পুলিশ: সবাইকে রক্ষা করে, নিজেরাও আইন মেনে চলে

গল্প 7টির মধ্যে 2

যুক্তরাজ্যে পুলিশের কাজ মূলত তিনটি:

জীবন ও সম্পত্তি রক্ষা
বিশৃঙ্খলা ঠেকানো (শান্তি বজায় রাখা)
অপরাধ প্রতিরোধ ও উদ্ঘাটন

যুক্তরাজ্যের পুলিশ অনেকগুলো আলাদা বাহিনীতে (force) কাজ করে, আর প্রতিটির নেতৃত্বে থাকেন একজন চিফ কনস্টেবল (Chief Constable)। পুলিশ সরকার থেকে স্বাধীন।

2012 সালের নভেম্বরে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের মানুষ প্রথমবারের মতো ভোট দিয়ে পুলিশ অ্যান্ড ক্রাইম কমিশনার (Police and Crime Commissioners, PCC) নির্বাচন করে। সরাসরি নির্বাচিত এই কমিশনারদের কাজ হলো নিশ্চিত করা যে স্থানীয় পুলিশ ভালোভাবে কাজ করছে আর এলাকার মানুষের চাহিদা মেটাচ্ছে। তাঁরা স্থানীয় পুলিশিংয়ের অগ্রাধিকার ও স্থানীয় পুলিশিং বাজেট ঠিক করেন, এবং চিফ কনস্টেবল নিয়োগ করেন।

পুলিশ সবার জন্য একটি সরকারি সেবা, তাঁদের পটভূমি যা-ই হোক আর তাঁরা যেখানেই থাকুন। পুলিশকেও আইন মানতে হয়। তারা ক্ষমতার অপব্যবহার করতে পারে না, মিথ্যা বিবৃতি দিতে পারে না, অভদ্র বা অপমানজনক আচরণ করতে পারে না, কিংবা বর্ণবৈষম্য করতে পারে না। দুর্নীতিগ্রস্ত বা ক্ষমতার অপব্যবহারকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের কঠোর শাস্তি হয়।

পুলিশের পাশাপাশি কাজ করেন পুলিশ কমিউনিটি সাপোর্ট অফিসাররা (police community support officers, PCSO)। এলাকাভেদে তাঁদের ভূমিকা আলাদা, তবে সাধারণত তাঁরা রাস্তায় টহল দেন, জনগণের সঙ্গে কাজ করেন, আর অপরাধের ঘটনাস্থলে ও বড় অনুষ্ঠানে পুলিশকে সহায়তা করেন।

অপরাধ প্রতিরোধ ও উদ্ঘাটনে পুলিশকে সাহায্য করার জন্য প্রত্যেকেরই যথাসাধ্য চেষ্টা করা উচিত। পুলিশ যদি আপনাকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়, তারা কারণটা জানাবে, আর আপনি আইনি পরামর্শ চাইতে পারেন।

ইংল্যান্ড, ওয়েলস ও স্কটল্যান্ডের বেশির ভাগ পুলিশ বন্দুক বহন করে না; উত্তর আয়ারল্যান্ড এর ব্যতিক্রম। জরুরি অবস্থায় আপনি 999-এ ফোন করেন, যা 1937 সালে লন্ডনে বিশ্বের প্রথম জরুরি ফোন নম্বর হিসেবে চালু হয়েছিল। জরুরি নয় এমন বিষয়ের জন্য 101-এ ফোন করুন।

লন্ডন পুলিশের ঐতিহ্যবাহী লম্বা গাঢ় নীল হেলমেট, সামনে রুপালি তারার আকারের একটি ব্যাজ
লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশের ঐতিহ্যবাহী হেলমেট, ব্রিটিশ পুলিশ কর্মকর্তার সবচেয়ে পরিচিত চেহারা। রবার্ট পিলের (Robert Peel) নামে ব্রিটিশ পুলিশ কর্মকর্তাদের ডাকনাম "ববি" (bobbies); তিনি ছিলেন সেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (Home Secretary), যিনি 1829 সালে লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ গড়ে তোলেন। শুরুর দিকে তাদের "পিলার" (peelers) নামেও ডাকা হতো। ছবি: Canley, CC BY-SA 3.0, Wikimedia Commons-এর মাধ্যমে

পুলিশের ওপর অসন্তুষ্ট? অভিযোগ করতে পারেন

পুলিশ ভুল করলে তা মেটানোর জন্য একটি অভিযোগ ব্যবস্থা আছে। যে কোনো সাধারণ নাগরিক অভিযোগ করতে পারেন, হয় থানায় গিয়ে, নয়তো সংশ্লিষ্ট বাহিনীর চিফ কনস্টেবলের কাছে চিঠি পাঠিয়ে। যুক্তরাজ্যের প্রতিটি অংশে একটি স্বাধীন জায়গাও আছে যার কাছে যাওয়া যায়:

কুইজ

Which TWO of the following are duties of the police in the UK?

প্রশ্নটি বাংলায়নিচের কোন দুটি যুক্তরাজ্যে পুলিশের দায়িত্ব?
A: স্থানীয় পুলিশিং বাজেট ঠিক করা
B: জীবন ও সম্পত্তি রক্ষা করা
C: অপরাধ প্রতিরোধ ও উদ্ঘাটন করা
D: কেউ দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর সাজা ঠিক করা

কুইজ

Since November 2012, voters in England and Wales have elected officials who decide local policing priorities and appoint the Chief Constable. What are these officials called?

প্রশ্নটি বাংলায়2012 সালের নভেম্বর থেকে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের ভোটাররা এমন কর্মকর্তা নির্বাচন করেন, যাঁরা স্থানীয় পুলিশিংয়ের অগ্রাধিকার ঠিক করেন এবং চিফ কনস্টেবল নিয়োগ করেন। এই কর্মকর্তাদের কী বলা হয়?

কুইজ

In Northern Ireland, which independent body can people go to with a complaint about the police?

প্রশ্নটি বাংলায়উত্তর আয়ারল্যান্ডে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে মানুষ কোন স্বাধীন সংস্থার কাছে যেতে পারেন?
A: পুলিশ ইনভেস্টিগেশনস অ্যান্ড রিভিউ কমিশনার
B: উত্তর আয়ারল্যান্ডের পুলিশ ন্যায়পাল (Police Ombudsman)
C: উত্তর আয়ারল্যান্ডের সমতা কমিশন
D: ক্রাউন কোর্ট

অধ্যায়ের সূচি: আইনের প্রতি শ্রদ্ধা