সূচিকর্মের ঢঙে আঁকা ছবি: তিন মাস্তুলের একটি যুদ্ধজাহাজ, একটি বাষ্পচালিত রেলইঞ্জিন আর কারখানার চিমনি
হ্যান্ডবুক
অধ্যায় 3: ইতিহাস
সময়কাল
আনুমানিক 1714–1902
পড়ার সময়
প্রায় 25 মিনিট
কুইজ
20 প্রশ্ন

এক বিশ্বশক্তি: শিল্প বিপ্লব ও সাম্রাজ্য

1714 সালে ব্রিটেন একজন জার্মানকে তাদের রাজা হওয়ার আমন্ত্রণ জানায়, যাঁর সম্পর্কে বলা হতো তিনি ইংরেজি প্রায় বলতেই পারতেন না। দুশো বছরও যায়নি, এই ছোট্ট দ্বীপদেশটি তখন পৃথিবীর প্রায় এক-চতুর্থাংশ মানুষকে শাসন করছে, আর বিশ্বের অর্ধেকেরও বেশি লোহা, কয়লা ও সুতি কাপড় তৈরি করছে। কীভাবে এটি হয়ে উঠল "যে সাম্রাজ্যে সূর্য কখনো অস্ত যায় না"? উত্তর লুকিয়ে আছে বাষ্পীয় ইঞ্জিন, খাল আর যুদ্ধজাহাজে, এবং এমন অনেক গল্পে যেগুলো মোটেও গৌরবের নয়।

ব্রিটেনের মানচিত্র, 1714 থেকে 1900: কালোডেনের যুদ্ধ, হাইল্যান্ড ক্লিয়ারেন্স ও আইরিশ দুর্ভিক্ষের পর দেশান্তরের পথ, এডিনবরা ও গ্লাসগো, লিভারপুল থেকে ম্যানচেস্টার রেলপথ, ক্রমফোর্ডের কারখানা, ব্রিস্টল থেকে লন্ডন পর্যন্ত গ্রেট ওয়েস্টার্ন রেলওয়ে, পোর্টসমাউথ, ওয়াটারলু, এবং দক্ষিণে ট্রাফালগারের দিকে নির্দেশ করা একটি তীর
এই অধ্যায়ের জায়গাগুলো। ⚔ চিহ্ন দিয়ে যুদ্ধ বোঝানো হয়েছে, লাল রেখাগুলো প্রথম দিকের রেলপথ আর নীল বিন্দুরেখাগুলো দেশান্তরের পথ। ট্রাফালগার স্পেনের দক্ষিণ উপকূলের কাছে, মানচিত্রের সীমানার বাইরে।
  1. 1714প্রথম জর্জ জার্মানি থেকে এসে রাজা হন
  2. 1721ওয়ালপোল প্রথম প্রধানমন্ত্রী হন
  3. 1746কালোডেনের যুদ্ধ: বনি প্রিন্স চার্লি পরাজিত হন
  4. 1776উত্তর আমেরিকার তেরোটি উপনিবেশ স্বাধীনতা ঘোষণা করে
  5. 1801আয়ারল্যান্ড ইউনিয়নে যোগ দেয় এবং জন্ম নেয় ইউনিয়ন ফ্ল্যাগ
  6. 1805ট্রাফালগারের যুদ্ধ: নেলসন জেতেন, কিন্তু নিহত হন
  7. 1807ব্রিটিশ জাহাজ ও বন্দর ব্যবহার করে দাস কেনাবেচা নিষিদ্ধ হয়
  8. 1815ওয়াটারলুর যুদ্ধ: ডিউক অব ওয়েলিংটন নেপোলিয়নকে পরাজিত করেন
  9. 1832রিফর্ম অ্যাক্ট আরও বেশি মানুষকে ভোটের অধিকার দেয়
  10. 1833ইমানসিপেশন অ্যাক্ট পুরো সাম্রাজ্যে দাসপ্রথার অবসান ঘটায়
  11. 183718 বছর বয়সে রানি ভিক্টোরিয়া সিংহাসনে বসেন
  12. 1851ক্রিস্টাল প্যালেসে গ্রেট এক্সিবিশন শুরু হয়
  13. 1853–56ক্রিমিয়ার যুদ্ধ
  14. 1899–1902বোয়ার যুদ্ধ
  15. 1901প্রায় 64 বছর সিংহাসনে থাকার পর রানি ভিক্টোরিয়ার মৃত্যু

জার্মানি থেকে আসা রাজা, আর প্রথম প্রধানমন্ত্রী

আগের অধ্যায়ে যেমন বলা হয়েছে, রানি অ্যান (Queen Anne) কোনো সন্তান রেখে যাননি। 1714 সালে তাঁর মৃত্যুর পর সংসদ (Parliament) পরবর্তী রাজা হিসেবে বেছে নেয় এক জার্মান রাজপুত্রকে: প্রথম জর্জ (George I)। কেন তিনি? অ্যানের সব আত্মীয়ের মধ্যে তিনিই ছিলেন সবচেয়ে নিকটাত্মীয় যিনি প্রোটেস্ট্যান্ট। তিনি ছিলেন হ্যানোভার রাজবংশের (House of Hanover) প্রথম রাজাও।

স্কটল্যান্ডে জ্যাকোবাইটরা (Jacobites) তাঁকে রাজা হিসেবে মানতে রাজি হয়নি। তারা চেয়েছিল দ্বিতীয় জেমসের (James II) ছেলে সিংহাসনে বসুক, কিন্তু অল্পদিনেই তারা হেরে যায়।

প্রথম জর্জের ইংরেজি দুর্বল ছিল, তাই তিনি মন্ত্রীদের ওপর অনেকটাই নির্ভর করতেন। সংসদের প্রধান মন্ত্রীকে পরে বলা হতে লাগল প্রধানমন্ত্রী (Prime Minister)। ব্রিটেনের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন স্যার রবার্ট ওয়ালপোল (Sir Robert Walpole), যিনি 1721 থেকে 1742 পর্যন্ত এই পদে ছিলেন।

ব্রিটেনের সবচেয়ে বিখ্যাত ঠিকানাটিও ওয়ালপোলেরই দেওয়া। রাজা দ্বিতীয় জর্জ (George II) তাঁকে লন্ডনের ডাউনিং স্ট্রিটে (Downing Street) একটি বাড়ি উপহার দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু ওয়ালপোল অনুরোধ করেন বাড়িটি যেন ফার্স্ট লর্ড অব দ্য ট্রেজারি (First Lord of the Treasury) পদের সঙ্গে যুক্ত থাকে, যাতে তাঁর পরে যিনিই এই দায়িত্বে আসুন, তিনিও সেখানে থাকতে পারেন। তিনি 1735 সালে সেখানে ওঠেন, আর তখন থেকেই 10 Downing Street প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন।

কুইজ

Who was the first Prime Minister of Britain?

প্রশ্নটি বাংলায়ব্রিটেনের প্রথম প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?

শেষ বিদ্রোহ: বনি প্রিন্স চার্লি ও কালোডেন

1745 সালে স্টুয়ার্ট (Stuart) পরিবার আরও একবার সিংহাসন ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করে, এবার প্রথম জর্জের ছেলে দ্বিতীয় জর্জের কাছ থেকে। এই চেষ্টার নেতৃত্ব দেন দ্বিতীয় জেমসের নাতি চার্লস এডওয়ার্ড স্টুয়ার্ট (Charles Edward Stuart), যিনি বেশি পরিচিত বনি প্রিন্স চার্লি (Bonnie Prince Charlie) নামে।

তিনি স্কটল্যান্ডে নামেন, আর সেখানে হাইল্যান্ডস (Highlands, স্কটল্যান্ডের পার্বত্য অঞ্চল)-এর গোত্রগুলো (clans) তাঁকে সমর্থন দিয়ে একটি সেনাবাহিনী গড়ে তোলে। শুরুর দিকে কয়েকটি যুদ্ধে তিনি জেতেন, কিন্তু 1746 সালে কালোডেনের যুদ্ধে (Battle of Culloden) দ্বিতীয় জর্জের সেনাবাহিনী তাঁকে পরাজিত করে। চার্লস পালিয়ে আবার ইউরোপের মূল ভূখণ্ডে ফিরে যান।

18শ শতকের তেলচিত্র: কালোডেনের যুদ্ধে লাল কোট পরা সরকারি সৈন্যরা টারটান পরা হাইল্যান্ডারদের সঙ্গে হাতাহাতি লড়ছে
ডেভিড মোরিয়ের (David Morier) আঁকা কালোডেনের যুদ্ধের ছবি। এর মূল শিরোনাম An Incident in the Rebellion of 1745। চিত্র: David Morier, Royal Collection Trust, public domain, Wikimedia Commons-এর মাধ্যমে

কালোডেনের লড়াই এক ঘণ্টারও কম সময়ে শেষ হয়ে যায়, আর একে প্রায়ই ব্রিটিশ মাটিতে লড়া শেষ "পিচড ব্যাটল" (pitched battle, অর্থাৎ দুই পূর্ণ সেনাবাহিনীর মধ্যে পরিকল্পিত যুদ্ধ) বলা হয়। এরপর চার্লস মাসের পর মাস হাইল্যান্ডস আর দ্বীপগুলোতে লুকিয়ে ছিলেন। ফ্লোরা ম্যাকডোনাল্ড (Flora MacDonald) নামে এক নারী তাঁকে "বেটি বার্ক" (Betty Burke) নামের এক আইরিশ পরিচারিকার ছদ্মবেশে নৌকায় করে আইল অব স্কাই (Isle of Skye) পর্যন্ত পালাতে সাহায্য করেন। পরে লেখা একটি স্কটিশ গান, "স্কাই বোট সং" (Skye Boat Song), এই পালানোরই গল্প বলে।

গোত্রব্যবস্থার অবসান ও হাইল্যান্ড ক্লিয়ারেন্স

কালোডেনের পর গোত্রগুলো তাদের ক্ষমতা ও প্রভাবের বেশিরভাগই হারায়। যেসব গোত্রপ্রধান ইংরেজ রাজার আস্থাভাজন ছিলেন, তাঁরা জমিদার হয়ে যান, আর তাঁদের গোত্রের লোকেরা হয়ে যায় খাজনা-দেওয়া প্রজা।

স্কটল্যান্ডের অনেক জমিদার ক্রফট (crofts) নামে পরিচিত ছোট ছোট খামার উচ্ছেদ করে বড় বড় ভেড়ার পাল আর গবাদিপশুর জন্য জায়গা করেন। এটিই হাইল্যান্ড ক্লিয়ারেন্স (Highland Clearances) নামে পরিচিত। 19শ শতকের শুরুর দিকে মানুষকে জোর করে জমি থেকে উচ্ছেদ করা খুবই সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়, আর এই সময়ে বহু স্কট উত্তর আমেরিকায় চলে যান।

কুইজ

Is the statement below TRUE or FALSE? In the Highland Clearances, Scottish landlords got rid of crofts (small farms) to make room for sheep and cattle.

প্রশ্নটি বাংলায়নিচের বক্তব্যটি সত্য (TRUE) নাকি মিথ্যা (FALSE)? বক্তব্য: হাইল্যান্ড ক্লিয়ারেন্সে স্কটল্যান্ডের জমিদাররা ভেড়া ও গবাদিপশুর জায়গা করতে ক্রফট (ছোট খামার) উচ্ছেদ করেছিলেন।

কুইজ

Is the statement below TRUE or FALSE? Bonnie Prince Charlie defeated the army of George II at the Battle of Culloden in 1746.

প্রশ্নটি বাংলায়নিচের বক্তব্যটি সত্য (TRUE) নাকি মিথ্যা (FALSE)? বক্তব্য: 1746 সালে কালোডেনের যুদ্ধে বনি প্রিন্স চার্লি দ্বিতীয় জর্জের সেনাবাহিনীকে পরাজিত করেন।

এনলাইটেনমেন্ট: স্কটল্যান্ডের মহান চিন্তাবিদেরা

হাইল্যান্ডের পরিবারগুলো যখন জমি থেকে উচ্ছেদ হচ্ছিল, তখন স্কটল্যান্ডের বিশ্ববিদ্যালয় আর শহরগুলো প্রবেশ করছিল চিন্তার এক স্বর্ণযুগে। 18শ শতকে রাজনীতি, দর্শন ও বিজ্ঞানে প্রচুর নতুন ধারণা দেখা দেয়। এই সময়কে বলা হয় এনলাইটেনমেন্ট (the Enlightenment, আলোকায়নের যুগ)। এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চিন্তাবিদদের অনেকেই ছিলেন স্কটিশ:

অ্যাডাম স্মিথ (Adam Smith)
অর্থনীতি নিয়ে এমন সব ধারণা, যা মানুষ আজও উদ্ধৃত করে
ডেভিড হিউম (David Hume)
মানুষের স্বভাব নিয়ে লিখেছেন, দার্শনিকদের ওপর আজও তাঁর প্রভাব আছে
জেমস ওয়াট (James Watt)
বাষ্পশক্তি নিয়ে তাঁর কাজ শিল্প বিপ্লবকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করে

এনলাইটেনমেন্টের একটি মূল ধারণা ছিল, মানুষ নিজের পছন্দমতো রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিশ্বাস রাখার স্বাধীনতা পাবে, আর রাষ্ট্র তাদের বলে দেবে না কী বিশ্বাস করতে হবে। আজও যুক্তরাজ্যে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি।

আসলে বাষ্পীয় ইঞ্জিন ওয়াট আবিষ্কার করেননি। আগের ইঞ্জিনগুলো মূলত খনি থেকে পানি পাম্প করে বের করতে ব্যবহার হতো, আর সেগুলো বিপুল পরিমাণ কয়লা পোড়াত। গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ে (University of Glasgow) এমন একটি পুরোনো ইঞ্জিন মেরামত করতে গিয়ে ওয়াটের মাথায় একটি "আলাদা কনডেন্সার" (separate condenser) যোগ করার ভাবনা আসে, যা ইঞ্জিনটিকে অনেক বেশি দক্ষ করে তোলে। বৈদ্যুতিক জিনিসপত্রে যে ক্ষমতার একক "ওয়াট" দেখেন, সেটি তাঁর নামেই। অ্যাডাম স্মিথের সবচেয়ে বিখ্যাত বই The Wealth of Nations প্রকাশিত হয় 1776 সালে, যে বছর যুক্তরাষ্ট্র স্বাধীনতা ঘোষণা করে।

কবি রবার্ট বার্নস (Robert Burns, 1759–1796) একই স্কটিশ যুগের মানুষ। স্কটল্যান্ডে তিনি "দ্য বার্ড" (The Bard, অর্থাৎ কবি) নামে পরিচিত। তিনি স্কটস (Scots) ভাষায় ও ইংরেজিতে কবিতা লিখেছেন, আর অনেক পুরোনো লোকগীতি নতুন করে লিখেছেন। তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত রচনা Auld Lang Syne, যা ব্রিটেনের মানুষ নববর্ষে একসঙ্গে গায়। এর সুর বহু দূর পৌঁছেছে: অনেক দেশে এটি সমাবর্তন আর বিদায় অনুষ্ঠানেও গাওয়া হয়।

কুইজ

Which TWO were important Scottish thinkers of the Enlightenment?

প্রশ্নটি বাংলায়নিচের কোন দুজন এনলাইটেনমেন্ট যুগের গুরুত্বপূর্ণ স্কটিশ চিন্তাবিদ ছিলেন?

শিল্প বিপ্লব: বিশ্বের প্রথম শিল্পোন্নত দেশ

নতুন ধারণাগুলো শুধু মানুষের চিন্তাই বদলায়নি, শিগগিরই বদলে দেয় কাজের ধরনও। 18শ শতকের আগে ব্রিটেনের বেশিরভাগ মানুষ কাজ করত কৃষিজমিতে। এ ছাড়া ছিল অনেক কুটিরশিল্প (cottage industries), যেখানে পরিবারগুলো ঘরে বসে কাপড় বা লেস তৈরি করত।

18শ ও 19শ শতকে ব্রিটেনে শিল্প খুব দ্রুত বাড়ে। এটিই শিল্প বিপ্লব (Industrial Revolution)। ব্রিটেন ছিল পৃথিবীর প্রথম দেশ যেখানে বড় আকারে শিল্পায়ন ঘটে। মূল চাবিকাঠি ছিল নতুন যন্ত্র আর বাষ্পশক্তি: কৃষি ও উৎপাদন দুই ক্ষেত্রেই যন্ত্রের ব্যবহার শুরু হয়, ফলে কাজ দ্রুত হয় আর উৎপাদন অনেক বেড়ে যায়।

রেখাচিত্র: ওপরের সারিতে কয়লা, বাষ্পশক্তি, কারখানা ও ব্যাপক হারে তৈরি পণ্য; নিচের সারিতে লোহার আকরিক, বেসেমার প্রক্রিয়া, রেলপথ ও জাহাজ, এবং খাল ও বন্দর; একেবারে নিচে মানুষ কাজের খোঁজে গ্রাম ছেড়ে শহরে যাচ্ছে
শিল্প বিপ্লবের দুটি প্রধান ধারা: কয়লা আর বাষ্প কারখানা চালিয়েছে, আর সস্তা ইস্পাত রেলপথ ও বাষ্পীয় জাহাজকে ছড়িয়ে দিয়েছে সারা বিশ্বে। মানুষও পিছু নিয়েছে, গ্রাম ছেড়ে শহরে এসেছে।

নতুন কারখানাগুলোর দরকার ছিল কয়লা আর অন্যান্য কাঁচামাল। অনেক মানুষ গ্রাম ছেড়ে খনি আর কারখানায় কাজ করতে আসে, এবং কারখানায় জিনিস তৈরি কৃষিকে ছাড়িয়ে কাজের সবচেয়ে বড় উৎস হয়ে ওঠে।

বেসেমার প্রক্রিয়ার (Bessemer process) ফলে বিপুল পরিমাণে ইস্পাত তৈরি সম্ভব হয়, যা জাহাজনির্মাণ ও রেলপথ শিল্পকে বাড়তে সাহায্য করে। কাঁচামাল আর পণ্য শহর ও বন্দরে পৌঁছাতে ব্রিটেন অনেক খালও কাটে, বিশেষ করে মিডল্যান্ডস (Midlands) আর উত্তর ইংল্যান্ডের নতুন শিল্পাঞ্চলে।

কিন্তু কাজের পরিবেশ ছিল ভয়াবহ। শ্রমিকদের রক্ষা করার কোনো আইন ছিল না, তাদের প্রায়ই বিপজ্জনক জায়গায় দীর্ঘ সময় খাটানো হতো। শিশুরাও কাজ করত, আর তাদের সঙ্গে বড়দের মতোই আচরণ করা হতো, কখনো কখনো আরও খারাপ।

আর্করাইট: নাপিত থেকে কারখানার পথিকৃৎ

রিচার্ড আর্করাইট (Richard Arkwright, 1732–1792) জীবন শুরু করেছিলেন নাপিত হিসেবে; তিনি চুল রং করতে আর পরচুলা বানাতে জানতেন। পরচুলার চল উঠে গেলে তিনি বস্ত্রশিল্পে চলে আসেন। তিনি কার্ডিং মেশিনের (carding machine) উন্নতি ঘটান (কার্ডিং মানে আঁশগুলো আঁচড়ে সুতা কাটার উপযোগী করা)। তিনি এমন একটি সুতাকল গড়েন যেখানে ঘোড়া দিয়ে একটিমাত্র যন্ত্র চালানো হতো, পরে তিনি বাষ্পীয় ইঞ্জিনে চলে যান। আর্করাইটকে সবচেয়ে বেশি মনে রাখা হয় তাঁর কারখানাগুলো অত্যন্ত দক্ষ ও লাভজনকভাবে চালানোর জন্য।

ডার্বিশায়ারের (Derbyshire) ক্রমফোর্ডে (Cromford) তাঁর কারখানাটি 1771 সালে চালু হয় এবং চলত জলশক্তিতে। সেখানে দেখা যায় এই দক্ষতার অর্থ ভেতরের মানুষদের জন্য কী ছিল। শ্রমিকরা 13 ঘণ্টা করে দুই শিফটে কাজ করত, আর ফটক বন্ধ হতো কাঁটায় কাঁটায়: কেউ দেরি করলে সারা দিনের জন্য বাইরে আটকে যেত, এবং আরও এক দিনের মজুরিও কাটা যেত। আর্করাইট গোটা পরিবারকে কাজে নিতেন, যাদের মধ্যে অনেক শিশুর বয়স ছিল মাত্র সাত। কারখানাটি এখন ডারওয়েন্ট ভ্যালি মিলস (Derwent Valley Mills) নামে একটি ইউনেস্কো (UNESCO) বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের অংশ।

রানি ভিক্টোরিয়া সিংহাসনে বসার কিছু আগে বাবা ও ছেলে জর্জ ও রবার্ট স্টিফেনসন (George and Robert Stephenson) বাষ্পচালিত রেলইঞ্জিনের পথিকৃৎ হন। ভিক্টোরিয়ার যুগে রেলপথ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, আর পরে গোটা সাম্রাজ্য জুড়ে রেলপথ তৈরি হয়।

কুইজ

Why were canals built during the Industrial Revolution?

প্রশ্নটি বাংলায়শিল্প বিপ্লবের সময় খাল কেন কাটা হয়েছিল?
A: কারখানাগুলোকে শহর, নগর ও বন্দরের সঙ্গে যুক্ত করতে
B: দক্ষিণ উপকূলকে ফরাসি আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে
C: খুব ধীরগতির রেলপথের বদলে ব্যবহার করতে
D: লন্ডন আর এডিনবরার মধ্যে যাত্রী বহন করতে

কুইজ

What did the development of the Bessemer process make possible?

প্রশ্নটি বাংলায়বেসেমার প্রক্রিয়ার উদ্ভাবন কী সম্ভব করেছিল?
A: ব্যাপক হারে সুতি কাপড় উৎপাদন
B: ব্রিটেনের প্রথম পাবলিক রেলপথ
C: ইংরেজিতে বই ছাপা
D: ব্যাপক হারে ইস্পাত উৎপাদন

বাণিজ্য ও উপনিবেশ: কারি হাউসের শুরুও এই সময়ে

কারখানার দরকার ছিল কাঁচামাল, আর তৈরি জিনিস কেনার মানুষ; তাই ব্রিটেন নজর দেয় সাগরপারে। এই সময়ে ব্রিটেনের ক্ষমতা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে:

ব্রিটেন গোটা বিশ্বের সঙ্গে বাণিজ্য করত এবং আরও বেশি বেশি পণ্য আমদানি করত: উত্তর আমেরিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ (West Indies) থেকে চিনি ও তামাক, আর ভারত ও ইন্দোনেশিয়া থেকে বস্ত্র, চা ও মসলা। সাগরপারে বাণিজ্য আর বসতি স্থাপন প্রায়ই ব্রিটেনকে অন্য দেশের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে ফেলত, সবচেয়ে বেশি ফ্রান্সের সঙ্গে, যারাও সারা বিশ্বে বিস্তার ঘটাচ্ছিল।

ব্রিটেনের প্রথম কারি হাউস

সাকে দীন মাহোমেদ (Sake Dean Mahomet, 1759–1851) বড় হয়েছিলেন ভারতের বাংলা (Bengal) অঞ্চলে এবং বেঙ্গল আর্মিতে কাজ করেছিলেন। 1782 সালে তিনি ব্রিটেনে আসেন। পরে তিনি আয়ারল্যান্ডে চলে যান, সেখানে 1786 সালে জেন ডেলি (Jane Daly) নামে এক আইরিশ তরুণীকে নিয়ে পালিয়ে বিয়ে করেন, আর শতাব্দীর পালাবদলের সময় আবার ইংল্যান্ডে ফিরে আসেন।

1810 সালে তিনি খোলেন ব্রিটেনের প্রথম কারি হাউস: লন্ডনের জর্জ স্ট্রিটে (George Street) Hindoostane Coffee House। তিনি ও তাঁর স্ত্রী ব্রিটেনে নিয়ে আসেন shampooing (শ্যাম্পুইং), অর্থাৎ ভারতীয় পদ্ধতির মাথা মালিশ।

"শ্যাম্পু" শব্দটি এসেছে হিন্দুস্তানি থেকে, যেখানে এর প্রথম অর্থ ছিল "চাপ দেওয়া" বা "মালিশ করা"। টাকাপয়সার সমস্যায় কফি হাউসটি মাত্র দুই বছর পরই বন্ধ হয়ে যায়, তাই মাহোমেদ সমুদ্রতীরের শহর ব্রাইটনে (Brighton) বাষ্পস্নান ও মালিশের ব্যবস্থা চালু করেন। সেটি দারুণ সফল হয়: লোকে তাঁকে ডাকত "ডক্টর ব্রাইটন", আর তাঁকে রাজা চতুর্থ জর্জ (George IV) ও রাজা চতুর্থ উইলিয়ামের (William IV) "শ্যাম্পুইং সার্জন" নিযুক্ত করা হয়। 1794 সালে প্রকাশিত তাঁর ভ্রমণকাহিনিকে প্রায়ই কোনো ভারতীয়র ইংরেজিতে লেখা প্রথম বই বলা হয়।

কুইজ

Which explorer mapped the coast of Australia?

প্রশ্নটি বাংলায়কোন অভিযাত্রী অস্ট্রেলিয়ার উপকূলের মানচিত্র তৈরি করেছিলেন?

কুইজ

Which of the following statements is correct?

প্রশ্নটি বাংলায়নিচের কোন বক্তব্যটি সঠিক?
A: সাকে দীন মাহোমেদ ব্রিটেনের প্রথম রেলইঞ্জিন তৈরি করেন।
B: সাকে দীন মাহোমেদ 1810 সালে ব্রিটেনের প্রথম কারি হাউস খোলেন।

দাস ব্যবসা এবং তা বন্ধের লড়াই

ব্রিটেনের বাণিজ্যিক উন্নতি ও সম্পদের একটি অংশ গড়ে উঠেছিল দাস ব্যবসার ওপর। খোদ ব্রিটেনে দাসপ্রথা বেআইনি ছিল, কিন্তু 18শ শতকের মধ্যে সাগরপারের দাস ব্যবসা একটি প্রতিষ্ঠিত শিল্পে পরিণত হয়েছিল, যা মূলত চালাত ব্রিটেন ও উত্তর আমেরিকায় তার উপনিবেশগুলো।

দাস বানানো মানুষদের বেশিরভাগ আসত পশ্চিম আফ্রিকা থেকে। তাদের ব্রিটিশ জাহাজে গাদাগাদি করে ভয়ংকর পরিস্থিতিতে নিয়ে যাওয়া হতো আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ানে, যেখানে তাদের তামাক ও আখের বাগানে জোর করে খাটানো হতো। তাদের থাকা ও কাজের অবস্থা ছিল ভয়াবহ। অনেকে পালানোর চেষ্টা করত, কেউ কেউ মালিকদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহও করত।

উইলিয়াম উইলবারফোর্সের তেলরঙে আঁকা প্রতিকৃতি: পাকা চুল, গাঢ় রঙের কোট ও হালকা ঘিয়ে রঙের ওয়েস্টকোট
উইলিয়াম উইলবারফোর্স (William Wilberforce), যিনি সংসদে দাসপ্রথাবিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন; 1794 সালের কাছাকাছি সময়ের একটি প্রতিকৃতি। প্রায় 20 বছর তিনি দাস ব্যবসা বন্ধের জন্য লড়েছেন। 1833 সালের জুলাইয়ে তিনি শোনেন যে দাসপ্রথা বিলোপের আইনটি পাস হওয়া নিশ্চিত, আর তার তিন দিন পর তিনি মারা যান। চিত্র: Karl Anton Hickel, public domain, Wikimedia Commons-এর মাধ্যমে

18শ শতকের শেষ দিকে কোয়েকাররা (Quakers, একটি খ্রিস্টান সম্প্রদায়) দাসপ্রথার বিরুদ্ধে প্রথম আনুষ্ঠানিক সংগঠন গড়ে তোলে এবং সংসদের কাছে তা নিষিদ্ধ করার আবেদন জানায়। ইভানজেলিক্যাল খ্রিস্টান ও সংসদ সদস্য উইলিয়াম উইলবারফোর্স অন্যান্য অ্যাবলিশনিস্টের (abolitionists, অর্থাৎ যাঁরা দাসপ্রথা বন্ধের আন্দোলন করতেন) সঙ্গে মিলে কাজ করেন এবং দাস ব্যবসা নিয়ে জনগণের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে সাহায্য করেন।

1833 সালের পর মুক্ত হওয়া দাসদের জায়গা নিতে ব্রিটেন ভারত ও চীন থেকে 20 লাখ (2 million) শ্রমিক নিয়ে আসে। তাদের পাঠানো হয় ক্যারিবিয়ানে আখের বাগানে, দক্ষিণ আফ্রিকায় খনিতে, পূর্ব আফ্রিকায় রেলপথ তৈরিতে, আর কেনিয়ায় সেনাবাহিনীতে।

কুইজ

In which year did the Emancipation Act abolish slavery throughout the British Empire?

প্রশ্নটি বাংলায়কোন সালে ইমানসিপেশন অ্যাক্ট পুরো ব্রিটিশ সাম্রাজ্যে দাসপ্রথা বিলোপ করে?

আমেরিকা হাতছাড়া: আমেরিকার স্বাধীনতা

সাম্রাজ্য যখন সারা বিশ্বে বাড়ছিল, তখনই উত্তর আমেরিকায় তার প্রথম বড় ক্ষতিটা ঘটে। 1760-এর দশকের মধ্যে উত্তর আমেরিকায় ব্রিটেনের অনেক উপনিবেশ ছিল। সেগুলো ছিল সমৃদ্ধ, আর মোটামুটি নিজেদের কাজ নিজেরাই চালাত। অনেক উপনিবেশবাসীর পরিবার প্রথমে আটলান্টিক পাড়ি দিয়েছিল ধর্মীয় স্বাধীনতার খোঁজে। তারা ছিল সুশিক্ষিত, আর স্বাধীনতাকে খুব গুরুত্ব দিত।

ব্রিটিশ সরকার যখন উপনিবেশগুলোর ওপর কর বসাতে চাইল, উপনিবেশবাসীরা তা দেখল তাদের স্বাধীনতার ওপর আঘাত হিসেবে। তাদের স্লোগান ছিল "প্রতিনিধিত্ব ছাড়া কোনো কর নয়" (no taxation without representation): ব্রিটিশ সংসদে আমাদের হয়ে কথা বলার কেউ নেই, তাহলে আমরা কেন তার কর দেব? সংসদ কিছু কর তুলে নিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে, কিন্তু সম্পর্ক ক্রমেই খারাপ হতে থাকে।

1776 সালে উত্তর আমেরিকার 13টি উপনিবেশ স্বাধীনতা ঘোষণা করে; তারা বলে, মানুষের নিজেদের সরকার গঠনের অধিকার আছে। শেষ পর্যন্ত উপনিবেশবাসীরা ব্রিটিশ সেনাবাহিনীকে পরাজিত করে, এবং 1783 সালে ব্রিটেন তাদের স্বাধীনতা স্বীকার করে নেয়।

নেপোলিয়নের বিরুদ্ধে লড়াই: ট্রাফালগার ও ওয়াটারলু

আমেরিকা হারানোর মাত্র কয়েক বছর পর ব্রিটেন ইউরোপে আরও বড় এক প্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি হয়। 1789 সালে ফ্রান্সে বিপ্লব শুরু হয়, আর অল্পদিনের মধ্যেই নতুন ফরাসি সরকার ব্রিটেনের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ায়। নেপোলিয়ন (Napoleon, প্রথম নেপোলিয়ন), যিনি পরে নিজেকে ফ্রান্সের সম্রাট ঘোষণা করেন, সেই যুদ্ধ চালিয়ে যান।

ট্রাফালগারের যুদ্ধ, 1805

ট্রাফালগারের যুদ্ধে (Battle of Trafalgar) ব্রিটিশ নৌবাহিনী ফ্রান্স ও স্পেনের সম্মিলিত নৌবহরকে পরাজিত করে। ব্রিটিশ নৌবহরের নেতৃত্বে ছিলেন অ্যাডমিরাল নেলসন (Admiral Nelson), যিনি যুদ্ধের সময় নিহত হন। তাঁর স্মরণে লন্ডনের ট্রাফালগার স্কোয়ারে (Trafalgar Square) তৈরি হয় নেলসনস কলাম (Nelson's Column)। তাঁর ফ্ল্যাগশিপ (প্রধান যুদ্ধজাহাজ) HMS Victory এখন আছে পোর্টসমাউথে (Portsmouth), এবং আপনি জাহাজটিতে উঠে ঘুরে দেখতে পারেন।

টার্নারের আঁকা ট্রাফালগারের যুদ্ধের তেলচিত্র: ধোঁয়ার মেঘে ঘেরা তিন মাস্তুলের বিশাল যুদ্ধজাহাজ, পানিতে নাবিকেরা
ভূদৃশ্যশিল্পী জে. এম. ডব্লিউ. টার্নারের (J. M. W. Turner) আঁকা "ট্রাফালগারের যুদ্ধ" (1822–24)। মাঝখানে HMS Victory, যাতে উড়ছে যুদ্ধের আগে নেলসনের পাঠানো সেই বিখ্যাত পতাকা-সংকেত। চিত্র: J. M. W. Turner, National Maritime Museum, public domain, Wikimedia Commons-এর মাধ্যমে

যুদ্ধের আগে নেলসন পুরো নৌবহরকে একটি পতাকা-সংকেত পাঠান, যা বিখ্যাত হয়ে যায়: "ইংল্যান্ড আশা করে প্রত্যেকে তার কর্তব্য পালন করবে" (England expects that every man will do his duty)। লড়াইয়ের সময় এক ফরাসি স্নাইপার তাঁকে গুলি করে, আর HMS Victory জাহাজেই তিনি মারা যান। তাঁর দেহ অক্ষত অবস্থায় দেশে ফেরাতে নাবিকেরা সেটি একটি বড় ব্র্যান্ডির পিপের মধ্যে রাখে। লোকে বলে, তারা গোপনে পিপে থেকে পান করেছিল, আর সেজন্যই নৌবাহিনীতে রামের ডাকনাম হয় "নেলসনের রক্ত", তবে এটি নিছক একটি কিংবদন্তি।

নেলসনস কলামের কাজ শেষ হয় 1843 সালে। ভিত্তিসহ এটি প্রায় 52 মিটার উঁচু, চূড়ার মূর্তিটি 5 মিটারেরও বেশি লম্বা, আর ভিত্তির চারপাশের ব্রোঞ্জের ফলকগুলো তৈরি হয়েছে ফরাসিদের কাছ থেকে দখল করা কামান গলিয়ে।

ওয়াটারলুর যুদ্ধ, 1815

1815 সালে ডিউক অব ওয়েলিংটন (Duke of Wellington) ওয়াটারলুর যুদ্ধে (Battle of Waterloo) নেপোলিয়নকে পরাজিত করেন, আর এতে ফ্রান্সের সঙ্গে যুদ্ধের অবসান ঘটে। ওয়েলিংটনের ডাকনাম ছিল "আয়রন ডিউক" (Iron Duke, লৌহ ডিউক), এবং পরে তিনি প্রধানমন্ত্রী হন।

একটি জুতার নামও তাঁর নামে। ওয়েলিংটন নতুন ধরনের লম্বা বুট পরতে পছন্দ করতেন, অন্য ধনী পুরুষেরা তাঁর দেখাদেখি সেটি পরতে শুরু করেন, আর ব্রিটিশরা আজও লম্বা রাবারের বৃষ্টির বুটকে বলে "ওয়েলিজ" (wellies), যা ওয়েলিংটন বুটের সংক্ষিপ্ত রূপ।

কুইজ

Is the statement below TRUE or FALSE? Admiral Nelson died during the Battle of Trafalgar, and visitors can go aboard his flagship, HMS Victory, in Portsmouth today.

প্রশ্নটি বাংলায়নিচের বক্তব্যটি সত্য (TRUE) নাকি মিথ্যা (FALSE)? বক্তব্য: ট্রাফালগারের যুদ্ধে অ্যাডমিরাল নেলসন মারা যান, এবং আজ দর্শনার্থীরা পোর্টসমাউথে তাঁর ফ্ল্যাগশিপ HMS Victory-তে উঠতে পারেন।

ইউনিয়ন ফ্ল্যাগ: তিনটি ক্রস মিলে একটি পতাকা

ফ্রান্সের সঙ্গে যুদ্ধের সেই একই বছরগুলোতে দেশটির নিজের আকৃতিও বদলে যায়। অষ্টম হেনরির (Henry VIII) সময় থেকে আয়ারল্যান্ড আর ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের রাজা একজনই ছিলেন, তবু আয়ারল্যান্ড ছিল আলাদা দেশ। 1800 সালের অ্যাক্ট অব ইউনিয়ন (Act of Union) অনুযায়ী 1801 সালে আয়ারল্যান্ড আনুষ্ঠানিকভাবে ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসের সঙ্গে যুক্ত হয়।

পতাকাও বদলে যায়। নতুন ইউনিয়ন ফ্ল্যাগ (Union Flag), যাকে প্রায়ই ইউনিয়ন জ্যাক (Union Jack) বলা হয়, তাতে ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ডের পৃষ্ঠপোষক সন্তদের (patron saints) ক্রস একটির ওপর আরেকটি বসানো হয়। আজও এটিই যুক্তরাজ্যের সরকারি পতাকা।

রেখাচিত্র: সেন্ট জর্জের ক্রস (সাদার ওপর লাল ক্রস), সেন্ট অ্যান্ড্রুর ক্রস (নীলের ওপর সাদা কোনাকুনি ক্রস) আর সেন্ট প্যাট্রিকের ক্রস (সাদার ওপর লাল কোনাকুনি ক্রস) মিলে তৈরি হয় ইউনিয়ন ফ্ল্যাগ; নিচে ওয়েলসের ড্রাগন পতাকা, সঙ্গে নোট যে এটি ইউনিয়ন ফ্ল্যাগের অংশ নয়
ইউনিয়ন ফ্ল্যাগ কীভাবে গড়া হয়েছে। ভালো করে দেখলে বুঝবেন, লাল কোনাকুনি দাগগুলো সাদা দাগের ঠিক মাঝখানে নেই। এতে স্কটিশ ও আইরিশ দুটি ক্রসই দেখা যায়, আর এর মানে পতাকাটির একটি সঠিক দিক আছে: উল্টো করে ওড়ানোকে অসম্মানজনক ধরা হয়।

ওয়েলসেরও নিজস্ব সরকারি পতাকা আছে, তাতে আছে একটি লাল ড্রাগন (ওয়েলশ ড্রাগন, Welsh dragon)। কিন্তু ইউনিয়ন ফ্ল্যাগে ড্রাগনটি নেই। কারণ 1606 সালে যখন ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডের পতাকা মিলিয়ে প্রথম ইউনিয়ন ফ্ল্যাগ তৈরি হয়, তখন ওয়েলস প্রিন্সিপালিটি (Principality of Wales) আগে থেকেই ইংল্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিল।

পতাকাটির দুটি নামও আছে। কেউ কেউ জোর দিয়ে বলেন, এটিকে ইউনিয়ন জ্যাক বলা উচিত কেবল যখন জাহাজে ওড়ে, আর অন্য সব জায়গায় ইউনিয়ন ফ্ল্যাগ; কিন্তু পতাকা নিয়ে গবেষণা করা যুক্তরাজ্যের সংস্থা ফ্ল্যাগ ইনস্টিটিউট (Flag Institute) বলে, দুটি নামই ঠিক। পরীক্ষায় যেকোনো নামই দেখতে পারেন; দুটিই একই পতাকা।

কুইজ

Which TWO of the following appear on the Union Flag?

প্রশ্নটি বাংলায়নিচের কোন দুটি ইউনিয়ন ফ্ল্যাগে আছে?
A: সেন্ট অ্যান্ড্রুর ক্রস
B: ওয়েলসের ড্রাগন
C: সেন্ট ডেভিডের ক্রস
D: সেন্ট প্যাট্রিকের ক্রস

ভিক্টোরীয় যুগ: সাম্রাজ্যের চূড়ায়

নেপোলিয়নের পরাজয়ের পর ব্রিটেন দীর্ঘ শান্তি ও ক্রমবর্ধমান সমৃদ্ধির এক যুগে প্রবেশ করে। তৃতীয় জর্জের (George III) ছেলেরা, চতুর্থ জর্জ ও চতুর্থ উইলিয়াম, পরপর রাজত্ব করেন, কিন্তু কেউই বৈধ উত্তরাধিকারী রেখে যাননি, তাই মুকুট যায় চতুর্থ উইলিয়ামের ভাইঝির কাছে। রানি ভিক্টোরিয়া (Queen Victoria) যখন 1837 সালে রানি হন, তাঁর বয়স ছিল মাত্র 18, আর তিনি সিংহাসনে ছিলেন 1901 পর্যন্ত: সব মিলিয়ে প্রায় 64 বছর। ব্রিটিশ ইতিহাসের সেই দীর্ঘ পর্বকে বলা হয় ভিক্টোরীয় যুগ (Victorian Age)।

এ সময় বিদেশে ব্রিটেনের ক্ষমতা ও প্রভাব ক্রমাগত বাড়তে থাকে। দেশের ভেতরে মধ্যবিত্ত শ্রেণি আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, আর কিছু সংস্কারক দরিদ্রদের জীবনমান উন্নত করতে কাজ করেন।

ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সাম্রাজ্য

ভিক্টোরিয়ার আমলে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের মধ্যে আসে পুরো ভারত, অস্ট্রেলিয়া এবং আফ্রিকার বিশাল অংশ। ইতিহাসে এর চেয়ে বড় সাম্রাজ্য আর কখনো ছিল না: আনুমানিক 40 কোটি (400 million) বা তারও বেশি মানুষ এতে বাস করত।

মানুষ দুই দিকেই চলাচল করত। সরকার ব্রিটিশদের বিদেশে বসতি গড়তে উৎসাহ দিত, আর 1853 থেকে 1913 সালের মধ্যে প্রায় 1 কোটি 30 লাখ (13 million) মানুষ দেশ ছাড়ে। একই সময়ে মানুষ ব্রিটেনেও আসত। 1870 থেকে 1914 সালের মধ্যে নির্যাতন থেকে বাঁচতে প্রায় 1,20,000 রুশ ও পোলিশ ইহুদি আসে, আর তাদের অনেকে বসতি গড়ে লন্ডনের ইস্ট এন্ড (East End), ম্যানচেস্টার ও লিডসে। সাম্রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে, ভারত, আফ্রিকা ও অন্যান্য জায়গা থেকে, আরও অনেকে ব্রিটেনে আসে স্থায়ীভাবে থাকতে, কাজ করতে বা পড়াশোনা করতে।

মুক্ত বাণিজ্য ও কারখানা সংস্কার

ব্রিটেন তখনও এক বিরাট বাণিজ্যিক শক্তি। সরকার মুক্ত বাণিজ্যের (free trade) পক্ষে জোর দিতে শুরু করে এবং আমদানির ওপর থেকে অনেক কর তুলে দেয়। এর একটি উদাহরণ 1846 সালে কর্ন ল (Corn Laws) বাতিল। এই আইনগুলো সস্তা বিদেশি শস্য দেশে ঢুকতে দিত না। সংস্কারের পর কাঁচামাল আরও সস্তায় আমদানি করা যেত, যা ব্রিটিশ শিল্পকে বাড়তে সাহায্য করে।

1847 সালে একটি নতুন আইনে বলা হয়, নারী ও শিশুরা দিনে 10 ঘণ্টার বেশি কাজ করতে পারবে না। শ্রমিকদের বাসস্থান ভালো হতে শুরু করে, কারখানার পরিবেশও উন্নত হয়। যাতায়াত ব্যবস্থাও ভালো হয়, ফলে দেশজুড়ে পণ্য ও মানুষ চলাচল সহজ হয়।

19শ শতকে শিল্পে ব্রিটেন ছিল বিশ্বের নেতা; পৃথিবীর মোট লোহা, কয়লা ও সুতি কাপড়ের অর্ধেকেরও বেশি তৈরি হতো সেখানে। ব্রিটেন বিমা ও ব্যাংকিংয়ের মতো আর্থিক সেবারও কেন্দ্র হয়ে ওঠে।

1851 সালের গ্রেট এক্সিবিশন

1851 সালে লন্ডনের হাইড পার্কের (Hyde Park) ক্রিস্টাল প্যালেসে (Crystal Palace) গ্রেট এক্সিবিশন (Great Exhibition) শুরু হয়। সেখানে প্রদর্শিত হয় বিশাল সব যন্ত্র থেকে হাতে তৈরি জিনিস পর্যন্ত সবকিছু। পৃথিবীর নানা প্রান্তের দেশ অংশ নিলেও প্রদর্শিত জিনিসের বেশিরভাগই ছিল ব্রিটেনে তৈরি।

