সূচিকর্মের ধাঁচে আঁকা ছবি: একটি দাঁড়িপাল্লা, মোমের সিলমোহর লাগানো অধিকারের একটি গোটানো দলিল, জলপাইয়ের ডাল মুখে শান্তির কবুতর, আর হাত ধরাধরি করে দাঁড়ানো একসারি মানুষ
হ্যান্ডবুক
অধ্যায় 5: ব্রিটিশ সরকার, আইন ও আপনার ভূমিকা
বিষয়বস্তু
মৌলিক অধিকার ও সমতা
পড়ার সময়
প্রায় 12 মিনিট
কুইজ
9 প্রশ্ন

মৌলিক অধিকার: যুক্তরাজ্য কী কী রক্ষা করে

1946 সালে, জার্মানির নুরেমবার্গ (Nuremberg) শহরের এক আদালতকক্ষে একজন ব্রিটিশ সরকারি কৌঁসুলি উঠে দাঁড়ালেন এবং বিচারের মুখোমুখি নাৎসি নেতাদের অপরাধগুলো একে একে তুলে ধরলেন। চার বছর পর, যে আন্তর্জাতিক চুক্তির খসড়া তৈরিতে তিনি সাহায্য করেছিলেন, রোমে সেটিতে স্বাক্ষর হলো। এর উদ্দেশ্য ছিল এমন বিভীষিকা যেন আর কখনো না ঘটে।

তাঁর নাম ডেভিড ম্যাক্সওয়েল ফাইফ (David Maxwell Fyfe)। এডিনবরায় (Edinburgh) জন্ম নেওয়া এই মানুষটি নুরেমবার্গ বিচারে যুক্তরাজ্যের উপপ্রধান কৌঁসুলি ছিলেন, আর পরে কাউন্সিল অব ইউরোপের (Council of Europe) যে আইনি কমিটি চুক্তিটির খসড়া করে, তিনি ছিলেন তার সভাপতি। সেই চুক্তিই হলো মানবাধিকার বিষয়ক ইউরোপীয় কনভেনশন (European Convention on Human Rights), যা আজ যুক্তরাজ্যের প্রত্যেক মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষা করে। এই অধ্যায় শুরু হচ্ছে কনভেনশন দিয়ে, তারপর দেখব যুক্তরাজ্যের আইন কীভাবে সমতা রক্ষা করে। শেষে আছে এমন কিছু কাজের কথা, যেগুলোকে অন্য কোথাও মানুষ হয়তো "পরিবারের নিজস্ব ব্যাপার" বলবে, কিন্তু যুক্তরাজ্যে সেগুলো অপরাধ।

পুরোনো শিকড়: ম্যাগনা কার্টা থেকে বিল অব রাইটস

ব্রিটেনে ব্যক্তির অধিকার আর মৌলিক স্বাধীনতাকে সম্মান করার ইতিহাস অনেক লম্বা, কয়েকশো বছরের পুরোনো। তিনটি পুরোনো দলিল বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, আর ইতিহাসের অধ্যায়গুলোতে তিনটির সঙ্গেই আপনার পরিচয় হয়েছে:

  1. 1215ম্যাগনা কার্টা (Magna Carta): রাজাকেও আইন মানতে হবে
  2. 1679হেবিয়াস কর্পাস আইন (Habeas Corpus Act): কাউকে বেআইনিভাবে বন্দি রাখা যাবে না
  3. 1689বিল অব রাইটস (Bill of Rights): সংসদের অধিকার কোথায় শেষ আর রাজা বা রানির ক্ষমতা কোথায় শুরু
  4. 1950যুক্তরাজ্য মানবাধিকার বিষয়ক ইউরোপীয় কনভেনশনে স্বাক্ষর করে
  5. 1998মানবাধিকার আইন (Human Rights Act) কনভেনশনকে যুক্তরাজ্যের আইনের অংশ করে (কার্যকর 2000 থেকে)

এই অধিকারগুলো রাতারাতি আসেনি। কয়েক শতাব্দী ধরে ধাপে ধাপে এগুলো গড়ে উঠেছে।

1689 সালের বিল অব রাইটসের হাতে লেখা মূল কপি, চামড়ার কাগজে (পার্চমেন্ট) ঘন করে লেখা
1689 সালের বিল অব রাইটসের মূল কপি, যা সংসদের মহাফেজখানায় (Parliamentary Archives) রাখা আছে। UK Parliament, পাবলিক ডোমেইন, The National Archives ও Wikimedia Commons-এর মাধ্যমে

কুইজ

Which of the following statements is correct?

প্রশ্নটি বাংলায়নিচের কোন বক্তব্যটি সঠিক?
A: যুক্তরাজ্যে অধিকারগুলো পুরোনো দলিল থেকে গড়ে উঠেছে, যার মধ্যে আছে ম্যাগনা কার্টা আর 1689 সালের বিল অব রাইটস।
B: 1998 সালে মানবাধিকার আইন পাস হওয়ার আগে যুক্তরাজ্যে কোনো অধিকারই ছিল না।

মানবাধিকার বিষয়ক ইউরোপীয় কনভেনশন: ব্রিটিশদের সাহায্যে লেখা

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের দেশগুলো নিশ্চিত করতে চেয়েছিল যে এমন নিষ্ঠুরতা যেন আর কখনো না ঘটে। 1949 সালে পশ্চিম ইউরোপের দশটি দেশ লন্ডনে একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করে, যার মাধ্যমে Council of Europe (কাউন্সিল অব ইউরোপ) গঠিত হয়। এর প্রথম বড় কাজগুলোর একটি ছিল মানবাধিকার রক্ষার জন্য একটি কনভেনশন লেখা।

এর পুরো নাম মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতা রক্ষার কনভেনশন (Convention for the Protection of Human Rights and Fundamental Freedoms), তবে সাধারণত একে বলা হয় মানবাধিকার বিষয়ক ইউরোপীয় কনভেনশন (European Convention on Human Rights)। এর খসড়া তৈরিতে ব্রিটিশ কূটনীতিক ও আইনজীবীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন, আর ম্যাক্সওয়েল ফাইফ ছিলেন তাঁদের একজন। 1950 সালে যুক্তরাজ্য ছিল এতে স্বাক্ষরকারী প্রথম দিকের দেশগুলোর একটি।

স্বাক্ষর হয়েছিল 1950 সালের 4 নভেম্বর রোমে, কিন্তু স্বাক্ষর কেবল প্রথম ধাপ: এরপর প্রতিটি দেশকে নিজস্ব প্রক্রিয়ায় চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন (ratify) করতে হয়। যুক্তরাজ্য তা দ্রুতই করে, 1951 সালের 8 মার্চ, ক্লেমেন্ট অ্যাটলির (Clement Attlee) লেবার সরকারের আমলে। যথেষ্ট সংখ্যক দেশ অনুমোদন দেওয়ার পর 1953 সালের সেপ্টেম্বরে কনভেনশনটি কার্যকর হয়।

পেনসিল স্কেচ: ডেভিড ম্যাক্সওয়েল ফাইফের মাথা ও কাঁধ, মাথাটি সামান্য বাঁ দিকে ফেরানো
1946 সালে নুরেমবার্গ বিচার চলার সময় ব্রিটিশ যুদ্ধচিত্রশিল্পী লরা নাইটের (Laura Knight) আঁকা ম্যাক্সওয়েল ফাইফ। অঙ্কন: Laura Knight, Imperial War Museums (IWM ART LD 5863), পাবলিক ডোমেইন, Wikimedia Commons-এর মাধ্যমে

কনভেনশনটি অনেক অধিকার রক্ষা করে। তার মধ্যে সাতটি এখানে দেওয়া হলো:

জীবনের অধিকার
নির্যাতন নিষিদ্ধ
দাসত্ব বা জোরপূর্বক শ্রম নিষিদ্ধ
স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা
ন্যায্য বিচার
চিন্তা, বিবেক ও ধর্মের স্বাধীনতা
মত প্রকাশের (বাক্‌) স্বাধীনতা

কুইজ

In which year did the UK sign the European Convention on Human Rights?

