আছে: 11 নভেম্বর 1918 প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শেষ, 1 জুলাই 1916 সোমের প্রথম দিন, আর 8 মে 1945 ভিই ডে (VE Day, Victory in Europe Day, ইউরোপে বিজয় দিবস)।
বিজয়: প্রথমে জার্মানি, তারপর জাপান
1945 সালের মে মাসে মিত্রশক্তি জার্মানিকে সম্পূর্ণ পরাজিত করে। জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলে 1945 সালের আগস্ট পর্যন্ত, যখন যুক্তরাষ্ট্র জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে তার নতুন পারমাণবিক বোমা ফেলে। এরপর জাপান আত্মসমর্পণ করে, আর যুদ্ধ শেষ হয়।
পারমাণবিক বোমার কাহিনিতে ব্রিটিশ বিজ্ঞানীদেরও ভূমিকা ছিল। নিউজিল্যান্ডে জন্ম নেওয়া পদার্থবিজ্ঞানী আর্নেস্ট রাদারফোর্ডের (Ernest Rutherford) নেতৃত্বে একটি দল, প্রথমে ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে (University of Manchester) এবং পরে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে (University of Cambridge) কাজ করে, সবার আগে "পরমাণু বিভাজন" (split the atom) করে। পরে বেশ কয়েকজন ব্রিটিশ বিজ্ঞানী যোগ দেন ম্যানহাটন প্রজেক্টে (Manhattan Project), যে মার্কিন কর্মসূচিতে পারমাণবিক বোমা তৈরি হয়।
ভিই ডে, 8 মে 1945: লন্ডনের হোয়াইটহলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের (Ministry of Health) বারান্দা থেকে চার্চিল জনতার উদ্দেশে বিজয়ের V চিহ্ন দেখাচ্ছেন। সেদিন সন্ধ্যায় 19 বছর বয়সী রাজকুমারী এলিজাবেথ (পরে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ, Elizabeth II) ও তাঁর বোন রাজকুমারী মার্গারেট তাঁদের বাবা ষষ্ঠ জর্জের অনুমতি নিয়ে একদল কর্মকর্তার সঙ্গে চুপিচুপি বাকিংহাম প্যালেস থেকে বেরিয়ে জনতার ভিড়ে মিশে যান। কেউ তাঁদের চিনতে পারেনি, আর বহু বছর পর রানি এটিকে জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় রাতগুলোর একটি হিসেবে মনে করেছিলেন।
ছবি: Major W. G. Horton, War Office official photographer, Imperial War Museums H 41849, public domain, Wikimedia Commons-এর মাধ্যমে
কুইজ
Which of the following statements is correct?
প্রশ্নটি বাংলায়নিচের কোন বক্তব্যটি সঠিক? A: জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শেষ হয় 1945 সালের মে মাসে, জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধের একই সময়ে। B: আর্নেস্ট রাদারফোর্ডের নেতৃত্বে বিজ্ঞানীরা সবার আগে পরমাণু বিভাজন করেন।
রাদারফোর্ডের নেতৃত্বে বিজ্ঞানীরা সবার আগে পরমাণু বিভাজন করেন। জার্মানি পরাজিত হয় 1945 সালের মে মাসে, কিন্তু জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শেষ হয় কেবল 1945 সালের আগস্টে, পারমাণবিক বোমা ফেলার পর।
ফ্লেমিং ও পেনিসিলিন
এই অধ্যায় শেষ করছি এমন এক স্কটকে দিয়ে, যিনি চিকিৎসাবিজ্ঞান বদলে দেন: আলেকজান্ডার ফ্লেমিং (Alexander Fleming, 1881–1955)। স্কটল্যান্ডে জন্ম নিয়ে কৈশোরে তিনি লন্ডনে চলে আসেন এবং পরে ডাক্তারি পড়েন। 1928 সালে ইনফ্লুয়েঞ্জা নিয়ে গবেষণা করার সময় তিনি পেনিসিলিন (penicillin) আবিষ্কার করেন।
তবে ফ্লেমিং কেবল আবিষ্কারটুকু করেছিলেন। পেনিসিলিনকে মানুষের সেবনযোগ্য ওষুধে পরিণত করার কাজটি করেন আরও দুই বিজ্ঞানী, হাওয়ার্ড ফ্লোরি (Howard Florey) ও আর্নস্ট চেইন (Ernst Chain), আর 1940-এর দশকের মধ্যে এটি বিপুল পরিমাণে তৈরি হতে থাকে। 1945 সালে ফ্লেমিং চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান, আর ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের চিকিৎসায় ডাক্তাররা আজও পেনিসিলিন ব্যবহার করেন।
আবিষ্কারের শুরু একটি অগোছালো টেবিল থেকে। 1928 সালের গ্রীষ্মে ছুটি কাটিয়ে লন্ডনের গবেষণাগারে ফিরে ফ্লেমিং দেখেন, বাইরে ফেলে রাখা ব্যাকটেরিয়ার একটি পাত্রে ছত্রাক জন্মেছে, আর ছত্রাকের চারপাশের সব ব্যাকটেরিয়া মরে গেছে। পাত্রটি ফেলে না দিয়ে তিনি এর কারণ খুঁজতে শুরু করেন, আর তা থেকেই পৌঁছান পেনিসিলিনে। 1945 সালের নোবেল পুরস্কার আসলে তিনজনে ভাগ করে পান: ফ্লেমিং, ফ্লোরি ও চেইন।
ইউরোপে যুদ্ধজয়ের পর 1945 সালের জুলাইয়ে ব্রিটেনে দশ বছরের মধ্যে প্রথম সাধারণ নির্বাচন হয়। ভোটাররা যা বেছে নিয়েছিল, তা পরের কয়েক দশক দেশকে গড়ে তোলে।
কুইজ
Who discovered penicillin in 1928?