রঙিন ছাপা ছবি: হাইড পার্কের ক্রিস্টাল প্যালেস, উঁচু খিলানাকার ছাদের লম্বা কাচের ভবন, সামনে হাঁটছে মানুষ, চলছে ঘোড়ার গাড়ি
1851 সালের গ্রেট এক্সিবিশনের সময় উত্তর-পূর্ব দিক থেকে দেখা হাইড পার্কের ক্রিস্টাল প্যালেস। প্রদর্শনীতে ষাট লাখেরও বেশিবার দর্শনার্থীর আগমন ঘটে। প্রদর্শনী থেকে যে লাভ হয়, তা দিয়ে সাউথ কেনসিংটনে (South Kensington) গড়া হয় ভিক্টোরিয়া অ্যান্ড অ্যালবার্ট মিউজিয়াম (V&A), সায়েন্স মিউজিয়াম ও ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম। ভবনটিকে পরে দক্ষিণ লন্ডনে সরিয়ে নেওয়া হয়, সেখানে 1936 সালে এটি পুড়ে যায়; তবে এলাকাটি নামটি ধরে রেখেছে, আর ফুটবল ক্লাব Crystal Palace FC-ও। Dickinson Brothers, Dickinsons' Comprehensive Pictures of the Great Exhibition of 1851, public domain, Wikimedia Commons-এর মাধ্যমে

ব্রুনেল: রেলপথ, সেতু আর জাহাজের প্রকৌশলী

ইসামবার্ড কিংডম ব্রুনেল (Isambard Kingdom Brunel, 1806–1859) ছিলেন ইংল্যান্ডের পোর্টসমাউথের মানুষ। প্রকৌশলী হিসেবে তিনি সুড়ঙ্গ, সেতু, রেলপথ ও জাহাজ নির্মাণ করেন। তিনি গ্রেট ওয়েস্টার্ন রেলওয়ে (Great Western Railway) নির্মাণের দায়িত্বে ছিলেন, যার ট্রেন চলত লন্ডনের প্যাডিংটন স্টেশন (Paddington Station) থেকে ওয়েলস, ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস ও দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডে। তাঁর অনেক সেতু দিয়ে আজও পার হওয়া যায়, যেমন এভন গর্জের (Avon Gorge) ওপর ক্লিফটন সাসপেনশন ব্রিজ (Clifton Suspension Bridge)।

ব্রুনেলের বাবা ছিলেন ফ্রান্স থেকে আসা এক প্রকৌশলী। ক্লিফটন সেতুর নকশা ব্রুনেল করেছিলেন তরুণ বয়সে, কিন্তু টাকা ফুরিয়ে যাওয়ায় বহু বছর কাজ বন্ধ থাকে, আর সেতুটি শেষ হয় 1864 সালে, তাঁর মৃত্যুর পাঁচ বছর পর। 2002 সালে বিবিসি (BBC) যখন জনগণকে "100 Greatest Britons" (সর্বকালের সেরা 100 ব্রিটিশ) বাছাইয়ে ভোট দিতে বলে, ব্রুনেল চার্চিলের পরে দ্বিতীয় হন।

সাদাকালো ছবি: টপ হ্যাট পরা, মুখে চুরুট নিয়ে ব্রুনেল বিশাল লোহার শিকলের সামনে দাঁড়িয়ে
1857 সালে ব্রুনেল, তাঁর বিশাল বাষ্পীয় জাহাজ SS Great Eastern জলে নামানোর শিকলের সামনে। এটি সবচেয়ে বিখ্যাত প্রতিকৃতি-আলোকচিত্রগুলোর একটি। ছবি: Robert Howlett, public domain, Wikimedia Commons-এর মাধ্যমে

কুইজ

In 1847, a new law set a maximum working day for women and children. How long was it?

প্রশ্নটি বাংলায়1847 সালে একটি নতুন আইন নারী ও শিশুদের দৈনিক কাজের সর্বোচ্চ সময় বেঁধে দেয়। সেটি কত ছিল?

কুইজ

Which TWO statements about free trade in the Victorian period are correct?

প্রশ্নটি বাংলায়ভিক্টোরীয় যুগের মুক্ত বাণিজ্য নিয়ে কোন দুটি বক্তব্য সঠিক?
A: সস্তা বিদেশি শস্য ঠেকাতে 1846 সালে কর্ন ল চালু করা হয়।
B: দেশে আনা পণ্যের ওপর থেকে সরকার অনেক কর তুলে দেয়।
C: মুক্ত বাণিজ্যের ফলে ব্রিটিশ শিল্পের জন্য কাঁচামাল আরও দামি হয়ে যায়।
D: সস্তা আমদানি করা শস্য ঠেকিয়ে রাখা কর্ন ল 1846 সালে বাতিল হয়।

কুইজ

Which engineer was responsible for building the Great Western Railway?

প্রশ্নটি বাংলায়কোন প্রকৌশলী গ্রেট ওয়েস্টার্ন রেলওয়ে নির্মাণের দায়িত্বে ছিলেন?

কুইজ

Where was the Great Exhibition of 1851 held?

প্রশ্নটি বাংলায়1851 সালের গ্রেট এক্সিবিশন কোথায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল?

ক্রিমিয়ার যুদ্ধ ও ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল

ভিক্টোরীয় যুগে দেশের ভেতরে মোটামুটি শান্তি ছিল, কিন্তু ব্রিটেন বিদেশে যুদ্ধ চালিয়ে গেছে। ক্রিমিয়ার যুদ্ধে (Crimean War, 1853–1856) ব্রিটেন, তুরস্ক ও ফ্রান্স একসঙ্গে রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়ে। এটি ছিল প্রথম যুদ্ধ যার খবর গণমাধ্যম বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করে, সংবাদ প্রতিবেদন ও আলোকচিত্রসহ। পরিস্থিতি ছিল খুবই খারাপ, আর অনেক সৈন্য মারা যায় আঘাতে নয়, হাসপাতালে ধরা রোগে।

যুদ্ধের সময় রানি ভিক্টোরিয়া চালু করেন ভিক্টোরিয়া ক্রস (Victoria Cross), সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের সাহসিকতার স্বীকৃতি দেওয়ার একটি পদক।

পদকটির নিজেরও একটি গল্প আছে। প্রচলিত কথা হলো, ভিক্টোরিয়া ক্রস তৈরি হয় ক্রিমিয়ার যুদ্ধে দখল করা রুশ কামান থেকে, কিন্তু এক ইতিহাসবিদের গবেষণায় দেখা যায়, 20শ শতক থেকে দেওয়া পদকগুলোর ধাতু আসলে এসেছে দুটি চীনা কামান থেকে। বিষয়টি নিয়ে এখনও বিতর্ক আছে।

ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেলের (Florence Nightingale, 1820–1910) মা-বাবা ছিলেন ইংরেজ, কিন্তু তাঁর জন্ম ইতালিতে। 31 বছর বয়সে তিনি নার্স হিসেবে প্রশিক্ষণ নিতে জার্মানিতে যান। 1854 সালে ক্রিমিয়ার যুদ্ধে আহত সৈন্যদের সেবা করতে তিনি তুরস্কের একটি সামরিক হাসপাতালে যান। অন্য নার্সদের সঙ্গে মিলে তিনি হাসপাতালের পরিবেশ উন্নত করেন এবং মৃত্যুহার কমিয়ে আনেন। 1860 সালে তিনি লন্ডনের সেন্ট টমাস হাসপাতালে (St Thomas' Hospital) নার্সদের প্রশিক্ষণের জন্য নাইটিঙ্গেল ট্রেনিং স্কুল (Nightingale Training School) প্রতিষ্ঠা করেন। এটি ছিল এ ধরনের প্রথম স্কুল, এবং এখনও আছে। তাঁকে প্রায়ই আধুনিক নার্সিংয়ের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে দেখা হয়।

তাঁর নাম রাখা হয়েছিল তাঁর জন্মস্থান ইতালির শহর ফ্লোরেন্সের নামে। রাতে প্রদীপ হাতে ওয়ার্ড ঘুরে দেখতেন বলে পত্রিকাগুলো তাঁকে ডাকত "প্রদীপ হাতে মহিলা" (The Lady with the Lamp)। গণিতেও তিনি খুব দক্ষ ছিলেন: নিচের মতো চার্ট ব্যবহার করে তিনি সেনাবাহিনীতে পরিচ্ছন্নতা বাড়াতে সরকারকে রাজি করান, আর 1859 সালে তিনি রয়্যাল স্ট্যাটিস্টিক্যাল সোসাইটির (Royal Statistical Society) প্রথম নারী সদস্য হন।

নাইটিঙ্গেলের আঁকা গোলাপ আকৃতির দুটি চার্ট, নীল, লাল ও কালো খণ্ডে দেখানো হয়েছে প্রতি মাসে সৈন্যরা কী কারণে মারা গেছে
1858 সালে প্রকাশিত নাইটিঙ্গেলের "রোজ ডায়াগ্রাম" (গোলাপ চিত্র)। প্রতিটি খণ্ড এক মাস। নীল অংশ দেখায় প্রতিরোধযোগ্য সংক্রামক রোগে মৃত্যু, আর লাল অংশ আঘাতে মৃত্যু, ফলে এক নজরেই বোঝা যায় রোগই ছিল সবচেয়ে বড় ঘাতক। Florence Nightingale, public domain, Wikimedia Commons-এর মাধ্যমে

কুইজ

Which of the following statements is correct?

প্রশ্নটি বাংলায়নিচের কোন বক্তব্যটি সঠিক?
A: রানি ভিক্টোরিয়া ক্রিমিয়ার যুদ্ধের সময় ভিক্টোরিয়া ক্রস চালু করেন।
B: রানি ভিক্টোরিয়া বোয়ার যুদ্ধের সময় ভিক্টোরিয়া ক্রস চালু করেন।

আয়ারল্যান্ড: দুর্ভিক্ষ ও হোম রুল

তবু সাম্রাজ্যের সমৃদ্ধির চূড়াতেও আয়ারল্যান্ডের অবস্থা যুক্তরাজ্যের অন্য জায়গার চেয়ে খারাপ ছিল। সেখানকার দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ তখনও কৃষির ওপর নির্ভর করে বাঁচত, প্রায়ই খুব ছোট জমিতে, আর অনেকের প্রধান খাবার ছিল আলু।

19শ শতকের মাঝামাঝি আলুর ফসল নষ্ট হয়ে যায়, আর দেখা দেয় এক ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ: আলুর দুর্ভিক্ষ (potato famine)। রোগে ও অনাহারে প্রায় 10 লাখ মানুষ মারা যায়, আর আরও 15 লাখ মানুষ আয়ারল্যান্ড ছেড়ে চলে যায়। কেউ যায় যুক্তরাষ্ট্রে, কেউ আসে ইংল্যান্ডে। 1861 সালের মধ্যে লিভারপুল, লন্ডন, ম্যানচেস্টার ও গ্লাসগোর মতো শহরে বড় বড় আইরিশ জনগোষ্ঠী গড়ে ওঠে।

একটি ফসল এত ক্ষতি করতে পারল কারণ আয়ারল্যান্ডের গরিব মানুষদের চাষ করা প্রায় সব আলুই ছিল একই জাতের, তাই ব্লাইট (blight) নামের উদ্ভিদরোগ এলে গোটা মাঠ একসঙ্গে পচে যায়। আরও বেদনার কথা, দুর্ভিক্ষের সময়ও আয়ারল্যান্ড থেকে খাদ্য রপ্তানি চলছিল। আজও আয়ারল্যান্ডের জনসংখ্যা দুর্ভিক্ষের আগের অবস্থায় ফেরেনি।

19শ শতকে আইরিশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন আরও শক্তিশালী হয়:

কুইজ

Is the statement below TRUE or FALSE? In the middle of the 19th century, Ireland suffered a famine because its wheat harvest failed.

প্রশ্নটি বাংলায়নিচের বক্তব্যটি সত্য (TRUE) নাকি মিথ্যা (FALSE)? বক্তব্য: 19শ শতকের মাঝামাঝি গমের ফসল নষ্ট হওয়ায় আয়ারল্যান্ডে দুর্ভিক্ষ হয়।

কুইজ

Is the statement below TRUE or FALSE? Supporters of Home Rule, such as Charles Stuart Parnell, wanted Ireland to become completely independent from the UK.

প্রশ্নটি বাংলায়নিচের বক্তব্যটি সত্য (TRUE) নাকি মিথ্যা (FALSE)? বক্তব্য: চার্লস স্টুয়ার্ট পারনেলের মতো হোম রুলের সমর্থকেরা চাইতেন আয়ারল্যান্ড যুক্তরাজ্য থেকে সম্পূর্ণ স্বাধীন হোক।

ভোটের অধিকার: অল্প কিছু ধনী পুরুষ থেকে সবার কাছে

শিল্প বিপ্লব শহরগুলো মানুষে ভরে দিয়েছিল, কিন্তু কারা ভোট দিতে পারবে সেই নিয়ম একশো বছরে প্রায় বদলায়নি। 18শ শতকে কেবল নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পত্তির মালিক পুরুষেরাই ভোট দিতে পারত, আর নারীরা একেবারেই পারত না। কিছু নির্বাচনী এলাকা একটিমাত্র ধনী পরিবারের নিয়ন্ত্রণে ছিল; এগুলোকে বলা হতো পকেট বরো (pocket boroughs)। আবার কিছু এলাকায় প্রায় কোনো ভোটারই ছিল না; এগুলো ছিল রটেন বরো (rotten boroughs, অর্থাৎ "পচা" নির্বাচনী এলাকা)।

শিল্পনগরীগুলোর মধ্যবিত্ত শ্রেণি আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে এবং রাজনীতিতে বেশি অংশীদারিত্ব দাবি করতে থাকে। 1832 সালের রিফর্ম অ্যাক্ট (Reform Act) ভোটারের সংখ্যা অনেক বাড়িয়ে দেয়। এটি পুরোনো পকেট বরো ও রটেন বরো বিলুপ্ত করে এবং শহর ও নগরগুলোকে সংসদে আরও বেশি আসন দেয়। সেই থেকে রাজনৈতিক ক্ষমতা চিরতরে গ্রাম থেকে শহরের দিকে সরে আসে। কিন্তু ভোটের অধিকার তখনও সম্পত্তির মালিকানার ওপর নির্ভর করত, তাই শ্রমিক শ্রেণির মানুষ তখনও ভোট দিতে পারত না।

চার্টিস্টরা (Chartists) শ্রমিক শ্রেণি ও অন্যান্য সম্পত্তিহীন মানুষের ভোটাধিকার চেয়ে সংসদে আবেদনপত্র নিয়ে যায়। প্রথমে মনে হয়েছিল তারা ব্যর্থ, কিন্তু 1867 সালে আরেকটি রিফর্ম অ্যাক্ট শহরগুলোকে আরও আসন দেয় এবং ভোট দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সম্পত্তির পরিমাণ কমায়। তবু বেশিরভাগ পুরুষের ভোট ছিল না, আর কোনো নারীই ভোট দিতে পারত না।

ভোটার বাড়তে থাকায় রাজনীতিবিদেরা বুঝলেন মানুষের মন জয় করতে হবে, আর সাধারণ ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে রাজনৈতিক দলগুলো সংগঠিত হতে শুরু করে। সর্বজনীন ভোটাধিকার (Universal suffrage), অর্থাৎ প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষের ভোটের অধিকার, এসেছে কেবল পরের শতাব্দীতে।

নারীর অধিকার

1870 সালের আগে বিয়ের মুহূর্ত থেকেই একজন নারীর উপার্জন ও সম্পত্তি সবই চলে যেত স্বামীর হাতে। 1870 ও 1882 সালের আইন বিবাহিত নারীদের নিজের উপার্জন ও সম্পত্তি নিজের কাছে রাখার অধিকার দেয়। 1800-এর দশকের শেষ থেকে 1900-এর দশকের শুরু পর্যন্ত ক্রমবর্ধমান সংখ্যক নারী আরও অধিকারের জন্য, সবচেয়ে বেশি ভোটের অধিকারের জন্য, আন্দোলন ও বিক্ষোভ করেন। তাঁরা পরিচিত হন সাফ্রাজেট (suffragettes) নামে।

তাঁদের সবচেয়ে পরিচিত নেত্রী ছিলেন ম্যানচেস্টারে জন্ম নেওয়া এমেলিন প্যাংকহার্স্ট (Emmeline Pankhurst, 1858–1928)। 1889 সালে তিনি উইমেন্স ফ্র্যাঞ্চাইজ লিগ (Women's Franchise League) প্রতিষ্ঠা করেন, যা বিবাহিত নারীদের স্থানীয় নির্বাচনে ভোটাধিকারের জন্য আন্দোলন করত। 1903 সালে তিনি WSPU (Women's Social and Political Union) গড়ে তুলতে সাহায্য করেন; এটিই প্রথম সংগঠন যার সদস্যদের সাফ্রাজেট বলা হতো। তাঁরা ইচ্ছাকৃতভাবে আইন ভেঙে প্রতিবাদ করতেন (আইন অমান্য, civil disobedience): নিজেদের রেলিংয়ের সঙ্গে শিকল দিয়ে বাঁধতেন, জানালা ভাঙতেন, ভবনে আগুন দিতেন। প্যাংকহার্স্টসহ অনেকে অনশন করেন।

শেষ পর্যন্ত নারীরা দুই ধাপে ভোটের অধিকার পান। 1918 সালে 30 বছরের বেশি বয়সী নারীরা ভোট দেওয়ার ও সংসদ নির্বাচনে দাঁড়ানোর অধিকার পান, আংশিকভাবে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে নারীদের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে। 1928 সালে নারীরা পুরুষদের মতোই 21 বছর বয়সে ভোটের অধিকার পান; এ বছরই প্যাংকহার্স্ট মারা যান। এই সালগুলোর সঙ্গে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সম্পর্ক পরের অধ্যায়ে আরও কাছ থেকে দেখা হবে।

কুইজ

Who was the best-known leader of the suffragettes, the women who campaigned for the right to vote?

প্রশ্নটি বাংলায়ভোটাধিকারের জন্য আন্দোলনকারী নারীদের, অর্থাৎ সাফ্রাজেটদের, সবচেয়ে পরিচিত নেত্রী কে ছিলেন?

কুইজ

Which TWO statements about the Reform Act of 1832 are correct?

প্রশ্নটি বাংলায়1832 সালের রিফর্ম অ্যাক্ট নিয়ে কোন দুটি বক্তব্য সঠিক?
A: এটি শ্রমিক শ্রেণিকে ভোটের অধিকার দেয়।
B: এটি পুরোনো পকেট বরো ও রটেন বরো বিলুপ্ত করে।
C: এটি নারীদের ভোটের অধিকার দেয়।
D: এটি সংসদে শহর ও নগরের জন্য আরও আসন তৈরি করে।

সাম্রাজ্যের ভবিষ্যৎ: বোয়ার যুদ্ধ ও কিপলিং

ব্রিটিশ সাম্রাজ্য 1920-এর দশক পর্যন্ত বাড়তে থাকে, কিন্তু 19শ শতকের শেষ দিকেই মানুষ তর্ক করছিল সাম্রাজ্য এরপর কোন পথে যাবে। বিস্তারের পক্ষের লোকেরা বলত, সাম্রাজ্য আরও বাণিজ্য ও ব্যবসা আনে। অন্যরা মনে করত সাম্রাজ্য বড্ড বড় হয়ে গেছে: ভারতের উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত (North West Frontier) আর দক্ষিণ আফ্রিকার মতো জায়গায় লড়াই লেগেই থাকত, আর তাতে প্রচুর সম্পদ খরচ হতো। তবু বেশিরভাগ ব্রিটিশ বিশ্বাস করত সাম্রাজ্য পৃথিবীতে "কল্যাণের শক্তি" (force for good)।

1899 থেকে 1902 সালের বোয়ার যুদ্ধ (Boer War) এই বিতর্ককে আরও জরুরি করে তোলে। দক্ষিণ আফ্রিকায় ব্রিটেন লড়ে বোয়ারদের বিরুদ্ধে, যারা নেদারল্যান্ডস থেকে আসা বসতি স্থাপনকারীদের বংশধর। বোয়াররা কঠোর প্রতিরোধ গড়ে, আর যুদ্ধ চলে তিন বছরেরও বেশি। অনেক সৈন্য যুদ্ধে নিহত হয়, আর তার চেয়েও বেশি মারা যায় রোগে। ব্রিটেনের কিছু মানুষ বোয়ারদের প্রতি সহানুভূতি অনুভব করে এবং প্রশ্ন তুলতে শুরু করে সাম্রাজ্য আদৌ টিকবে কি না। সাম্রাজ্যের বিভিন্ন অংশ যত উন্নত হয়, ততই তারা ব্রিটেনের কাছ থেকে আরও স্বাধীনতা ও স্বশাসন পায়।

সেই সহানুভূতির একটি কারণ ছিল শিবিরগুলো। ব্রিটিশ সেনাবাহিনী খামার পুড়িয়ে দেয় এবং বোয়ার নারী ও শিশুদের, সেইসঙ্গে কৃষ্ণাঙ্গ আফ্রিকানদের, কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে (concentration camps) আটকে রাখে, যেখানে পরিস্থিতি ছিল ভয়াবহ এবং 20,000-এরও বেশি বোয়ার নারী ও শিশু মারা যায়। খবর ব্রিটেনে পৌঁছালে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

কিপলিং: সাম্রাজ্যে বিশ্বাসী এক লেখক

রুডইয়ার্ড কিপলিং (Rudyard Kipling, 1865–1936) জন্মেছিলেন ভারতে। পরে তিনি ভারত, ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন। তাঁর বই ও কবিতার পটভূমি ভারত ও ব্রিটেন, আর সেগুলোতে ফুটে ওঠে তাঁর বিশ্বাস যে সাম্রাজ্য পৃথিবীতে ভালো কাজ করছে। তিনি 1907 সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান। তাঁর Just So Stories আর The Jungle Book আজও জনপ্রিয়, আর ব্রিটিশরা যখন প্রিয় কবিতা বাছাইয়ে ভোট দেয়, তাঁর কবিতা If নিয়মিতই একেবারে ওপরের দিকে থাকে।

পুরস্কার পাওয়ার সময় কিপলিংয়ের বয়স ছিল মাত্র 41, আর আজও তিনি সাহিত্যে নোবেলজয়ী সবচেয়ে কমবয়সী মানুষ, সেইসঙ্গে ইংরেজিতে লেখা প্রথম নোবেলজয়ী লেখক। তবু তিনি নাইট উপাধি প্রত্যাখ্যান করেন, আর পোয়েট লরিয়েট (Poet Laureate, রাজকবি) হতেও রাজি হননি। ডিজনির কার্টুনের ছেলে মোগলি আর ভালুক বালু, দুজনেই এসেছে তাঁর The Jungle Book থেকে।

20শ শতকের শুরুতে সাম্রাজ্য ছিল আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বড়। কয়েক বছরের মধ্যেই তাকে মুখোমুখি হতে হবে তার কঠিনতম পরীক্ষার: একটি বিশ্বযুদ্ধ।

অধ্যায়ের সারসংক্ষেপ

1714 প্রথম জর্জরানি অ্যানের সবচেয়ে নিকট প্রোটেস্ট্যান্ট আত্মীয়, জার্মানি থেকে আসা
1721–42 ওয়ালপোলব্রিটেনের প্রথম প্রধানমন্ত্রী
1746 কালোডেনবনি প্রিন্স চার্লি দ্বিতীয় জর্জের সেনাবাহিনীর কাছে পরাজিত; এরপর হাইল্যান্ড ক্লিয়ারেন্স
এনলাইটেনমেন্টঅ্যাডাম স্মিথ (অর্থনীতি), হিউম (দর্শন), ওয়াট (বাষ্প)
শিল্প বিপ্লবব্রিটেনে প্রথম শিল্পায়ন; বেসেমার প্রক্রিয়া, খাল, আর্করাইটের কারখানা, শিশুশ্রম
1810 মাহোমেদলন্ডনে ব্রিটেনের প্রথম কারি হাউস খোলেন এবং শ্যাম্পুইং চালু করেন
1807 / 18331807: দাস ব্যবসা নিষিদ্ধ; 1833: ইমানসিপেশন অ্যাক্টে সাম্রাজ্যে দাসপ্রথার অবসান; কোয়েকাররা, উইলবারফোর্স
1776 / 1783উত্তর আমেরিকার 13টি উপনিবেশের স্বাধীনতা ঘোষণা / ব্রিটেনের স্বীকৃতি
1805 ট্রাফালগারনেলসন জেতেন ও নিহত হন; তাঁর কলাম ট্রাফালগার স্কোয়ারে, HMS Victory পোর্টসমাউথে
1815 ওয়াটারলু"আয়রন ডিউক" ওয়েলিংটন নেপোলিয়নকে হারান, পরে প্রধানমন্ত্রী হন
1801 ইউনিয়ন ফ্ল্যাগসেন্ট জর্জ + সেন্ট অ্যান্ড্রু + সেন্ট প্যাট্রিক; ওয়েলসের ড্রাগন নেই
1837–1901 ভিক্টোরিয়া18 বছরে রানি, প্রায় 64 বছর রাজত্ব; 40 কোটিরও বেশি মানুষের সাম্রাজ্য
1846 / 1847কর্ন ল বাতিল (মুক্ত বাণিজ্য) / নারী ও শিশুদের কাজ দিনে 10 ঘণ্টায় সীমিত
1851 গ্রেট এক্সিবিশনহাইড পার্কের ক্রিস্টাল প্যালেসে অনুষ্ঠিত
ব্রুনেলপোর্টসমাউথে জন্ম; গ্রেট ওয়েস্টার্ন রেলওয়ে (প্যাডিংটন স্টেশন); তাঁর অনেক সেতু আজও ব্যবহৃত হয়
1853–56 ক্রিমিয়ারাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ; গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত প্রথম যুদ্ধ; ভিক্টোরিয়া ক্রস; ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল
আইরিশ দুর্ভিক্ষ10 লাখ মৃত্যু ও 15 লাখের দেশত্যাগ; ফেনিয়ানরা চাইত স্বাধীনতা, পারনেল চাইতেন হোম রুল
1832 / 1867 সংস্কারপকেট ও রটেন বরো বিলুপ্ত; চার্টিস্টরা শ্রমিক শ্রেণির ভোটাধিকারের জন্য আন্দোলন করে
সাফ্রাজেটপ্যাংকহার্স্ট 1903 সালে WSPU গঠনে সাহায্য করেন; 1918 সালে 30-ঊর্ধ্ব নারীদের, 1928 সালে 21 বছরে ভোটাধিকার
1899–1902 বোয়ার যুদ্ধদক্ষিণ আফ্রিকায় ডাচ বসতি স্থাপনকারীদের বংশধরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ; 1907 সালে কিপলিংয়ের নোবেল পুরস্কার
এই অধ্যায়ে আপনার স্কোর
0 / 20

ফিরে যান: ইতিহাস