প্রশ্নটি বাংলায়যুক্তরাজ্য কোন সালে মানবাধিকার বিষয়ক ইউরোপীয় কনভেনশনে স্বাক্ষর করে?

কুইজ

Which TWO rights are protected by the European Convention on Human Rights?

প্রশ্নটি বাংলায়মানবাধিকার বিষয়ক ইউরোপীয় কনভেনশন কোন দুটি অধিকার রক্ষা করে?
A: বিনা মূল্যে একটি বাড়ি পাওয়ার অধিকার
B: ন্যায্য বিচারের অধিকার
C: আজীবন চাকরির অধিকার
D: চিন্তা, বিবেক ও ধর্মের স্বাধীনতা

মানবাধিকার আইন 1998: কনভেনশনকে দেশের আইনে আনা

যুক্তরাজ্য শুরুতেই কনভেনশনে স্বাক্ষর করলেও অনেক দিন পর্যন্ত এটি যুক্তরাজ্যের নিজস্ব আইনের অংশ ছিল না। কেউ যদি মনে করতেন তাঁর অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে, তাঁকে প্রায়ই মামলাটি নিয়ে যেতে হতো ফ্রান্সের স্ট্রাসবুর্গে, ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালত (European Court of Human Rights) পর্যন্ত। তাতে প্রচুর টাকা আর সময় লাগত।

মানবাধিকার আইন 1998 (Human Rights Act 1998) কনভেনশনকে যুক্তরাজ্যের আইনের অংশ করে এই অবস্থা বদলে দেয়। তখন থেকে সরকার, সরকারি সংস্থা ও আদালত, সবাইকে কনভেনশনের নীতি মেনে চলতে হয়, আর মানুষ যুক্তরাজ্যের আদালতেই সরাসরি এই অধিকারগুলোর ওপর নির্ভর করতে পারেন।

1997 সালে সরকার যখন আইনটির প্রস্তাব দেয়, তখন তা ব্যাখ্যা করা দলিলটির নাম ছিল Rights Brought Home (অর্থাৎ "অধিকার ফিরল ঘরে"): মানুষকে আর স্ট্রাসবুর্গ পর্যন্ত লম্বা পথ পাড়ি দিতে হবে না। আইনটি 1998 সালে পাস হলেও কার্যকর হয় 2000 সালের অক্টোবরে; মাঝের সময়টা বিচারক ও সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণে কাজে লাগানো হয়।

রেখাচিত্র: ম্যাগনা কার্টা, হেবিয়াস কর্পাস আইন আর বিল অব রাইটস হলো অধিকারের শিকড়; সেগুলো থেকে আসে 1950 সালের মানবাধিকার বিষয়ক ইউরোপীয় কনভেনশন, তারপর 1998 সালের মানবাধিকার আইন, যা কনভেনশনকে যুক্তরাজ্যের আইনের অংশ করে। সরকার, সরকারি সংস্থা ও আদালত, সবাইকে এটি মেনে চলতে হয়
পুরোনো দলিল থেকে আন্তর্জাতিক কনভেনশন, আর সেখান থেকে যুক্তরাজ্যের নিজস্ব আইন।
ফ্রান্সের স্ট্রাসবুর্গে ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালত: কাচ ও ধাতুর তৈরি দুটি গোল টাওয়ার
স্ট্রাসবুর্গের ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালত, যা চালু হয় 1995 সালে। এর নকশা করেছিলেন ব্রিটিশ স্থপতি রিচার্ড রজার্স (Richard Rogers), যিনি পরে কার্ডিফে ওয়েলশ অ্যাসেম্বলির সেনেড (Senedd) ভবনেরও নকশা করেন। ছবি: Gzen92, CC BY-SA 4.0, Wikimedia Commons-এর মাধ্যমে

অনেকে ভুল করে ভাবেন, ব্রেক্সিটের (Brexit) পর কনভেনশন আর প্রযোজ্য নয়। কথাটা ঠিক নয়। কনভেনশনটি কাউন্সিল অব ইউরোপের, যা ইউরোপীয় ইউনিয়ন (European Union) থেকে আলাদা একটি সংস্থা। যুক্তরাজ্য 2020 সালে ইইউ ছেড়েছে, কিন্তু এখনো কাউন্সিল অব ইউরোপের সদস্য, তাই কনভেনশন আর মানবাধিকার আইন এখনো প্রযোজ্য। আগের অধ্যায়ে আন্তর্জাতিক সংস্থা নিয়ে অংশে এই দুটি সংস্থার তুলনা আছে।

কুইজ

Is the statement below TRUE or FALSE? The Human Rights Act 1998 made the European Convention on Human Rights part of UK law.

প্রশ্নটি বাংলায়নিচের বক্তব্যটি সত্য (TRUE) না মিথ্যা (FALSE)? বক্তব্য: মানবাধিকার আইন 1998 মানবাধিকার বিষয়ক ইউরোপীয় কনভেনশনকে যুক্তরাজ্যের আইনের অংশ করেছে।

সমান সুযোগ: আপনি কে, সেই কারণে আপনার সঙ্গে অন্যায় করা যাবে না

চাকরির ইন্টারভিউতে একজন নারীকে জিজ্ঞেস করা হলো, "সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা কবে?" ফোনে কারও উচ্চারণ শুনে বাড়িওয়ালা বললেন, ঘরটা আগেই ভাড়া হয়ে গেছে। যুক্তরাজ্যে এই দুটোই বেআইনি বৈষম্য হতে পারে।

যুক্তরাজ্যের আইন নিশ্চিত করে যে জীবন ও কাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে নিচের কোনো কারণে কারও সঙ্গে অন্যায় আচরণ করা যাবে না:

বয়স
প্রতিবন্ধিতা
লিঙ্গ
গর্ভাবস্থা ও মাতৃত্ব
জাতিগত পরিচয়
ধর্ম বা বিশ্বাস
যৌন অভিমুখিতা
বৈবাহিক অবস্থা

বৈষম্যের শিকার হলে আপনি সিটিজেনস অ্যাডভাইস (Citizens Advice) থেকে পরামর্শ নিতে পারেন, কিংবা এই সংস্থাগুলো থেকে:

ইংল্যান্ড ও ওয়েলসসমতা ও মানবাধিকার কমিশন (Equality and Human Rights Commission)
স্কটল্যান্ডস্কটল্যান্ডে সমতা ও মানবাধিকার কমিশন, এবং স্কটিশ মানবাধিকার কমিশন (Scottish Human Rights Commission)
উত্তর আয়ারল্যান্ডউত্তর আয়ারল্যান্ডের সমতা কমিশন (Equality Commission for Northern Ireland), এবং উত্তর আয়ারল্যান্ড মানবাধিকার কমিশন (Northern Ireland Human Rights Commission)

কুইজ

Which TWO of the following are reasons for which UK law says you must not be treated unfairly at work?

প্রশ্নটি বাংলায়যুক্তরাজ্যের আইন অনুযায়ী, নিচের কোন দুটি কারণে কর্মক্ষেত্রে আপনার সঙ্গে অন্যায় আচরণ করা যাবে না?
A: আপনার বয়স
B: স্কুলের পরীক্ষায় আপনার ফলাফল
C: গর্ভাবস্থা ও মাতৃত্ব
D: আপনার গাড়ি চালানোর রেকর্ড

পারিবারিক সহিংসতা: চার দেয়ালের ভেতরেও অপরাধ

যুক্তরাজ্যে ঘরের ভেতরের সহিংসতা "পরিবারের নিজস্ব ব্যাপার" নয়। ঘরে সহিংসতা একটি গুরুতর অপরাধ।

আপনি যদি পারিবারিক সহিংসতার শিকার হন, যত তাড়াতাড়ি সাহায্য নেবেন, ততই ভালো। একজন সলিসিটর (solicitor, এক ধরনের আইনজীবী) বা Citizens Advice আপনার সামনে কী কী পথ খোলা আছে তা বুঝিয়ে বলতে পারে। কিছু এলাকায় নিরাপদে থাকার জায়গা আছে, যেগুলোকে বলা হয় রিফিউজ (refuges) বা শেল্টার (shelters)।

একটি বিনা মূল্যের ফোন নম্বরও আছে: ন্যাশনাল ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স ফ্রিফোন হেল্পলাইন (National Domestic Violence Freephone Helpline), নম্বর 0808 2000 247। এটি দিনরাত খোলা থাকে, আর লাইন না পেলে ভয়েসমেইলে বার্তা রেখে যেতে পারেন; হেল্পলাইনটির একটি ওয়েবসাইটও আছে। আরেকটি জায়গা হলো দাতব্য সংস্থা উইমেন্স এইডের (Women's Aid) ওয়েবসাইট। আর জরুরি অবস্থায় সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে ফোন করুন। নিরাপদে থাকার জায়গা খুঁজে পেতেও তারা সাহায্য করতে পারে।

কুইজ

Is the statement below TRUE or FALSE? In the UK, a married man who forces his wife to have sex can be charged with rape.

প্রশ্নটি বাংলায়নিচের বক্তব্যটি সত্য (TRUE) না মিথ্যা (FALSE)? বক্তব্য: যুক্তরাজ্যে কোনো বিবাহিত পুরুষ তাঁর স্ত্রীকে জোর করে যৌন সম্পর্কে বাধ্য করলে তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনা যায়।

কুইজ

Is the statement below TRUE or FALSE? In the UK, violence towards a partner is only a crime if the couple are married.

প্রশ্নটি বাংলায়নিচের বক্তব্যটি সত্য (TRUE) না মিথ্যা (FALSE)? বক্তব্য: যুক্তরাজ্যে সঙ্গীর প্রতি সহিংসতা কেবল তখনই অপরাধ, যখন দুজন বিবাহিত।

নারীর যৌনাঙ্গচ্ছেদ (FGM): যুক্তরাজ্যে অপরাধ

নারীর যৌনাঙ্গচ্ছেদ (Female genital mutilation, FGM) "কাটিং" (cutting) বা "নারীর খতনা" (female circumcision) নামেও পরিচিত। পৃথিবীর কিছু অঞ্চলে এটি বহু পুরোনো প্রথা, কিন্তু এতে মেয়ে ও নারীদের শরীর ও মনের গুরুতর ক্ষতি হয়, যা সারা জীবন থেকে যেতে পারে।

যুক্তরাজ্যে FGM আইনবিরুদ্ধ। FGM করা একটি ফৌজদারি অপরাধ, আর FGM করানোর জন্য কোনো মেয়ে বা নারীকে বিদেশে নিয়ে যাওয়াও অপরাধ।

কুইজ

Which of the following statements is correct?

প্রশ্নটি বাংলায়নিচের কোন বক্তব্যটি সঠিক?
A: মেয়েটির পরিবার রাজি থাকলে যুক্তরাজ্যে নারীর যৌনাঙ্গচ্ছেদ অনুমোদিত।
B: নারীর যৌনাঙ্গচ্ছেদ করানোর জন্য কোনো মেয়েকে যুক্তরাজ্যের বাইরে নিয়ে যাওয়া একটি ফৌজদারি অপরাধ।

জোরপূর্বক বিয়ে: দুজনকেই রাজি হতে হবে

বিয়ের ব্যাপারে যুক্তরাজ্যের মূল নিয়মটি সহজ: দুজনকেই সম্পূর্ণ ও স্বাধীনভাবে রাজি হতে হবে।

যাঁদের জোর করে বিয়ে দেওয়ার ঝুঁকি আছে, বা যাঁরা ইতিমধ্যে জোরপূর্বক বিয়ের মধ্যে আছেন, তাঁদের সুরক্ষায় আদালত ফোর্সড ম্যারেজ প্রোটেকশন অর্ডার (Forced Marriage Protection Orders) জারি করতে পারে। ব্যক্তি নিজে, অথবা তাঁর পক্ষে অন্য কেউ, এর জন্য আবেদন করতে পারেন।

কুইজ

Who can apply to a court for a Forced Marriage Protection Order?