প্রশ্নটি বাংলায়1928 সালে পেনিসিলিন কে আবিষ্কার করেন?
ফ্লেমিং পেনিসিলিন আবিষ্কার করেন, আর ফ্লোরি ও চেইন একে ওষুধে পরিণত করেন। বাকি তিনজন আছেন পরের অধ্যায়ের 20শ শতকের ব্রিটিশ উদ্ভাবনের তালিকায়: ম্যাকলিওড মানে ইনসুলিন, ওয়াটসন-ওয়াট মানে রাডার, আর ক্রিক (Crick) মানে ডিএনএ-র গঠন। উদ্ভাবকদের তাঁদের উদ্ভাবনের সঙ্গে মেলানো খুবই সাধারণ ধরনের প্রশ্ন।
আর্চডিউক ফ্রানৎস ফার্দিনান্দ নিহত, যা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের (1914–1918) দিকে নিয়ে যায়
মিত্রশক্তি বনাম কেন্দ্রীয় শক্তি
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ: মিত্রশক্তি (ব্রিটেন, ফ্রান্স, রাশিয়া, জাপান, বেলজিয়াম, সার্বিয়া) বনাম কেন্দ্রীয় শক্তি (জার্মানি, অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি, অটোমান সাম্রাজ্য)
ব্রিটিশ সাম্রাজ্য
দশ লাখেরও বেশি ভারতীয় লড়ে, প্রায় 40,000 মারা যায়; ব্রিটেনের হতাহত 20 লাখের বেশি
1916 সোম
প্রথম দিনেই প্রায় 60,000 ব্রিটিশ হতাহত
সকাল 11টা, 11 নভেম্বর 1918
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অবসান; রিমেমব্রান্স ডে, পপি, হোয়াইটহলের সেনোটাফ
1918 / 1928 ভোটাধিকার
1918: 30-ঊর্ধ্ব নারী; 1928: 21 বছরের নারী, পুরুষদের সমান
আয়ারল্যান্ড 1916–1922
1916 ইস্টার রাইজিং; 1921 চুক্তি; 1922 নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড (যুক্তরাজ্যে থাকে) ও আইরিশ ফ্রি স্টেটে বিভাজন; 1949 থেকে প্রজাতন্ত্র
1929 মহামন্দা
জাহাজনির্মাণ ক্ষতিগ্রস্ত, গাড়ি ও বিমান শিল্পের প্রসার; গাড়ি 10 লাখ থেকে 20 লাখ
বিবিসি 1922 / 1936
1922 থেকে রেডিও; 1936 সালে বিশ্বের প্রথম নিয়মিত টিভি সেবা
1939
হিটলার (1933 থেকে ক্ষমতায়) পোল্যান্ড আক্রমণ করেন, ব্রিটেন ও ফ্রান্স যুদ্ধ ঘোষণা করে; অক্ষশক্তি: জার্মানি, ইতালি, জাপান
চার্চিল
1940 সালের মে থেকে প্রধানমন্ত্রী; কনজারভেটিভ; 1945 সালে হার, 1951 সালে আবার প্রধানমন্ত্রী; 2002 সালে সেরা ব্রিটিশ
1940 ডানকার্ক
বেসামরিক ছোট নৌকা নৌবাহিনীকে 3,00,000-এরও বেশি সৈন্য উদ্ধারে সাহায্য করে; ডানকার্ক স্পিরিট
1940 ব্যাটল অব ব্রিটেন
স্পিটফায়ার ও হারিকেন
ব্লিৎজ
কভেন্ট্রি প্রায় ধ্বংস, ইস্ট এন্ড মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত; ব্লিৎজ স্পিরিট
1941
পার্ল হারবারের পর যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে যোগ দেয়; জার্মানি সোভিয়েত ইউনিয়ন আক্রমণ করে
6 জুন 1944 ডি-ডে
নরম্যান্ডিতে মিত্রবাহিনীর অবতরণ
মে / আগস্ট 1945
মে মাসে জার্মানি পরাজিত; হিরোশিমা ও নাগাসাকির পর আগস্টে জাপানের আত্মসমর্পণ; রাদারফোর্ডের দল প্রথম পরমাণু বিভাজন করে, পরে ব্রিটিশ বিজ্ঞানীরা ম্যানহাটন প্রজেক্টে যোগ দেন
1928 ফ্লেমিং
পেনিসিলিন আবিষ্কারক এক স্কট; ফ্লোরি ও চেইন একে ওষুধে পরিণত করেন, 1940-এর দশকে ব্যাপক উৎপাদন; 1945 সালে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল