প্রায়ই পরীক্ষায় আসে
সংসদীয় গণতন্ত্র: ব্যালট বাক্স থেকে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা
ব্রিটেন চলে সংসদীয় গণতন্ত্র হিসেবে। পুরো দেশ কতগুলো এলাকায় ভাগ করা, যাদের বলে নির্বাচনী এলাকা (constituencies)। সাধারণ নির্বাচনে (General Election) প্রতিটি নির্বাচনী এলাকার মানুষ তাঁদের প্রতিনিধিত্বের জন্য একজন MP বেছে নেন, আর এই MP-রা মিলে গঠন করেন হাউস অব কমন্স।
প্রায় সব MP কোনো না কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য। যে দলের MP মোট সংখ্যার অর্ধেকের বেশি, সেই দল সরকার গঠন করে। কোনো দলের অর্ধেকের বেশি না থাকলে দুটি দল একমত হয়ে একসঙ্গে কোয়ালিশন (coalition) হিসেবে সরকার চালাতে পারে।
ব্যবস্থাটা চলে এভাবে: ভোটাররা MP নির্বাচন করেন, রাজা বা রানি কমন্সের সবচেয়ে বড় দলের নেতাকে প্রধানমন্ত্রী হতে আমন্ত্রণ জানান, আর তারপর প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভা নিয়োগ করেন। প্রধানমন্ত্রী দিয়েই শুরু করা যাক।
প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা
প্রধানমন্ত্রী (Prime Minister, সংক্ষেপে PM) ক্ষমতাসীন দলের নেতা। PM মন্ত্রিসভার সদস্যদের বেছে নেন এবং অনেক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে নিয়োগে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তাঁর।
PM থাকেন ও কাজ করেন 10 ডাউনিং স্ট্রিটে (10 Downing Street), মধ্য লন্ডনে পার্লামেন্ট ভবন থেকে অল্প হাঁটা পথে। লন্ডনের বাইরে PM-এর ব্যবহারের জন্য একটি গ্রামীণ বাড়িও আছে, যার নাম চেকার্স (Chequers)।
প্রধানমন্ত্রী সব সময় পরের নির্বাচন পর্যন্ত থাকেন না। ক্ষমতাসীন দলের MP-রা তাঁদের নেতাকে বদলানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, অথবা PM নিজেই সরে দাঁড়াতে পারেন। আর ক্ষমতাসীন দল সাধারণ নির্বাচনে হেরে গেলে PM সাধারণত পদত্যাগ করেন।
মন্ত্রিসভা: প্রায় 20 জন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী
PM সরকারি দপ্তর চালানোর জন্য মন্ত্রী হিসেবে প্রায় 20 জন জ্যেষ্ঠ MP বেছে নেন। তাঁদের মধ্যে আছেন:
- চ্যান্সেলর অব দি এক্সচেকার (Chancellor of the Exchequer), যিনি অর্থনীতির দায়িত্বে
- হোম সেক্রেটারি (Home Secretary, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী), যিনি অপরাধ, পুলিশ ও অভিবাসনের দায়িত্বে
- ফরেন সেক্রেটারি (Foreign Secretary, পররাষ্ট্রমন্ত্রী), যিনি অন্য দেশের সঙ্গে ব্রিটেনের সম্পর্ক দেখেন
- অন্যান্য মন্ত্রী, যাঁদের বলা হয় সেক্রেটারি অব স্টেট (Secretaries of State), যাঁরা শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও প্রতিরক্ষার মতো বিষয় দেখেন
মন্ত্রীদের এই দলকে বলে মন্ত্রিসভা (cabinet)। এটি সাধারণত প্রতি সপ্তাহে বৈঠক করে সরকারি নীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো নেয়, আর সংসদকে প্রায়ই সেসব সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা বা ভোট করতে হয়।
মন্ত্রিসভার মন্ত্রীদের নিচে প্রতিটি দপ্তরে আরও কনিষ্ঠ মন্ত্রী থাকেন, যাঁদের পদবি মিনিস্টার অব স্টেট (Ministers of State) বা পার্লামেন্টারি আন্ডার-সেক্রেটারি অব স্টেট (Parliamentary Under-Secretaries of State)। তাঁদের প্রত্যেকে দপ্তরের কাজের একটি অংশ দেখেন।
চ্যান্সেলরের অদ্ভুত পদবির উৎস মধ্যযুগের একটি রাজকীয় অর্থ দপ্তর। এর কর্মকর্তারা চেক নকশার কাপড়ে ঢাকা একটি টেবিলে হিসাব কষতেন আর কর আদায় করতেন, দাবার ঘুঁটির মতো করে তার ওপর গুটি সরাতেন, আর সেই কাপড় থেকেই এক্সচেকার নামটি এসেছে।
কুইজ
What is the name of the Prime Minister's country house outside London?
প্রশ্নটি বাংলায়
লন্ডনের বাইরে প্রধানমন্ত্রীর গ্রামীণ বাড়িটির নাম কী?উত্তর চেকার্স। বালমোরাল, স্যান্ড্রিংহ্যাম আর উইন্ডসর ক্যাসল সবই রাজপরিবারের বাসস্থান, প্রধানমন্ত্রীর নয়।
কুইজ
Which member of the cabinet is in charge of the economy?
প্রশ্নটি বাংলায়
মন্ত্রিসভার কোন সদস্য অর্থনীতির দায়িত্বে?অর্থনীতির দায়িত্বে চ্যান্সেলর অব দি এক্সচেকার। হোম সেক্রেটারি দেখেন অপরাধ, পুলিশ ও অভিবাসন, আর ফরেন সেক্রেটারি অন্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক। স্পিকার মন্ত্রিসভার সদস্যই নন: তিনি হাউস অব কমন্সের বিতর্ক পরিচালনা করেন।
কুইজ
Which cabinet minister is responsible for crime, policing and immigration?
প্রশ্নটি বাংলায়
মন্ত্রিসভার কোন মন্ত্রী অপরাধ, পুলিশ ও অভিবাসনের দায়িত্বে?A: ফরেন সেক্রেটারি
B: চ্যান্সেলর অব দি এক্সচেকার
C: প্রধানমন্ত্রী
D: হোম সেক্রেটারি
অপরাধ, পুলিশ ও অভিবাসনের দায়িত্বে হোম সেক্রেটারি। ফরেন সেক্রেটারি দেখেন অন্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক, আর চ্যান্সেলর অব দি এক্সচেকার দেখেন অর্থনীতি। প্রধানমন্ত্রী এই মন্ত্রীদের নিয়োগ দেন এবং পুরো সরকারের নেতৃত্ব দেন।
কুইজ
Is the statement below TRUE or FALSE? The cabinet usually meets once a month to make important decisions about government policy.
প্রশ্নটি বাংলায়
নিচের বক্তব্যটি সত্য (TRUE) না মিথ্যা (FALSE)? বক্তব্য: সরকারি নীতির গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে মন্ত্রিসভা সাধারণত মাসে একবার বৈঠক করে।মিথ্যা। মন্ত্রিসভা সাধারণত মাসে একবার নয়, প্রতি সপ্তাহে বৈঠক করে। এর অনেক সিদ্ধান্ত পরে সংসদে আলোচনা বা অনুমোদন করাতে হয়।