প্রশ্নটি বাংলায়Forced Marriage Protection Order-এর জন্য আদালতে কে আবেদন করতে পারেন?
A: শুধু পুলিশ
B: শুধু ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তির মা-বাবা
C: শুধু একজন ধর্মীয় নেতা
D: ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তি নিজে, অথবা তাঁর পক্ষে অন্য কেউ

অধ্যায়ের সারসংক্ষেপ

অধিকারের শিকড়ম্যাগনা কার্টা, হেবিয়াস কর্পাস আইন আর 1689 সালের বিল অব রাইটস; অধিকার ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছে
1950 ECHRমানবাধিকার বিষয়ক ইউরোপীয় কনভেনশন: ব্রিটিশ কূটনীতিক ও আইনজীবীরা খসড়া তৈরিতে সাহায্য করেন; যুক্তরাজ্য প্রথম দিকের স্বাক্ষরকারীদের একটি
ECHR-এর নীতিজীবন; নির্যাতন নিষিদ্ধ; দাসত্ব বা জোরপূর্বক শ্রম নিষিদ্ধ; স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা; ন্যায্য বিচার; চিন্তা, বিবেক ও ধর্ম; মত প্রকাশের স্বাধীনতা
মানবাধিকার আইন 1998কনভেনশনকে যুক্তরাজ্যের আইনের অংশ করেছে; সরকার, সরকারি সংস্থা ও আদালতকে এটি মানতে হয়
সমান সুযোগজাতিগত পরিচয়, লিঙ্গ, বয়স, প্রতিবন্ধিতা, ধর্ম বা বিশ্বাস, যৌন অভিমুখিতা, বৈবাহিক অবস্থা, কিংবা গর্ভাবস্থা ও মাতৃত্বের কারণে কোনো অন্যায় আচরণ নয়
কোথায় সাহায্য পাবেনCitizens Advice; ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে সমতা ও মানবাধিকার কমিশন; স্কটল্যান্ডে এ ছাড়াও আছে স্কটিশ মানবাধিকার কমিশন; উত্তর আয়ারল্যান্ডে আছে একটি সমতা কমিশন ও একটি মানবাধিকার কমিশন
পারিবারিক সহিংসতাগুরুতর অপরাধ; বিবাহিত হোক বা না হোক, পুরুষ হোক বা নারী, নির্যাতনকারীর বিরুদ্ধে মামলা হতে পারে; স্বামীর বিরুদ্ধেও ধর্ষণের অভিযোগ আনা যায়; রিফিউজ; 24 ঘণ্টার হেল্পলাইন 0808 2000 247 (ভয়েসমেইলসহ); Women's Aid-এর ওয়েবসাইট; জরুরি অবস্থায় পুলিশ
FGMবেআইনি; এটি করা, বা এর জন্য কাউকে বিদেশে নিয়ে যাওয়া, ফৌজদারি অপরাধ
জোরপূর্বক বিয়েদুজনের সম্মতিতে পারিবারিকভাবে ঠিক করা বিয়ে ঠিক আছে; কাউকে জোর করে বিয়ে দেওয়া অপরাধ; সুরক্ষা অর্ডার 2008 থেকে (ইংল্যান্ড, ওয়েলস, উত্তর আয়ারল্যান্ড) এবং 2011 সালের নভেম্বর থেকে (স্কটল্যান্ড); অর্ডার ভাঙলে: সর্বোচ্চ 2 বছর
এই অধ্যায়ে আপনার স্কোর
0 / 9

ফিরে যান: ব্রিটিশ সরকার, আইন ও আপনার ভূমিকা