চতুর্দশ–পঞ্চদশ শতাব্দী
ইংরেজির প্রত্যাবর্তন: চসার ও ক্যাক্সটন
1066 সালের Norman Conquest (নর্মান বিজয়)-এর পর ইংল্যান্ডের অভিজাতরা ফরাসি বলতেন আর কৃষকেরা প্রাচীন ইংরেজি (Old English)। তিনশো বছর পরে পরিস্থিতি উল্টে গিয়েছিল। 1400 সালের মধ্যে ইংল্যান্ডের সরকারি কাগজপত্র লেখা হতো ইংরেজিতে, আর রাজদরবার ও পার্লামেন্ট তখন ফরাসির বদলে ইংরেজিকেই বেছে নিত।
এই পালাবদল কেন? একটি বড় কারণ শতবর্ষের যুদ্ধ। এক শতাব্দীরও বেশি সময় ফ্রান্সের সঙ্গে লড়াইয়ের পর ফরাসি ধীরে ধীরে হয়ে ওঠে "শত্রুর ভাষা", আর ইংল্যান্ডের অভিজাতরা নিজেদের ক্রমশ ফরাসি নয়, ইংরেজ বলেই ভাবতে শুরু করেন।
সে সময়ের সবচেয়ে বিখ্যাত লেখক ছিলেন জেফ্রি চসার (Geoffrey Chaucer)। তিনি ইংরেজিতে একটি কবিতা-সংকলন লেখেন, যার নাম The Canterbury Tales (দ্য ক্যান্টারবেরি টেলস)। তাতে একদল তীর্থযাত্রী (ধর্মীয় যাত্রায় বের হওয়া মানুষ) একসঙ্গে ক্যান্টারবেরি যাচ্ছে, আর পথের সময় কাটাতে তারা পালা করে গল্প বলে।
লেখালেখি চসারের মূল পেশা ছিল না। তিনি ছিলেন রাজার নির্মাণকাজের দায়িত্বে থাকা এক রাজকর্মচারী, আর 1400 সালে তাঁর মৃত্যুর পর এই চাকরির সুবাদেই ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবিতে (Westminster Abbey) তাঁর কবর হয়। পরে আরও বহু কবিকে তাঁর কাছাকাছি সমাহিত করা হয়, আর অ্যাবির ওই অংশটি বিখ্যাত পোয়েটস কর্নার (Poets' Corner) হয়ে ওঠে।
পরে উইলিয়াম ক্যাক্সটন (William Caxton) হন ইংল্যান্ডে প্রথম ব্যক্তি যিনি ছাপাখানায় বই ছাপেন, আর তাঁর ছাপা একেবারে প্রথম দিকের বইগুলোর একটি ছিল The Canterbury Tales। এর আগে প্রতিটি বই শব্দের পর শব্দ হাতে নকল করতে হতো। ছাপাখানার ফলে অবশেষে ইংরেজি বই বিপুল সংখ্যায় তৈরি করা সম্ভব হলো।
স্কটল্যান্ডে তখনো অনেকে গেলিক (Gaelic) বলত, আর একই সঙ্গে স্কটস (Scots) ভাষাও বিকশিত হচ্ছিল। কবি জন বারবার (John Barbour) স্কটস ভাষায় The Bruce নামে একটি দীর্ঘ কবিতা লেখেন, যাতে ব্যানকবার্নের যুদ্ধের কাহিনি বলা হয়েছে।
দুর্গ, ক্যাথিড্রাল আর বিদেশি দক্ষ কারিগর
মধ্যযুগে প্রচুর দুর্গ তৈরি হয়েছিল, আর তার কয়েকটি আজও ব্যবহৃত হয়, যেমন উইন্ডসর (Windsor) ও এডিনবরা (Edinburgh)। বিশাল সব ক্যাথিড্রালও গড়ে ওঠে, যেমন লিংকন (Lincoln)। এগুলোর জানালা প্রায়ই রঙিন কাচের (stained glass) তৈরি হতো, যাতে বাইবেল ও সন্তদের কাহিনি ফুটিয়ে তোলা হতো। ইয়র্ক মিনস্টার (York Minster) এর একটি সুপরিচিত উদাহরণ।
ইংল্যান্ড বিদেশে উল (wool) বিক্রি করে প্রচুর অর্থ আয় করত। অন্য দেশ থেকে দক্ষ কারিগরেরাও আসত: ফ্রান্স থেকে তাঁতি, জার্মানি থেকে প্রকৌশলী, ইতালি থেকে কাচ নির্মাতা, আর হল্যান্ড থেকে খাল তৈরিতে দক্ষ মানুষ।
কুইজ
Who wrote The Canterbury Tales, a collection of poems about pilgrims travelling to Canterbury?
প্রশ্নটি বাংলায়
ক্যান্টারবেরিগামী তীর্থযাত্রীদের নিয়ে লেখা কবিতা-সংকলন The Canterbury Tales কে লিখেছিলেন?চসার লিখেছেন; ক্যাক্সটন ছেপেছেন। দুটি নামই C দিয়ে শুরু, তাই গুলিয়ে ফেলা সহজ। আলাদা রাখার একটি কৌশল: "Chaucer" শুনতে খানিকটা "author" (লেখক)-এর মতো, আর তিনিই ছিলেন লেখক।
কুইজ
Is the statement below TRUE or FALSE? In England, the first person to produce books on a printing press was William Caxton.
প্রশ্নটি বাংলায়
নিচের বক্তব্যটি সত্য (TRUE) নাকি মিথ্যা (FALSE)? বক্তব্য: ইংল্যান্ডে ছাপাখানায় প্রথম বই তৈরি করেছিলেন উইলিয়াম ক্যাক্সটন।সত্য (TRUE)। ক্যাক্সটন ইংল্যান্ডে মুদ্রণ নিয়ে আসেন এবং লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টারে তাঁর ছাপাখানা স্থাপন করেন।